ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

পড়ে আছে ১২ কোটি টাকার ট্রমা সেন্টার

পড়ে আছে ১২ কোটি  টাকার ট্রমা সেন্টার
×

নান্দনিক ভবন হলেও নিয়োগ দেওয়া হয়নি লোকবল, তাই চালু হয়নি ট্রমা সেন্টার সমকাল

 প্রদীপ শীল, রাউজান (চট্টগ্রাম)

প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ০৬:৩৫

রাউজানে প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ট্রমা সেন্টার উদ্বোধনের তিন বছরেও চালু হয়নি। সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের জরুরি সেবা দেওয়ার জন্য নির্মিত এ প্রতিষ্ঠান এখন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। এরই মধ্যে চুরি হয়েছে সিলিং ফ্যান। একাধিকবার দামি জেনারেটর চুরিরও চেষ্টা হয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এসিসহ অন্যান্য সরঞ্জামও চুরি হয়ে যেতে পারে।
গত ১৯ সেপ্টেম্বর ট্রমা সেন্টার পরিদর্শন করেন চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ও স্বাস্থ্য বিভাগের বিভাগীয় পরিচালক ডা. ফজলে রাব্বী। তারা দ্রুত কেন্দ্রটি চালুর আশ্বাস দেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কার্যালয় জানায়, সেন্টার চালু করতে ৩৬ জনকে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে আছেন একজন আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা, তিনজন জুনিয়র কনসালট্যান্ট, ছয়জন সহকারী সার্জন, নার্স ও টেকনোলজিস্ট।
সরেজমিন দেখা গেছে, প্রায় দুই একর জমির ওপর নির্মিত নান্দনিক এই ট্রমা সেন্টারের প্রবেশমুখ তালাবদ্ধ। স্থানীয় এক নারী তালা খুলে প্রতিবেদককে ভেতরে নিয়ে গিয়ে জানান, অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকায় ইতোমধ্যে সেন্টারের কয়েকটি ফ্যান চুরি হয়েছে, জেনারেটর চুরিরও চেষ্টা হয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন দাবি করেন, ট্রমা সেন্টারের ভেতরের কিছু জায়গা তাদের মালিকানাধীন। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জমি জবরদখল করে পরে নকল কাগজপত্রের মাধ্যমে স্বাস্থ্য বিভাগকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাকিস্তানি নামের এক নারী জানান, তাদের ১৬ শতক জমি এ সেন্টারের ভেতরে পড়ে গেছে। একই অভিযোগ তুলেছেন আবুল ফয়েজ তালুকদার। তিনি জানান, তাদের ১০ শতক জমি দখল করা হয়েছে, এ নিয়ে আদালতে মামলা চলমান।
প্রায় দুই একর জমিতে গড়ে ওঠা এই ট্রমা সেন্টারে তিনতলা প্রশাসনিক ভবন, পাঁচতলা দুটি ভবন, কনসালট্যান্ট ও অফিসারদের ডরমিটরি, পার্কিং গ্যারেজ ও জেনারেটর রুম রয়েছে। কক্ষগুলোয় লাগানো আছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রক যন্ত্র। মূল ভবনের দেয়ালে উল্লেখ আছে ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর এটি উদ্বোধন করা হয়েছে।
গত এক মাস ধরে মোহাম্মদ বাবুল নামের এক ব্যক্তি সেন্টারের দেখভাল করছেন। তবে কে তাকে নিয়োগ দিয়েছেন তা তিনি স্পষ্ট বলতে পারেননি। শুধু বলেছেন, ম্যানেজারের মাধ্যমে তিনি দায়িত্ব পেয়েছেন।
রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, ‘ট্রমা সেন্টার দ্রুত চালু করতে জনবলের চাহিদা পাঠানো হয়েছে। সেন্টারের কিছু ফ্যান চুরি হয়েছে। সীমানা প্রাচীরের ৪ শতাংশ কাজ বাকি আছে।’ কিছু ভূমি জটিলতা রয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন।
স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মনি কুমার শর্মা বলেন, সেন্টারে একজন কেয়ারটেকার দায়িত্ব পালন করছেন। 
চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীকে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
 

আরও পড়ুন

×