স্বাস্থ্যে শুধু মহাপরিচালক নয়, জড়িত সবাইকে বরখাস্ত করা উচিত: ফখরুল
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (ফাইল ছবি)
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২০ | ০৫:৫০ | আপডেট: ২৩ জুলাই ২০২০ | ০৬:০৪
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের পদত্যাগ প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, মহাপরিচালককে বরখাস্ত করা উচিত ছিল এবং জড়িত সবাইকে বরখাস্ত করা উচিত। এখানে শুধু মহাপরিচালকের পদত্যাগ নয়, মহাপরিচালকের বিচার এবং একইসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত।
বৃহস্পতিবার দুপুরে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত দুর্নীতি-অব্যবস্থাপনার চিত্র তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা এত চরমে পৌঁছেছে যে, অধিকাংশ কোভিড হাসপাতালের লাইসেন্সের মেয়াদ নেই বলে জানা গেছে। করোনা প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকেই দুর্নীতি শুরু হয়েছে। সরকারের আশীর্বাদপুষ্টদের কাছে করোনা যেন আশীর্বাদরূপে আবির্ভূত হয়েছে। স্বাস্থ্যসুরক্ষা সামগ্রী যেমন পিপিই, মাস্ক, ওষুধ সরবরাহের দুর্নীতি দিয়েই তাদের শুরু।
সরকার এসব অনিয়মের দায় এড়াতে পারে না জানিয়ে তিনি বলেন, করোনা মহামারির এই সংকটকালে পুরো জাতি যখন ভীষণভাবে উদ্বিগ্ন, যখন প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে, যখন সরকারি হিসাবমতেই দৈনিক প্রায় ৪০ জন করে করোনা রোগী মারা যাচ্ছেন, তখন স্বাস্থ্য খাতের অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বহীনতা ক্ষমার অযোগ্য অপরাধের শামিল। স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতির দায় সরকারেরই বহন করতে হবে।
জেকেজি ও রিজেন্ট হাসপাতালের প্রতারণা ও রিজেন্ট হাসপাতালের চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, শুরু থেকে সরকারের দৃষ্টিকটু সমন্বয়হীনতা, অপরিণামদর্শিতা, দোদুল্যমানতা, সিদ্ধান্তহীনতা, ভুল সিদ্ধান্তের কারণে করোনা সংক্রান্ত পদক্ষেপগুলো কার্যত অসফল প্রমাণিত হয়েছে। দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এই ভয়াবহ মহামারিকে মোকাবিলার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ফলেই এই ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। জাতির এই মহাদুর্যোগে ও এই দুঃসময় মহামারিতে তাদের পক্ষে সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়।
ভার্চুয়াল এই সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন-বিএনপির করোনা সম্পর্কিত জাতীয় পর্যবেক্ষণ কমিটির সমন্বয়ক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভাইস চেয়ারম্যান এ জেড এম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ফরহাদ হালিম, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, ড্যাবের হারুন আল রশিদ, আবদুস সালাম, সহস্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, যুবদলের সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের আবদুল কাদির ভুঁইয়া ও ছাত্রদলের ইকবাল হোসেন।