ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

স্বপ্নের বেস ক্যাম্পে ওরা ৮ জন

স্বপ্নের বেস ক্যাম্পে ওরা ৮ জন
×

পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গের বেস ক্যাম্পে লাল-সবুজের পতাকা উড়ান অভিযাত্রীরা সংগৃহীত

 শৈবাল আচার্য্য

প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৫ | ০৬:৪১

| প্রিন্ট সংস্করণ

অদম্য সাহস, অধ্যবসায় আর দেশপ্রেম– এই তিন শক্তিকে সঙ্গী করেই এভারেস্ট বেস ক্যাম্প জয় করেছেন চট্টগ্রামের আট অভিযাত্রী। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ও প্রতিকূল পরিস্থিতি উপেক্ষা করে তারা সফলতার সঙ্গে উড়িয়েছেন লাল-সবুজের গর্বের পতাকা পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গের বেস ক্যাম্পে।
‘কোয়েস্ট ক্রু বাংলাদেশ’ ও ‘এফএনএফ রাইডার্স’-এর সমন্বয়ে গঠিত এই আট সদস্যের অভিযাত্রী দলের নেতৃত্বে ছিলেন মেরিন ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ কামাল। দলের অন্যান্য সদস্য হলেন– মেরিন ইঞ্জিনিয়ার আরিফুজ্জামান, মেরিন ইঞ্জিনিয়ার রাফি রুকন, ক্যাপ্টেন সাখাওয়াত কমল, মেরিন ইঞ্জিনিয়ার খালেকুজ্জামান রাজু, মেরিন ইঞ্জিনিয়ার ইমরুস সাঈদ, জুয়েল ফরাজী ও মোহাম্মদ আলী।
দলটি গত ২৭ সেপ্টেম্বর নেপালের লুকলা থেকে হেঁটে ট্রেকিং শুরু করে। দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে ফ্যাকডিং, নামছে বাজার, টেংবুচে, ডিংবুচে ও লবুচে হয়ে ৩ অক্টোবর পৌঁছায় গোরাকশেপে। সেখান থেকে ৪ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৭টায় প্রবল তুষারপাত ও ঝোড়ো হাওয়ার মধ্যে তারা যাত্রা শুরু করেন বেস ক্যাম্পের উদ্দেশে। বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে তারা সফলভাবে এভারেস্ট বেস ক্যাম্প সামিট করেন।
অভিযাত্রী দলের সবাই ৭ অক্টোবর নিরাপদে ফিরে আসেন নিজ নিজ গন্তব্যে। তবে এ সাফল্যের পথ ছিল না সহজ। ছিল তীব্র ঠান্ডা, প্রবল তুষারপাত, যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা ও মৃত্যুর ছায়া। ক্যাপ্টেন সাখাওয়াত কমল বলেন, ‘৪ অক্টোবর ট্রেকিং শেষের পর প্রবল তুষারপাত শুরু হয়। ৪-৫ ফুট বরফে ঢেকে যায় হেলিপ্যাড, ধসে পড়ে কয়েকটি লজের ছাদ। বন্ধ হয়ে যায় ইন্টারনেটসহ সব ধরনের যোগাযোগ। দক্ষিণ এভারেস্টের প্রায় ১ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা তখন বরফে মোড়া।’ ৫ অক্টোবর সকাল ১০টার দিকে তুষারপাত থামলে আমরা ঘোড়ায় চড়ে ও হেঁটে প্রায় ১৫ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করি। চাঁদের আলোয় বরফের পথে রাতভর চলা ছিল ভয়ংকর অভিজ্ঞতা। সংকীর্ণ ঢালু পথে ঘোড়ায় চলার সময় মনে হচ্ছিল এক পা ভুল হলেই গভীর খাদে পড়ে যাব। সারারাত তসবিহ জপেছি।’
ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ কামাল বলেন, ‘৬ অক্টোবর সকালে প্যাংবুচে থেকে হেলিকপ্টারে লুকলা পৌঁছে দেখি এক ট্রেকারের লাশ স্ট্রেচারে আনা হয়েছে। তুষারঝড়ে মারা গেছেন তিনি। তখন বুঝেছিলাম, আমরা কতটা ভাগ্যবান।’ ইঞ্জিনিয়ার আরিফুজ্জামান যোগ করেন, ‘লুকলায় অবস্থানকালে বিদেশি ট্রেকারদের অনেকে মাঝপথে ফিরে যাচ্ছিলেন ভয়ংকর আবহাওয়ার কারণে। কিন্তু আমরা ধৈর্য ও সাহস ধরে রেখেছিলাম বলেই সফল হয়েছি। ৭ অক্টোবর সকালে প্রথম ফ্লাইটে কাঠমান্ডু যাই এবং বিকেলে দেশে ফিরি।’
দেশে ফিরে ক্যাপ্টেন কমল বলেন, ‘আমাকে বিমানবন্দরে চিনতে পারেননি স্ত্রী। মুখে বরফে পোড়া দাগ, ঠোঁটে আইস বার্ন। আয়নায় তাকিয়ে দেখি চেহারা বদলে গেছে, ওজন কমেছে আড়াই কেজি। কিন্তু গর্ব আছে এই ভেবে যে লাল-সবুজ পতাকা উড়াতে পেরেছি স্বপ্নের বেস ক্যাম্পে।’ তিনি আরও বলেন, ‘তুষারে ঢাকা শৃঙ্গ দেখতে না পেলেও ট্রেকিং শেষ করাই সবচেয়ে বড় অর্জন। আমরা শুধু নিজেদের জন্য নয়, নিপীড়িত ফিলিস্তিনিদের প্রতিও সংহতি জানিয়েছি।’

আরও পড়ুন

×