ইউটিউবে দেখে মাল্টা বাগান প্রবাসী হামিদের
রাউজানে প্রবাসী হামিদের বাগানে থোকায় থোকায় ঝুলছে উন্নত জাতের হলুদ রঙের মাল্টা সমকাল
প্রদীপ শীল, রাউজান (চট্টগ্রাম)
প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ০৬:৪৩
প্রবাসী মোহাম্মদ হামিদ ওমানে একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করেন। অবসরে একদিন ইউটিউবে ভিয়েতনামি হলুদ মাল্টা চাষের ভিডিও দেখেন। ২০২২ সালে ছুটিতে দেশে এসে তিনি রাউজানের কদলপুর ইউনিয়নে পৈতৃক দুই বিঘা পরিত্যক্ত জমিতে উন্নত জাতের হলুদ মাল্টার ৪০০ গাছ রোপণ করেন। এতে খরচ হয় প্রায় ১৩ লাখ টাকা। রোপণের চার বছরের মধ্যে ফলন এসেছে। চলতি বছর পাঁচ লাখ টাকার মাল্টা বিক্রি হবে।
সরেজমিন দেখা যায়, হামিদের বাগানে থোকায় থোকায় ঝুলছে পাকা মাল্টা। আকারে বাজারের বিদেশি মাল্টার চেয়ে বড়। বাগানে মিশ্র ফল হিসেবে লাগানো হয়েছে উন্নত জাতের আম, লেবু, কলা, পেয়ারা, পিংক কাঁঠাল, লিচু গাছ। বর্তমানে বাগানে মাল্টার সঙ্গে উৎপাদিত হচ্ছে আম, কলা, পেয়ারা ও লেবু। পরিচর্যার কাজে নিয়োজিত রুহুল আমীন জানান, বাগানের সব গাছে ধরেছে মাল্টা। বাগান থেকেই ২৫০ টাকা কেজি ধরে বিক্রি করা হচ্ছে। এসব মাল্টা ফরমালিনমুক্ত।
এদিকে হামিদের হলুদ মাল্টার বাগান দেখতে আসেন স্থানীয়রা। অনেকে নিজের হাতে গাছ থেকে ছিঁড়ে মাল্টা কেনার সুযোগটা নিচ্ছেন। কেউ কেউ মাল্টা কিনে বাগানেই কেটে খাচ্ছেন।
প্রবাসী হামিদের পিতা মোহাম্মদ হারুন বলেন, ‘আমিও দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলাম। ছেলে প্রবাস থেকে বাগান করার উদ্যোগ নেয়। আমিও উৎসাহ দিয়েছি, বাগান করতে সহযোগিতা করছি।’
রাউজান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুম কবির বলেন, ‘উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপকভাবে সবুজ মাল্টার চাষ হয়েছে। কিন্তু হামিদই প্রথম বাণিজ্যিকভাবে ভিয়েতনামি হলুদ রঙের মাল্টার চাষ করেছেন। এই মাল্টা সুস্বাদু। কৃষি বিভাগ থেকে তাঁকে পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘মাল্টা একটি পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ ফল। দেশে উৎপাদন বাড়ানো গেলে, আমদানি কমে আসবে এবং দেশের মানুষ ফরমালিনমুক্ত ফল খেতে পারবেন।’
মাল্টা কিনতে আসা ফাহমিদা আক্তার বলেন, ‘বাজারে বিদেশি মাল্টার কেজি ৩০০ টাকা। বাজারের ফলে ফরমালিন থাকার আশঙ্কা আছে। কিন্তু হামিদের বাগানে যে মাল্টা বিক্রি হচ্ছে সেগুলো শতভাগ নিরাপদ। দাম হাতের নাগালে। খেতে বাজারের মাল্টার চেয়েও সুস্বাদু।’
বাগানের কর্মচারী সবুজ দাশ জানান, মাসে ১২ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করছেন তিনি। এই বাগানে চাকরি করে পরিবার চালান। তিনি বলেন, ‘কিছু গাছের মাল্টা বিক্রির উপযোগী হয়েছে। তবে ফলগুলো পুরোপুরি পাকতে আরও ২০ দিন লাগতে পারে।’ থাকেন বিদেশে, অথচ বাগান করলেন দেশে– এই প্রশ্নের উত্তরে মোহাম্মদ হামিদ সমকালকে বলেন, ‘একদিন ইউটিউবে হলুদ মাল্টা বাগানের একটি ভিডিও দেখি। প্রায় ১০ মিনিটের ভিডিওটি আমার চোখ খুলে দেয়। সেদিনই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম দেশের বাড়িতে মাল্টা বাগান করব। ২০২২ সালে বাগান করতে খরচ হয়েছে প্রায় ১৩ লাখ টাকা। প্রথম বছর মাল্টা তুলিনি। গত বছর থেকে বাণিজ্যিকভাবে মাল্টা উৎপাদান শুরু হয়। এ বছর পাঁচ লাখ টাকার মাল্টা বিক্রির আশা করছি।’ তিনি দাবি করেন, চট্টগ্রামে একমাত্র তাঁরই হলুদ জাতের মাল্টা বাগান রয়েছে।
- বিষয় :
- মাল্টা চাষ
