‘সরকারি সহায়তার চাল পাইলে একটু নিঃশ্বাস নিতে পারতাম’
ইলিশ ধরা বন্ধ থাকায় জাল মেরামত করছেন লক্ষ্মীপুরের চর রমণীমোহন ইউনিয়নের জেলেরা সমকাল
আতোয়ার রহমান মনির, লক্ষ্মীপুর
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৫ | ০৬:৪৫
| প্রিন্ট সংস্করণ
মা ইলিশ রক্ষায় সরকার ঘোষিত ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার তিন সপ্তাহ পার হলেও লক্ষ্মীপুর জেলার অসংখ্য জেলে এখনও সরকারি খাদ্য সহায়তা পাননি। ফলে উপকূলীয় এলাকায় হাজারো জেলে পরিবার চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। অনেকের ঘরে চুলা জ্বলছে না, কেউ আবার ধারদেনার চাপে পড়েছেন।
জেলা মৎস্য বিভাগের তথ্যানুসারে, ৪ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই নিষেধাজ্ঞা চলবে আগামী ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত। এ সময় মেঘনা নদীতে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। জেলায় মোট ৪৪ হাজার ১০০ নিবন্ধিত জেলে পরিবারের জন্য ১ হাজার ১০৪ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রতিজন জেলের জন্য ২৫ কেজি করে চাল পাওয়ার কথা থাকলেও, অনেকে সেই সহায়তা থেকে বঞ্চিত। কেউ পেয়েছেন ২০ কেজি, আবার অনেকের নামই নেই তালিকায়।
চর রমনীমোহন ইউনিয়নের বুড়ির ঘাট বেড়িবাঁধের ঢালে বসবাসকারী নারগীস আক্তার জেলে পরিবারের সদস্য। তাঁর স্বামী মিরাজ ছৈয়াল নদীতে ইলিশ ধরেই সংসার চালান। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার কারণে নদীতে যেতে পারছেন না, আবার সহায়তার চালও পাননি। নারগীস বলেন, ‘যদি সরকারি চাল পাইতাম, একটু নিঃশ্বাস নিতে পারতাম। বেলা হইয়া গেল, হাঁড়িতে কিছু দিছি না। নদীতে মাছ পাইলে খাই, না পাইলে না খাই। এখন ধারদেনা বাড়তেছে প্রতিদিন।’
সদর উপজেলার জেলে হারুন মাঝি বলেন, ‘প্রতিবছর অভিযান শুরুর আগে কিছু চাল পাইতাম, এবারে পাই নাই। পরিবার নিয়ে কষ্টে আছি। কিস্তির চাপ, দাদনের টাকা– সব মিলে টানাটানিতে আছি।’
কমলনগরের মতিরহাট এলাকার জেলে সোহেল মাঝি বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা মানি, কারণ মা ইলিশ বাঁচলে আমরাও বাঁচব। কিন্তু আমাদেরও তো বাঁচার জন্য চাল দরকার। এখন ঘরে চাল নাই, শিশুরা না খেয়ে থাকে। আমাদের কষ্ট দেখবে কে?’
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম জানান, মা ইলিশ রক্ষায় সরকারের ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কেউ যেন ঋণের চাপে না পড়ে, সে জন্য এনজিওগুলোকে কিস্তি আদায় বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘লক্ষ্মীপুরের রামগতির আলেকজান্ডার থেকে চাঁদপুরের ষাটনল পর্যন্ত প্রায় ১০০ কিলোমিটার মেঘনা নদীতে এই নিষেধাজ্ঞা চলছে। নিবন্ধিত জেলেদের খাদ্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। কেউ বাদ পড়লে তালিকা সংশোধনের ব্যবস্থা করা হবে।’
- বিষয় :
- ইলিশ
