ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

টানা তিনবার চা পাতা চয়নে সেরা জেসমিন

টানা তিনবার চা পাতা চয়নে সেরা জেসমিন
×

৩০ মিনিটে ১৩ কেজি পাতা চয়ন করেন ফটিকছড়ির নেপচুন বাগানের শ্রমিক জেসমিন আক্তার সমকাল

 ইকবাল হোসেন মনজু, ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) 

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৬ | ০৭:০৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

ফটিকছড়ির নারায়ণহাট ইউনিয়নে অবস্থিত ইস্পাহানি গ্রুপের নেপচুন চা বাগানের শ্রমিক জেসমিন আক্তার। সারাদেশের ১৬৮টি চা বাগানের শ্রমিকদের মধ্যে এবারও তিনি শ্রেষ্ঠ চা পাতা উত্তোলনকারী (চয়নকারী) শ্রমিক নির্বাচিত হয়েছেন। জেসমিন মাত্র ৩০ মিনিটে ১৩ কেজি পাতা চয়ন করতে পারেন। গত এক বছরে তিনি পাতা তুলেছেন ২৬ হাজার ২১৭ কেজি।

প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের চা পাতা চয়নে দেশসেরা চা বাগান শ্রমিক হয়েছিলেন নেপচুন চা বাগানেরই শ্রমিক উপলকক্ষ্মী ত্রিপুরা। ২০২৪-২৬ সালে টানা তিনবার চা পাতা চয়নে দেশসেরা হলেন একই বাগানের জেসমিন আক্তার। ৪২ বছর ধরে এই বাগানে কাজ করছেন তিনি। পুত্র-কন্যা ও স্বামীসহ জেসমিনের পরিবারের আট সদস্য নেপচুন বাগানে কর্মরত।

গত ১৮ মে ৬ষ্ঠ জাতীয় চা দিবস উপলক্ষে শ্রেষ্ঠ চা পাতা উত্তোলনকারী নির্বাচন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে তিনি ‘সেরা চা পাতা চয়নকারী’ নির্বাচিত হন। অনুষ্ঠানে চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ জেসমিনকে অভিনন্দন জানান। ঢাকায় অনুষ্ঠেয় চা দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে তাঁর দেশসেরার পুরস্কার গ্রহণ করার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ চা সংসদ সূত্রে জানা গেছে, চা রপ্তানির পুরোনো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে সরকার উৎপাদনের পাশাপাশি গুণগতমানের চা রপ্তানি বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্বারোপ করেছে। চা রপ্তানিতে উৎসাহ দেওয়ার লক্ষ্যে রপ্তানিতে নগদ ভর্তুকি দেওয়া, শ্রেষ্ঠ চা রপ্তানিকারক ক্যাটেগরিতে জাতীয় চা পুরস্কার দেওয়া, আন্তর্জাতিক মেলায় অংশগ্রহণ, দেশীয় চায়ের প্রচার-প্রচারণা বৃদ্ধিতে দূতাবাসগুলোকে আরও গতিশীল করাসহ নানা ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 
১৯৬০ সালে ফটিকছড়ি উপজেলায় দুই হাজার ৭০০ একর আয়তনবিশিষ্ট পাহাড়-সমতল এলাকায় গড়ে উঠে ইস্পাহানি গ্রুপের নেপচুন চা বাগান। ২০০৯ সালে বৃক্ষরোপণে ‘দেশসেরা চা বাগান’ মনোনীত হয় এটি। ২০২০ সালে গ্রিন ফ্যাক্টরি অ্যাওয়ার্ড পায় 
এই বাগান। দীর্ঘ ৬৫ বছরে নেপচুন চা বাগান চা উৎপাদনে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে। 
জেসমিন আক্তার বলেন, ‘১৬ বছর বয়সে বিয়ের পিঁড়িতে বসে কুমিল্লা থেকে স্বামী আবদুল বারেকের সঙ্গে চলে আসি ফটিকছড়ির নেপচুন চা বাগানে। সেখানে সংসার শুরুর পরপরই স্বামীর সঙ্গে লেগে পড়েন চা বাগানের কাজে। ৪২ বছর ধরে সেই কাজই করে চলেছি। পরপর তিনবার দেশসেরা হতে পেরে সত্যি আনন্দিত, গর্বিত।’
নেপচুন চা-বাগানের ব্যবস্থাপক মো. রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ‘দেশের সব বাগানের মধ্যে নেপচুন চা-বাগান টানা তিনবার দেশসেরা হওয়ায় আমরা গর্বিত। জাতীয় চা দিবস উপলক্ষে প্রবর্তিত এই পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ চা পাতা চয়নকারী ক্যাটাগরিতে জেসমিন আক্তার পরপর তিনবার এ পুরস্কার পান। ভবিষ্যতে এ ধরা অব্যাহত রাখতে আমরা আপ্রাণ চেষ্টা চালাব।’

আরও পড়ুন

×