ঢাকা মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

শাপলা চত্বরের ঘটনা আ.লীগের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের বহিঃপ্রকাশ: এহসান মাহবুব জোবায়ের

শাপলা চত্বরের ঘটনা আ.লীগের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের বহিঃপ্রকাশ: এহসান মাহবুব জোবায়ের
×

জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন এহসান মাহবুব জোবায়ের। ছবি-সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬ | ১৯:২২

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসান মাহবুব জোবায়ের বলেছেন, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে সংঘটিত ঘটনাটি আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের বহিঃপ্রকাশ। তিনি ঘটনাটিকে “নিষ্ঠুর ও নির্দয় গণহত্যা” হিসেবে আখ্যায়িত করে দাবি করেন, এর মধ্য দিয়েই দেশে ফ্যাসিবাদের উত্থান চূড়ান্ত রূপ নিতে শুরু করে।

মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ হলে ‘৫ মে শাপলা চত্বর গণহত্যা দিবস’ উপলক্ষে সুশীল ফোরাম আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, হেফাজতে ইসলাম আলেম-ওলামাদের একটি অরাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ছিল এবং তাদের ১৩ দফা দাবি আদায়ের কর্মসূচি ছিল শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক। তবে তৎকালীন সরকার তা কঠোরভাবে দমন করে।

এহসান মাহবুব জোবায়ের অভিযোগ করেন, গত ১৬ বছরে দেশে একাধিক বড় ধরনের সহিংস ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে তিনি ২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ড, ২০১২ সালে সাঈদীর রায়ের পরবর্তী সহিংসতা, ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঘটনা এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের কথা উল্লেখ করেন।

জুলাই আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে বর্তমান বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদের কোনো স্থান নেই। ৫ আগস্টের পর দেশ ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা’ অর্জন করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, এ আন্দোলনের মূল চালিকাশক্তি ছিল সাধারণ মানুষ ও শ্রমজীবী জনগণ।

ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধে ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’-এর গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, এটি বাস্তবায়নে গণভোটের মাধ্যমে জনগণের ম্যান্ডেট প্রয়োজন। তার দাবি, দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ ইতোমধ্যে এই সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছে।

সভায় তিনি আরও জানান, জুলাই আন্দোলনের শহীদদের সম্মান জানাতে জামায়াতে ইসলামী একটি সংরক্ষিত নারী আসনে শহীদ জাবেদ ইব্রাহিমের মা রুকিয়া বেগমকে মনোনয়ন দিয়েছে।

এসময় তিনি ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, গণহত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের দ্রুত বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করা উচিত, যাতে তাদের বিচার নিশ্চিত করা যায়।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচিত সরকারগুলো কীভাবে স্বৈরাচারী হয়ে উঠতে পারে, তার উদাহরণ ইতিহাসে রয়েছে। বর্তমান সরকারকে সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সুশীল ফোরামের সভাপতি মো. জাহিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ড. আল হাসান মোবারক, সহ-সভাপতি মো. ফজলুল করিম এবং সিনিয়র সহ-সভাপতি এস এম শহিদুল্লাহ। বক্তারা শাপলা চত্বরসহ বিভিন্ন সহিংস ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

আরও পড়ুন

×