‘মায়াবী হালদা’র মায়ায় শিশুরা
হালদা নদীর তীরে সত্তার ঘাট এলাকায় গড়ে ওঠা শিশুপার্কটি সবার জন্য উন্মুক্ত সমকাল
প্রদীপ শীল, রাউজান (চট্টগ্রাম)
প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৫ | ০০:২১
এক পাশে সড়ক, অন্য পাশে প্রমত্তা হালদা। তার মাঝখানে ছোট্ট ছিমচাম একটি শিশুপার্ক। চারপাশে মনোরম পরিবেশ। পার্কের কাছে গেলে শুনতে পাওয়া যায় শিশুদের আনন্দধ্বনী ও হইহুল্লোড়। শিশুদের সঙ্গে ভিড় জমান বড়রাও। বিশেষ করে ছুটির দিনে দর্শনার্থীর পদচারণায় মুখর হয়ে উঠে পার্ক। পার্কটির নাম মায়াবী হালদা। গত জানুয়ারিতে হালদা নদীর তীরবর্তী সত্তার ঘাট এলাকায় বেসরকারি উদ্যোগে গড়ে উঠেছে এ শিশুপার্ক। পার্কটি সবার জন্য উন্মুক্ত। এখানে কোনো টিকিট নেই, দিতে হয় না দর্শনী।
সরেজমিন দেখা যায়, শিশুপার্কটির পরতে পরতে পরিকল্পনা ও নান্দনিকতার ছাপ। পার্কের ভেতরে রয়েছে নানা রাইড ও ১০টি খাবারের দোকান। দর্শনার্থীদের জন্য হালদা নদীতে নৌভ্রমণেরও ব্যবস্থা রয়েছে। দুই ছেলেকে নিয়ে পার্কে এসেছিলেন ইয়াছমিন আক্তার। তিনি বলেন, ‘রাউজানে বেড়ানোর জায়গা খুব কম। এ শিশুপার্কটি হওয়ায় বন্ধের দিনে বাচ্চাদের নিয়ে চলে আসি। গত ছয় মাসে চারবার এসেছি। বাচ্চারাও এখানে আসতে পারলে খুব খুশি হয়, আমারও ভালো লাগে।’
শিক্ষার্থী আয়েশা সিদ্দিকা মুমু বলেন, ‘কলেজ বন্ধ থাকায় আমরা চার বান্ধবী মিলে মায়াবী হালদা দেখতে এসেছি। হালদা পাড়ের শীতল হাওয়ায় ফুসকা খেতে অনেক ভালো লাগল।’ শিশু তাসফিয়া বলে, ‘দোলনায় চড়েছি, ঘোড়ায় চড়েছি, আইসক্রিম খেয়েছি। সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে নদীতে নৌকায় চড়ে।’
‘মায়াবী হালদা’র প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, সাবেক কাউন্সিলর আশেক রসুল রোকন বলেন, ‘যান্ত্রিক পরিবেশে শিশু-কিশোরসহ সব বয়সী মানুষ একটু নির্মল প্রাকৃতিক পরিবেশ খুঁজেন। বিশেষ করে শিশুদের মানসিক বিকাশে উন্মুক্ত প্রাঙ্গণ রাউজানে খুব একটা নেই। শিশুপার্ক করতে আমরা কয়েকজন মিলে মনোমুগ্ধকর পরিবেশ খুঁজছিলাম। পরে হালদা তীরবর্তী জায়গাটা পছন্দ করি। এলাকার মানুষ থেকে জায়গাটা ভাড়া নিয়ে পার্ক তৈরি করি। দর্শনার্থীরা এটা পছন্দ করছেন– এটাই আমাদের প্রাপ্তি।’
শিশুপার্কের পরিচালক ইকবাল চৌধুরী হোসেন বলেন, ‘আমাদের একমাত্র উদ্দেশ্য শিশু-কিশোরদের মানসিক বিকাশ ঘটানো। এই পার্ক উন্মুক্ত, কোনো টিকিট নেই। বরং এখানে যারা খাবার দোকান দিয়েছেন তারা লাভবান হয়েছেন, এই পার্কে অন্তত ৫০ পরিবার জীবিকা নির্বাহ করার সুযোগ পেয়েছে।’
শিশুদের মানসিক বিকাশের উন্মুক্ত পরিবেশে ঘোরাঘুরি ও বিনোদন কেন্দ্রগুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। স্বাধীনতার ৫৪ বছরে চট্টগ্রামের রাউজানে সরকারিভাবে গড়ে উঠেনি কোনো বিনোদন মূলক শিশুপার্ক। এ উপজেলার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল একটি শিশুপার্কের। কিন্তু সরকার আসে, সরকার যায় কোনো সরকারেই করেনি শিশুদের মানসিক বিকাশের ব্যবস্থা।
জানা যায়, ২০১৬ সালে বেসরকারিভাবে রাউজান রাবার বাগান সংলগ্ন এলাকায় ‘গিরিছায়া’ নামে একটি মিনি পার্ক গড়ে উঠেছিল। গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পার্কটি পুড়িয়ে দেওয়া হয়। ২০২২ সালে ঢালার মুখ এলাকায় সরকারিভাবে পূর্ণাঙ্গ একটি ইকোপার্কের ভিত্তিস্থাপন করা হলেও, পরে তা আর বাস্তবায়িত হয়নি।
এরপর রাউজান পৌরসভার উদ্যোগে পৌরপার্ক স্থাপনে উদ্যোগ নেওয়া হয়। রাবার বাগান এলাকায় পার্কের জন্য জায়গা নির্ধারণ করা হয়। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থ সহায়তা দেওয়ার কথা ছিল ডেনমার্ক সরকারের। কিন্তু সেটিও আলোর মুখ দেখেনি।
- বিষয় :
- হালদা
