ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

সুখ ও শান্তিতে ভরে উঠুক সবার জীবন

সুখ ও শান্তিতে ভরে  উঠুক সবার জীবন
×

রফিকুন নবী

রফিকুন নবী

প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২০২৬ | ০৮:০৭ | আপডেট: ১৪ এপ্রিল ২০২৬ | ১৫:০৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

বৈশাখের প্রথম দিন বাংলা নববর্ষ উদযাপন দিবস। এটাকে ঐতিহ্যিক হিসেবে গণ্য করা হয়। এই ঐতিহ্যের কথা সারাবছর আড়ালে থাকে, কারও তেমন মনে পড়ে না। নতুন বছরটি শুরু হওয়ার কয়েকদিন আগে এর বিষয়-আশয় নিয়ে ভাবনা শুরু হয়। কীভাবে দিনটি উদযাপনের আড়ম্বর দিয়ে পালন করা হবে, তা নিয়ে সাজসাজ ভাবের উদ্রেক হতে থাকে। এসব ঘটনা শহরকেন্দ্রিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঢাকাসহ সবকটি বড় শহরে দিনটিতে বর্ণাঢ্য সব আয়োজন দিয়ে পালন করা হয়।

অবস্থাপন্ন পরিবারগুলোতেও বিশেষ খাবারের চল হয়েছে। কেউ কেউ শখ করে পান্তা-ইলিশ খেয়ে দিনটিকে স্মৃতিময় করে রাখার চেষ্টা করেন। ঢাকার কেউ রমনায় সকালে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান দেখতে যায়। সেটা সেরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ আয়োজিত শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ শেষে ফুটপাতে পান্তা খেতে বসেন। এই পর্বটি, আমার যতদূর মনে পড়ে, আশির দশকের কোনো এক পর্যায়ে শুরু হয়েছিল।

সুদূর অতীতে, অর্থাৎ আমার বাল্যকালে, পহেলা বৈশাখ উদযাপনে এত বর্ণাঢ্য ছিল বলে মনে পড়ে না। গ্রামেগঞ্জে কোথাও কোথাও মেলা বসত। সেসব মেলায় দোকানিরা লোকশিল্পের জিনিসপত্র নিয়ে বসত বিক্রির জন্য। ছোটরা মজা পেত বেশি। কোনো কোনো অঞ্চলে লাঠিখেলার প্রতিযোগিতা হতো। রাতে যাত্রাপালা অথবা কবিগানের আসর বসত।
ঢাকা শহরেও কোথাও কোথাও মেলা হতো। যতদূর মনে পড়ে, লোহারপুলের কাছে তেমন মেলা বসত। ওখানে ঈদেও মেলার আয়োজন থাকত। মাঝে মাঝে আরমানিটোলা মাঠে ও ধূপখোলা ময়দানেও মেলা বসত। সেসব ছিল অনিয়মিত।

আসলে বছরের শেষ দিন, অর্থাৎ চৈত্রসংক্রান্তিতে আনন্দের ব্যাপার ঘটত বেশি। সেসব ছিল হালখাতা উৎসবের কারণে। দোকানে দোকানে মিষ্টি খাওয়া এবং খাওয়ানোর চল ছিল। বিশেষ করে বাংলাবাজার বইপাড়া, পাটুয়াটুলী, ইসলামপুরের কাপড়ের দোকান, যেমন– অমৃত বস্ত্রালয়, ঢাকেশ্বরী বস্ত্রালয়ের মতো বড় দোকানগুলোতে উৎসবটা বেশি মানা হতো। আরও ছিল ইসলামপুর আর তাঁতীবাজারের সোনার দোকানগুলোর আয়োজন। 

সেসব জায়গায় মাইকে গান বাজত। কয়েকটি সিনেমা হলে বাংলা নতুন ছায়াছবি দেখানো হতো। এসবের মধ্যে ‘রূপমহল’ ও ‘মুকুল’ সিনেমা হল দুটি ছিল প্রধান। সে সময় বিনোদনের একটাই দিক ছিল– সিনেমা। অতএব, কোনো পরব পেলেই সবাই সিনেমা দেখতে ভিড় করত।
এখন শহরগুলোর মতো হুলস্থুল গ্রামগঞ্জে তেমন চোখে পড়ে না। গ্রামের মানুষ সারাবছরই পান্তাভাত খায়। অতএব বছরের বিশেষ একটি দিন উদযাপনে সেজেগুজে পান্তা খাওয়ার প্রয়োজন তারা অনুভব করে না। আমি অন্তত তাই দেখেছি, এখনও দেখতে পাই।

আমার মনে হয়, পহেলা বৈশাখ পালনে নানাকিছু করার নিয়ম তৈরি হয়েছে শহরগুলোতে। বৈশাখ পালনে নতুন জামাকাপড় পরা, বৈশাখ উপলক্ষে বোনা বিশেষ শাড়ি পরা, পাজামা-পাঞ্জাবি পরা ইত্যাদি এখন নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। উৎসবের আমেজে অনেকটা ঈদ-ঈদ বা পূজা-পূজা ভাব চলে এসেছে। সেটাকে আমি অন্তত ভালোই বলি।
ভালো একটি দিকের উন্মেষ ঘটেছে বলে আমার মনে হয়। আসলে পোড়খাওয়া জীবন ও জীবিকার ব্যস্ততার দুর্বিষহতা থেকে সামান্য আনন্দ খুঁজে পাওয়ার ঘটনা ঘটে পহেলা বৈশাখ উদযাপনের মধ্য দিয়ে। সাধ্য অনুযায়ী আনন্দটা উপভোগ করার চেষ্টার মাঝে যে যেভাবে পারে, উপভোগ করার চেষ্টায় মাতে। এতে ব্যবসায়ীবৃন্দ খুশি থাকে, পরিবারগুলো আনন্দিত থাকে, বন্ধুবান্ধবের সম্পর্ক অটুট থাকে।
পহেলা বৈশাখে সবার জন্য শুভেচ্ছা রইল। বাংলা নববর্ষটি সবার জন্য সুখ ও শান্তিতে ভরে উঠুক, সেই কামনা রইল।
শুভ নববর্ষ।

লেখক : রফিকুন নবী, চিত্রশিল্পী

আরও পড়ুন

×