ঢাকা-৫ উপনির্বাচন
মতপার্থক্য ভুলে এক প্ল্যাটফর্মে বিএনপি
সালাহউদ্দিন আহমেদ
কামরুল হাসান
প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ১২:০০ | আপডেট: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ১৪:৫১
ঢাকা-৫ (ডেমরা-যাত্রাবাড়ী-কদমতলী আংশিক) আসনের উপনির্বাচন কেন্দ্র করে একাট্টা বিএনপির নেতাকর্মীরা। নিজেদের মধ্যকার মতপার্থক্য আর কোন্দল দূর করে তারা এখন এক প্ল্যাটফর্মে। মনোনয়নপ্রত্যাশী সব নেতাকে ঐক্যবদ্ধ করে নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করেছেন এই আসনের বিএনপি প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমেদ। এর বাইরে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও বৈঠক করছেন। কেন্দ্রভিত্তিক কমিটি গঠন, নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠনের কাজও প্রায় সম্পন্ন। সংশ্নিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এই আসনের সাবেক এমপি সালাহউদ্দিন আহমেদকে মনোনয়ন দেওয়ায় দলের প্রতিষ্ঠাকালীন ও সিনিয়র নেতাকর্মীরা উচ্ছ্বসিত। তারা বলেন, সালাহউদ্দিনের হাত ধরেই এই এলাকায় বিএনপি শক্তিশালী হয়েছে। প্রত্যেক নেতাকর্মীর সঙ্গে তার সম্পর্ক থাকায় খুব সহজেই তাদের নির্বাচনী মাঠে নামাতে পারবেন। দীর্ঘদিনের এমপি থাকায় এলাকার উন্নয়নের কারণে সাধারণ জনগণের মধ্যেও তার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। এ আসন বিএনপি অধুষ্যিত এলাকা হিসেবে পরিচিত। সব মিলিয়ে প্রতিপক্ষের প্রার্থীর থেকে তিনি অনেকটা এগিয়ে থাকবেন বলে মনে করছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।
এলাকার নেতাকর্মীরা জানান, বিগত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সালাহউদ্দিন আহমেদ ঢাকা-৪ আসনে নির্বাচন করেছিলেন। নির্বাচনের দিন কেন্দ্রের মধ্যে তাকে আহত করা হয়েছিল। এর পরও তিনি নির্বাচনী মাঠ ছেড়ে যাননি। এবারও তিনি মাঠ ছেড়ে, নেতাকর্মীদের ফেলে যাবেন না।
ঢাকা-৫ আসনে ছয়জন মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। বিগত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সহসভাপতি নবী উল্লাহ নবী এই আসনে নির্বাচন করেছিলেন। এবারও তিনি মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। কিন্তু তার পরিবর্তে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী সালাহউদ্দিন আহমেদকে মনোনয়ন দেওয়ায় প্রাথমিক পর্যায়ে মনঃক্ষুণ্ণ ও ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন তার সমর্থিতরা। তবে নবী উল্লাহ নবী দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন। এতে এই আসনের সব নেতাকর্মী আবারও ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনী যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়বেন বলে আশা করছেন দলের হাইকমান্ড।
সালাহউদ্দিন আহমেদ ও নবী উল্লাহ নবী ছাড়াও এ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে দলের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন বিএনপির গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ও শিক্ষক নেতা অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, মো. জুম্মন মিয়া, আকবর হোসেন নান্টু ও আনোয়ার হোসেন সরকার।
এর মধ্যে মো. জুম্মন মিয়া, আকবর হোসেন নান্টুকে সঙ্গে নিয়ে গত বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র জমা দেন সালাহউদ্দিন আহমেদ। এ ছাড়া বিএনপির গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ও শিক্ষক নেতা অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া ও আনোয়ার হোসেন সরকারের সঙ্গে বৈঠক করে তাদের মতামত নেওয়া হচ্ছে বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমেদের ছেলে ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক তানভীর আহমেদ রবীন।
তিনি জানান, এই আসনে ডেমরা-যাত্রাবাড়ী থানা ছাড়াও কদমতলীর দুটি ওয়ার্ড ও মতিঝিলের ছোট্ট একটা অংশ রয়েছে। মনোনয়ন পাওয়ার পর এ পর্যন্ত এক দফা ১৪টি ওয়ার্ডের প্রতিটি পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় হয়েছে। এর বাইরে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গেও বৈঠক করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শ্রমিক দলের সঙ্গে তাদের বৈঠক হয়েছে। দু-একদিনের মধ্যে ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সঙ্গে তাদের বৈঠক হবে। নেতাকর্মীরা খুবই উচ্ছ্বসিত। তারা যে কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে নির্বাচনী মাঠে থাকবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন।
এই এলাকার নেতাকর্মীরা জানান, এই আসনের দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী সালাহউদ্দিন আহমেদ ও নবী উল্লাহ নবী একজোট হয়ে নির্বাচনী ভোটযুদ্ধে নামতে পারলে আর নির্বাচন সুষ্ঠু হলে ফল ভিন্ন রকম হবে। মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে আপাতত নবী উল্লাহ নবী নীরব হয়ে থাকলেও দলের নির্দেশনায় তিনিও মাঠে নামবেন বলে আশা প্রকাশ করছেন তারা।
সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, দল থেকে তাকে পবিত্র আমানত দেওয়া হয়েছে। এই আমানত রক্ষার জন্য তিনি শেষ রক্তবিন্দু দেওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছেন। দেশের গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার যে কোনো আন্দোলনে তিনি সর্বাত্মক ভূমিকা রাখার জন্য প্রস্তুত রয়েছেন। এই নির্বাচনকে তিনি গণতন্ত্র মুক্তির আন্দোলন হিসেবেই দেখছেন। তার সঙ্গে সব নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণ রয়েছে। এই আসনে বিএনপির কোনো কোন্দল নেই। সবাই এক হয়ে কাজ করছি।
নবী উল্লাহ নবীর মতামত জানতে তার ফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। তার ঘনিষ্ঠজন জানিয়েছেন, শারীরিক অসুস্থতার কারণে আপাতত তিনি কারও ফোন ধরছেন না। তবে গত শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নবী উল্লাহ নবী জানিয়েছেন, ঢাকা-৫ আসনের উপনির্বাচন কেন্দ্র করে তিনি কোথাও কোনো মন্তব্য করেননি, সাক্ষাৎ দেননি। দলের হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তে তিনি একমত পোষণ করেছেন। কেউ যদি বিভ্রান্তি ছড়ায় তাহলে তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ব্যবস্থা নেওয়ারও কথা জানিয়েছেন তিনি।
- বিষয় :
- ঢাকা-৫ উপনির্বাচন
- উপনির্বাচন
- ঢাকা-৫
- বিএনপি
