ঢাকা শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

‘দেশের মানুষ এখন মৃত্যু আতঙ্কে ভুগছে’

‘দেশের মানুষ এখন মৃত্যু আতঙ্কে ভুগছে’
×

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২০ | ০৬:৩০

সরকারের ব্যর্থতায় গোটা দেশের এখন মানুষ মৃত্যু আতঙ্কে ভুগছে বলে অভিযোগ করেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও বিশিষ্টজনেরা। 

তারা বলেছেন, ‘দেশের মানুষ আজ জীবিকার চিন্তায় তারা অস্থির হয়ে আছে। তাদের ভোটাধিকার এমনকি নিজের জীবন রক্ষার ও বেঁচে থাকার যে মৌলিক অধিকার তা আজ হরণ করে নেওয়া হয়েছে।’  

বুধবার দুপুরে প্রয়াত নেতা স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠক, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও বিএনপি নেতা শাজাহান সিরাজের স্মরণে এক ভার্চুয়াল আলোচনায় তারা এসব কথা বলেন।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আজকে যারা ক্ষমতায় আছে তারা স্বাধীনতার চেতনা ধারণ করে বলেন। কিন্তু তারাই আজকে সচেতনভাবে এদেশের মানুষের ভোট দেওয়ার অধিকার, মৌলিক অধিকারগুলোকে হরণ করে নিয়ে গেছে। জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তিযোদ্ধারা এই বাংলাদেশ দেখতে চাননি। তারা একটা সুখী, সমৃদ্ধ, সাধারণ মানুষ যাতে বেঁচে থাকতে পারেন সেই বাংলাদেশ দেখতে চেয়েছিলেন। 

এই অবস্থা থেকে উত্তরণে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা যে বাংলাদেশ দেখতে চেয়েছিলেন এবং সবাই যে বাংলাদেশ দেখতে চেয়েছিলেন, সেই বাংলাদেশকে যদি আমরা নির্মাণ করতে চাই তাহলে আজ আবার ১৯৭১ সালের মতো আমাদের একটা জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করতে হবে। এই ঐক্য সৃষ্টি করার মধ্য দিয়ে ওই সময়কার সত্যিকার অর্থের যে চেতনা সেই চেতনাকে আমরা প্রতিষ্ঠিত, বাস্তবায়িত করতে পারবো। সেটাই হবে শাজাহান সিরাজের প্রতি সবচেয়ে বড় শ্রদ্ধা জানানো।

শাজাহান সিরাজের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে তিনি বলেন, আামি শাহজাহান সিরাজকে শুধু বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে নয়, তাকে সবাই বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠকারী, স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের একজন নায়ক হিসেবে দেখতে চান। কিন্তু আমরা খুব কষ্ট পাই, দুঃখ পাই যখন দেখি যে, আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের বীর যোদ্ধা, বীর সংগ্রামী যারা জীবন বাজি রেখে সংগ্রাম করেছেন, লড়াই করেছেন তাদের খাটো করে দেখার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমি খুব কষ্ট পেয়েছি কয়েকদিন আগে কয়েক বাংলাদেশের তথাকথিত বুদ্ধিজীবী কিছু লেখা লিখেছেন শাজাহান সিরাজের সম্পর্কে। 

স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম নেতা ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডির) সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, ১৯৬২ সালে সিরাজুল আলম খানের নেতৃত্বে স্বাধীন বাংলা নিউক্লিয়াসের গঠনের মধ্যে দিয়ে প্রত্যেকটা আন্দোলন-সংগ্রাম হয়েছে। ওই সময়ে সিরাজুল আলম খানের নেতৃত্বে নিউক্লিয়াসের সদস্যরা ছাড়া কেউই পৃথিবীতে স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নই দেখেনি। আমি ও শাজাহান সিরাজ ৬২ সালে নিউক্লিয়াসের সদস্য। আমরা কোনোদিন স্বায়ত্বশাসনের জন্য আন্দোলন করিনি। একটা কথা বলে দিলে আজকে সবাই বুঝতে পারবেন, পাকিস্তানে লাথি মারো বাংলাদেশ স্বাধীন করো, ৬ দফা না ১ দফা, জিন্নাহ মিয়ার পাকিস্তান, আজিমপুরের গোরস্থান; বীর বাঙালি অস্ত্র ধরো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো; এগুলো ছিলো ওই সময়ে স্লোগান। আর আজকে ক্ষমতাসীন দল স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃত করছে।

স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম নেতা নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার আন্দোলন একেক সময়ের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যেমন স্বায়ত্বশাসন দাবিও যেমন সত্য ছিলো, স্বাধিকারের প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছিলো। ওই স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতার আন্দোলন এটাই চূড়ান্ত রূপ দেয়। 

বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের যে ঘোষণা টেবিলের আলোচনায় আসেনি, এটা ছিলো জনযুদ্ধ। ফলে জনযুদ্ধে জনগণের যে ভূমিকা সেটা বাদ দিলে সেই ইতিহাস কখনো সম্পূর্ণ ইতিহাস হয় না। প্রবাসে প্রথম ঘোষণা দিয়েছিলো যে, আমরা তিনটা কথা বলে সেই যুদ্ধ করেছি-সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার। স্বাধীনতা উত্তরকালে সংবিধানে বলা হয়েছিলো, গণতন্ত্র, শোষণহীন সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও স্বাধীন জাতীয় বিকাশে জাতীয়তাবাদ। এখন গণতন্ত্রের হাল কী? গণতন্ত্র তো দূরে থাক, ভোটতন্ত্র সেটাও নেই।’

বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট রিসার্চ অ্যান্ড কমিউনিকেশস (বিএনআরসি) এর উদ্যোগে এই ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় বিএনপি সাবেক সাংসদ জহিরউদ্দিন স্বপনের পরিচালনায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম, নাগরিক নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী বক্তব্য রাখেন।


আরও পড়ুন

×