আট বন্ধুর ‘পরমেশ্বর’
গানের আয়ে চলে তাদের পড়াশোনা
‘পরমেশ্বর’ ব্যান্ডদলের সদস্যরা সমকাল
আহমেদ কুতুব
প্রকাশ: ১১ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৭:২৯
| প্রিন্ট সংস্করণ
গানের শুরুটা ছিল শখের বশে। কখনও সন্ধ্যার পড়ন্ত বিকেলে কর্ণফুলী নদীর পাড়ে, কখনও কলেজ ক্যাম্পাসে– অবসর সময় পেলেই জমে উঠত গান আর আড্ডা। সেই আড্ডা থেকেই একদিন মাথায় আসে ব্যান্ড গড়ার ভাবনা। আট বন্ধু মিলে গড়েন ভিন্নধারার ব্যান্ডদল ‘পরমেশ্বর’। যাত্রা শুরুর অল্প দিনের মধ্যেই ধরা দেয় সাফল্য। দিন যত গড়াচ্ছে, শহর থেকে গ্রাম– সবখানেই বাড়ছে জনপ্রিয়তার পারদ।
এখন এ ব্যান্ডদলই আট শিক্ষার্থীর কাছে হয়ে উঠেছে আয়ের মাধ্যম। সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে তাদের প্রতিটি গানই বেশ আলোচিত। শহরের অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে মফস্বলের মঞ্চেও এখন ‘পরমেশ্বর’ মানেই দর্শক-শ্রোতার ভিড়। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে চট্টগ্রামে অনলাইন ও অফলাইনে দারুণ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের ভিন্নধারার ব্যান্ডদল ‘পরমেশ্বর’।
ব্যান্ডদল ‘পরমেশ্বর’ যেখানেই যাচ্ছে, সেখানেই দর্শক-শ্রোতাদের মাতিয়ে তুলছেন ভোকাল অর্পূব দাশ। তিনি চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজের ডিগ্রি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। বাড়ি মিরসরাই উপজেলায়। ২০২৪ সাল থেকে চট্টগ্রাম শহরে বসবাস করছেন। আগে পরিবার থেকে পড়াশোনা ও অন্যান্য ব্যয়ের টাকা নিতেন। তবে গত এক বছর ধরে গান করেই নিজের পড়াশোনা ও শহুরে জীবনের সব খরচ চালাচ্ছেন অর্পূব।
ব্যান্ডটির অন্য সদস্যরাও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করছেন। আনোয়ারা কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী আদিত্য চক্রবর্তী ব্যান্ডটির ড্রামার ও ম্যানেজার। চট্টগ্রাম পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী ডেভিড সেন লিড গিটারিস্ট। শ্যামলী আইডিয়াল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী অন্তু দাশ পারকাশনিস্ট। ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি চিটাগংয়ের মার্কেটিং বিভাগের অনার্স শিক্ষার্থী রাহুল তালুকদার বেইজ গিটারিস্ট। ফটিকছড়ি কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী বর্ষণ আচার্য বাবু কি-বোর্ডিস্ট। ওমর গণি এমইএইচ কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী শুভজিৎ দে দ্বিতীয় লিড গিটারিস্ট এবং ইউএসটিসির সিএসআই বিভাগের শিক্ষার্থী অভ্রদীপ দাশ সাইড ভোকাল হিসেবে যুক্ত রয়েছেন।
২০২৪ সালে ‘পরমেশ্বর’ সনাতনী ব্যান্ড হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর থেকে নিয়মিত শহর ও গ্রামের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গাইছে। বর্তমানে ব্যান্ডটির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে অনুসারীর সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১২ লাখ। প্রতিটি গানের ভিডিওতে ভিউ মিলিয়ন ছাড়িয়ে গেছে।
ব্যান্ডের প্রধান শিল্পী অর্পূব দাশ বলেন, ‘মজার ছলে গান করতে করতে আজ আমরা একটি পূর্ণাঙ্গ ভিন্নধারার ব্যান্ড হিসেবে দর্শক-শ্রোতাদের মনে জায়গা করে নিতে পেরেছি। গান থেকে যে আয় হচ্ছে, তা দিয়ে নিজেদের খরচ চালানোর পাশাপাশি অসহায় ও গরিব শিক্ষার্থীদের সহায়তা করি।’
বেইজ গিটারিস্ট রাহুল তালুকদার বলেন, ‘কখনও ভাবিনি ব্যান্ডে গিটারিস্ট হিসেবে স্টেজে দাঁড়াব। সৃষ্টিকর্তার কৃপায় সবই সম্ভব হয়েছে। তবে আমরা সবাই শিক্ষার্থী, তাই পড়াশোনাকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সংগীতচর্চা চালিয়ে যাচ্ছি।’
শাস্ত্রীয় সংগীতের গাম্ভীর্য ও আধুনিকতার গতিময়তার স্বাদ মেলে ‘পরমেশ্মর’-এর গানে। সনাতনী সংগীতকে অগ্রাধিকার দিয়ে হাল আমলের স্টাইলকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয় গান ও পারফরম্যান্সে। ব্যান্ডটির জনপ্রিয় গানের তালিকায় রয়েছে ‘জয় পরমেশ্বর’, ‘মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি’, ‘গ্রামের নওজোয়ান’, ‘যাব না, যাব না, বাড়ি ফিরে যাব না’, ‘এখনো সে বৃন্দাবনে’, ‘মধুমাখা কৃষ্ণ নাম একবার বল’, ‘এসো মা লক্ষ্মী’, ‘জয় রাধে রাধে কৃষ্ণ কৃষ্ণ’, ‘ও শিব নাচোরে’, ‘ও আমার দেশের মাটি’, ‘আমি বাংলায় গান গাই।’
- বিষয় :
- ব্যান্ড দল
