বোধনের বসন্তবন্দনা
আমবাগানে বোধন আবৃত্তি পরিষদের বসন্ত উৎসবে নৃত্য পরিবেশন করেন একদল শিল্পী সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৭:৪২
| প্রিন্ট সংস্করণ
‘আজি বসন্ত জাগ্রত দ্বারে। তব অবগুণ্ঠিত কুণ্ঠিত জীবনে’, ‘এলো বনান্তে বসন্ত। বনে বনে মনে মনে রং ছড়ায় রে, চঞ্চল তরুণ দুরন্ত ...।’
শীতকে আনুষ্ঠানিক বিদায় দিয়ে ভালোবাসার দিনে ফাল্গুনী সমীরণ; পাতাঝরা পলাশ আর শিমুলের ডালে ডালে যে রং লেগেছে, তাকে বরণ করতে আবৃত্তি সংগঠন বোধন আবৃত্তি পরিষদ, চট্টগ্রাম পহেলা ফাল্গুন গতকাল শনিবার বন্দর নগরীর পাহাড়তলীর শহীদ ওয়াসিম পার্কে আয়োজন করে বসন্ত উৎসব-১৪৩২।
উৎসবের আঙিনায় ছিল সংগীত, নৃত্য, আবৃত্তি, ঢোলবাদন, কথামালা, শোভাযাত্রা, যন্ত্রসংগীতসহ নানা আয়োজন। সকাল ৯টায় ভায়োলিনিস্ট চিটাগংয়ের যন্ত্রসংগীতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় বসন্ত উৎসবের আয়োজন। বসন্তের হাওয়ায় দলীয় নৃত্যে অংশ নেন নৃত্যরূপ, সুরাঙ্গন বিদ্যাপীঠ, দ্য স্কুল অব ক্লাসিক্যাল অ্যান্ড ফোক ডান্স, নৃত্য নিকেতন, মাধুরী ডান্স একাডেমির শিল্পীরা। গানে গানে দলীয় সংগীতে বসন্তকে স্বাগত জানান সুর পঞ্চম, আর কে মিউজিক, বাগেশ্বরী। একক গান পরিবেশন করেন কেশব জীপসী, ঋষু তালুকদার, চন্দ্রিমা ভৌমিক রাত্রি, কান্তা দে, সুমিতা সরকার, রিনা দাশ, মনি আচার্য্য। তবলা লহড়ায় ছিলেন উঠান সংগীত বিদ্যালয়।
একক আবৃত্তি করেন কংকন দাশ, মিশফাক রাসেল, দেবাশীষ রুদ্র। ঢোলবাদনে ছিলেন দীপক ও তার দল। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যভাগে হয় বসন্তকথন পর্ব। এতে অংশ নেন চট্টগ্রামের সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, বোধনের সহসভাপতি সুবর্ণা চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল সোহেল, অর্থ সম্পাদক অনুপম শীল।
মানবিক, অসাম্প্রদায়িক ও শোষণহীন সমাজ গঠনের জন্য বাঙালির এসব উৎসব-পার্বণগুলোর গুরুত্ব অপরিসীম উল্লেখ করে এ সময় বক্তারা বলেন, সারা বছরের নানা বঞ্চনা, নানা টানাপোড়েনের গ্লানি মুছে যায় এ বসন্তে। এই ফাগুনেই রক্তে রঞ্জিত হয়েছে বাংলার রাজপথ। বুকের রক্তে বাঙালি রক্ষা করেছে মাতৃভাষার মর্যাদা।
পরে একক ও দলীয় আবৃত্তি পরিবেশন করেন বোধন আবৃত্তি পরিষদের আবৃত্তিশিল্পীরা। পুরো অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় ছিলেন গৌতম চৌধুরী, পলি ঘোষ, শ্রেয়সী স্রোতস্বিনী, ঋত্বিকা নন্দী, পল্লব গুপ্ত। অনুষ্ঠান শেষে বসন্তবরণে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়।
- বিষয় :
- বসন্ত বরণ
