ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

শিক্ষক দম্পতির শখের বাগান এখন বিনোদন কেন্দ্র

শিক্ষক দম্পতির শখের বাগান  এখন বিনোদন কেন্দ্র
×

ফুলের বাগান পরিচর্যা করছেন শিক্ষক মাসুদুল আলম সমকাল

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৪ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৭:০৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

তারা শিক্ষক দম্পতি। অনেকটা শখের বশে করেছিলেন ফুলের বাগান। সেই বাগানে এখন রয়েছে দেশি-বিদেশি ১৫০ প্রজাতির ফুল। বাগানের সৌন্দর্য বাড়িয়েছে থাইল্যান্ডের উন্নত জাতের ৩০ প্রজাতির গোলাপ।  ফলে ফুল বাগানটি এখন উপজেলার দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে। বাগান দেখতে দূরদূরান্ত থেকে আসছেন মানুষ। প্রতিদিন বিকেলে বাগানে বসে দর্শনার্থীর মেলা। বলছিলাম উপজেলার ছোট মেরুং সওদাগরপাড়ার শিক্ষক দম্পতি নাসরিন আক্তার ও মাসুদুল আলমের ফুল বাগানের কথা।

সরেজমিন দেখা যায়, বাগানজুড়ে রয়েছে নানা প্রজাতির ফুলের সৌরভ। মৌমাছির গুঞ্জন আর রঙিন ফুলের দোলাচলে প্রাণ জুড়িয়ে যায় দর্শনার্থীদের। গ্রামীণ পরিবেশে এমন সুন্দর ফুলের বাগান নিয়ে উচ্ছ্বসিত স্থানীয়রা।

দুই বছর আগে স্থানীয় নাসরিন আক্তার ও মাসুদুল আলম বাড়ির আঙিনায় সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্দেশ্যে ছোট পরিসরে ফুলের বাগান করেন। শুরুতে এটি ছিল নিছক শখের আয়োজন। তবে ধীরে ধীরে দেশি-বিদেশি নানা প্রজাতির ফুলের চারা সংগ্রহ করে বাগানের পরিধি ও বৈচিত্র্য বাড়াতে থাকেন তারা। বর্তমানে এই বাগানে রয়েছে প্রায় ১৫০ প্রজাতির নানা রঙের দেশি-বিদেশি ফুল। এর মধ্যে লাল, সাদা, হলুদ ও বেগুনিসহ প্রায় ৭০ প্রজাতির চন্দ্রমল্লিকা। থাইল্যান্ডের উন্নতজাতের প্রায় ৩০ প্রজাতির গোলাপ বাগানকে করেছে আকর্ষণীয়। দর্শকদের টানে পোর্টুলিকা, গাঁদা, ডালিয়া, পিটুনিয়া, গ্যাজেনিয়া ও সেলোসিয়াসহ নানা প্রজাতির বাহারি ফুল।

স্থানীয়রা জানান, আশপাশে তেমন কোনো বিনোদন কেন্দ্র বা দর্শনীয় স্থান না থাকায় দিনদিন শিক্ষক দম্পতির ফুল বাগান হয়ে উঠেছে বিনোদনকেন্দ্র। দিনদিন বাড়ছে দর্শনার্থীর সংখ্যা। স্থানীয় সংবাদকর্মী প্রবীব সুমন ও জাকির হোসেন বলেন, ‘গ্রামীণ পরিবেশে এত সুন্দর ও বৈচিত্র্যময় ফুলের বাগান নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। ১৫০ প্রজাতির দেশি-বিদেশি ফুলে সাজানো এই বাগান দেখে আমরা মুগ্ধ।’

শিক্ষক নাসরিন আক্তার বলেন, ‘শুরুতে বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষের কোনো পরিকল্পনা ছিল না। শখের বসেই বাড়ির আঙ্গিনা সাজাতে ফুলের বাগান শুরু করেছি। পরে দর্শনার্থীদের আগ্রহ এবং ফুলের টব কেনার চাহিদা দেখে বাণিজ্যিক চিন্তা আসে। এখন ফুলের টব বিক্রি করে এবং ভবিষ্যতে মৌচাষের পরিকল্পনার মাধ্যমে আয় করার পথ তৈরির চিন্তা করছি।’
দীঘিনালা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. শাহাদত হোসেন বলেন, ‘এই অঞ্চলের মাটি ও প্রাকৃতিক পরিবেশ ফুল চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। সঠিক পরিকল্পনা ও উদ্যোগ নিলে ফুল চাষের মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।’
 

আরও পড়ুন

×