দুই খামারে গরুর পাশাপাশি দুম্বা প্রজনন
মরুর দুম্বা সীতাকুণ্ডে
বাড়বকুণ্ডের রূপালী এগ্রো লিমিটেডে একটি মা দুম্বা দিয়েছে তিনটি বাচ্চা - সমকাল
এম সেকান্দর হোসাইন, সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম)
প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৬ | ০৭:০৯
| প্রিন্ট সংস্করণ
দুম্বাটির ওজন হবে দুই মণ। দাম হাঁকা হয়েছে তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা। শৌখিন ক্রেতারা দরদাম করছেন। মরুর পশু দুম্বার বিকিকিনি দেখার জন্য অনেকে ভিড় জমিয়েছেন সীতাকুণ্ডের বাড়বকুণ্ড এলাকার রূপালী এগ্রো লিমিটেডে। এখানে ৬টি দুম্বা থেকে প্রজননের মাধ্যমে ৯টি হয়েছে।
অন্যদিকে, ভাটিয়ারী জলিল গেট এলাকার ইউনিক গোট ফার্মে গত এক মাসে ২৫টিসহ চলতি বছরে ৫০টি দুম্বা বিক্রি হয়েছে। এসব দুম্বার দাম প্রায় দেড় কোটি টাকা। তবে এখন আর বিক্রি করার মতো কোনো দুম্বা নেই। ৪৩টি দুম্বা প্রজননের জন্য রাখা হয়েছে। তা আগামী বছরের কোরবানির ঈদে বিক্রি করার সম্ভাবনা রয়েছে।
সীতাকুণ্ডে রূপালী এগ্রো লিমিটেড ও গোট ফার্মে দুম্বা পালন ও প্রজনন সফল হওয়ায় অনেকে স্বতন্ত্রভাবে এই মরুর পশু পালনে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। তবে দুটি প্রতিষ্ঠানই মূলত গরুর খামারি। গরুর পাশাপাশি দুম্বা পালন ও প্রজনন করা হয় সেখানে। শৌখিন ক্রেতাদের দৃষ্টি কাড়ছে মরু দেশের দুম্বা। ৪০-৫০ কেজি ওজনের একেকটা দুম্বার দাম এক লাখ টাকা। ছাগলের তুলনায় এই দাম প্রায় দ্বিগুণ। দুম্বা পালনে ছাগল-ভেড়ার ৫ গুণ বেশি লাভ পাওয়া যায় বলে জানালেন খামারিরা। তারা টার্কি, আওয়াজি ও পারসিয়ান প্রজাতির দুম্বা পালন করেন।
মাত্র তিন মাস বয়সী একটি দুম্বা এক লাখ টাকায় বিক্রি করেছে জলিল গেট এলাকার ইউনিক গোট ফার্ম। অথচ একই বয়সী উন্নত জাতের একটি ভেড়ার দাম সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা। প্রতিটি দুম্বার পেছনে মাসে ওষুধ, খাবারসহ দুই হাজার ৫০০ টাকা খরচ হয়ে থাকে।
প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মরুর দেশের পশু হলেও আমাদের দেশের অন্যান্য পশুর মতো দুম্বাও ঘাসের পাশাপাশি দানাদার খাদ্য খায়। ফলে দুম্বা পালনে খাবারের জন্য অতিরিক্ত ব্যয় করতে হয় না। ছাগল-ভেড়ার চেয়ে দুম্বার রোগবালাই কম।
ইউনিক গোট ফার্ম
ইউনিক গোট ফার্মের মালিক আদনান চৌধুরী প্রথম দুম্বা পালন শুরু করেন ২০২১ সালে। গাজীপুরের একটি রিসোর্ট থেকে নয়টি দুম্বা ক্রয় কিনে এনেছিলেন। মরুর দেশের এই দুম্বার প্রজননে প্রথম দিকে খাদ্যাভ্যাস ও পরিবেশগত নানা কারণে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। তবে সফলতা আসতে সময় বেশি লাগেনি। গত এক বছরে ৫০টি দুম্বার বিক্রি হয়েছে। এখন ৪৩টি দুম্বা প্রজননের জন্য রাখা আছে।
জানা যায়, ২৫ থেকে ৩০ কেজি ওজনের দুম্বা বিক্রি হয়েছে ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকায়। দুই মণ ওজনের দুম্বা বিক্রি হয়েছে দেড় থেকে দুই লাখ টাকায়।
আদনান চৌধুরী আররও বলেন, ‘সাধারণ ক্রেতারা দুম্বাকে ভেড়া মনে করে ভেড়ার সমতুল্য দাম দিতে চান। কিন্তু দুম্বা ভেড়ার চেয়ে আলাদা একটি প্রাণী। এ প্রাণীর মাংস অত্যন্ত সুস্বাদু। দুম্বা কেনার জন্য একটি বিশেষ শৌখিন ক্রেতা শ্রেণি রয়েছে।’
রূপালী এগ্রো
গত বৃহস্পতিবার দুপুরে কথা হয় রূপালী এগ্রো খামারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফাহিম ও মিজানের সঙ্গে। তারা পুরো খামারটি ঘুরে দেখান। প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার মোহাম্মদ শওকত আলী
বলেন, ‘আমরা মূলত গরুর খামারি। আমাদের খামারে ৩৫০টি গরু রয়েছে। গরুর পাশাপাশি দুম্বা পালন ও প্রজনন করা হয়। ২০২৪ সালের নভেম্বরে মেহেরপুর থেকে দুটি পুরুষ দুম্বা ও চারটি নারী দুম্বা কেনা হয়। নয় লাখ টাকায় কেনা হয় এই ছয় দুম্বা। দুটি মা দুম্বা থেকে আরও তিনটি বাচ্চা হয়েছে। সব মিলিয়ে এখন নয়টি দুম্বা রয়েছে খামারে।’
মোহাম্মদ শওকত আলী আরও বলেন, ‘দুম্বাগুলো টার্কি জাতের। দুম্বার খাদ্যাভাস না জানার কারণে শুরুর দিকে আমাদের খরচ বেশি পড়ছিল। এখন সব ধরনের খাবার খেতে অভ্যস্ত দুম্বাগুলো।’
কোরবানির পশুর চাহিদা ও যোগান কমেছে
সীতাকুণ্ড উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা কল্লোল বড়ুয়া বলেন, ‘২০২৫ সালের তুলনায় এবার কোরবানির পশুর চাহিদা ও যোগান কমেছে। তবে এবারে চাহিদার তুলনায় ৩ হাজার ২৩০টি পশু বেশি রয়েছে। কোরবানির পশুর কোন ঘাটতি হবে না। উপজেলার ১২টি বাজারে কোরবানির পশু বেচাকেনা হচ্ছে। ইজারা দেওয়া বাজারগুলোতে দেখাশুনার জন্য বিশেষ টিম থাকবে।’
- বিষয় :
- খামারি
