ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

হেলে পড়া ভবনে মৃত্যুর সঙ্গে বাস

অভিযোগ দেওয়ার পরও চুপচাপ পটিয়া পৌরসভা

হেলে পড়া ভবনে মৃত্যুর সঙ্গে বাস
×

মুন্সেফবাজার এলাকায় নির্মাণাধীন মনির টাওয়ার পাশের এমএস টাওয়ারের দিকে হেলে পড়েছে সমকাল

 পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১৩:৪৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

পটিয়া পৌরসভার চট্টগ্রাম-কক্সবাজার আরকান মহাসড়ক সংলগ্ন এলাকায় অনুমোদিত নকশা ও সয়েল টেস্ট উপেক্ষা করে নির্মাণাধীন একটি বহুতল বাণিজ্যিক ভবন পাশের ভবনের ওপর হেলে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় এলাকাজুড়ে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। পাশের ভবনের মালিক ও ভাড়াটিয়ারা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। এ ঘটনায় পটিয়া পৌরসভার প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার-আরকান মহাসড়কের মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালের সামনে অবস্থিত এমএস টাওয়ারের পাশেই ‘মনির টাওয়ার’ নামে একটি বহুতল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। এমএস টাওয়ারের মালিক বর্তমানে প্রবাসে অবস্থান করলেও তাঁর পিতা সামশুল আলম ইউএনও বরাবর দায়ের করা লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, অনুমোদিত নকশা ও নির্মাণ বিধিমালা না মেনে ভবন নির্মাণের ফলে মনির টাওয়ারটি তাদের ভবনের দিকে হেলে পড়েছে।

সামশুল আলম অভিযোগে আরও জানান, ভবনটির মালিক, প্রকৌশলী ও নির্মাণকর্মীদের একাধিকবার মৌখিকভাবে বিষয়টি জানানো হলেও তারা দ্রুতগতিতে নির্মাণকাজ চালিয়ে যান। পরে ভবন হেলে পড়ার বিষয়টি আড়াল করতে সম্প্রতি তাদের ভবনের ছাদের হেলে পড়া অংশ প্রায় ছয় ইঞ্চি পরিমাণ গ্রাইন্ডার মেশিন দিয়ে কেটে ফেলা হয়। তবুও দিনদিন ভবনটি আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণভাবে তাদের ভবনের ওপর হেলে পড়ছে বলে তিনি দাবি করেন।

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এমএস টাওয়ারে একটি ব্যাংক, ডাক্তারের চেম্বারসহ একাধিক ভাড়াটিয়া প্রতিষ্ঠান রয়েছে। বর্তমানে ভাড়াটিয়ারা চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। যে কোনো সময় নির্মাণাধীন ভবনটি ধসে পড়লে বা পুরোপুরি হেলে পড়লে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। এজন্য দ্রুত সরেজমিন তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্মাণাধীন মনির টাওয়ারের মালিক মনির হোসেনের খালাতো ভাই পরিচয়দানকারী মোহাম্মদ দিদার বলেন, ভবনের মালিক বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন এবং নির্মাণকাজ তাঁর অনুপস্থিতিতেই চলছে। তিনি স্বীকার করেন যে ভবনটি কিছুটা হেলে পড়েছে। তবে তাঁর দাবি, পটিয়া পৌর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পাঁচতলা ভবনের বৈধ অনুমোদন নিয়েই নির্মাণ করা হচ্ছে এবং অনুমোদনের বাইরে কোনো তলা নির্মাণ করা হয়নি। তাঁর ভাষায়, ‘আমরা নিয়ম মেনেই কাজ করছি। ভবন সামান্য হেলে পড়েছে ঠিক, কিন্তু এটি নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই আছে।’
একই সঙ্গে তিনি পাল্টা অভিযোগ তুলে বলেন, পাশের এমএস টাওয়ার পাঁচতলা ভবনের অনুমোদন নিয়ে অতিরিক্ত তলার কাজ করছে, যা নিজেই ঝুঁকিপূর্ণ। তাঁর মতে, শুধু মনির টাওয়ারকে দায়ী না করে আশপাশের ভবনগুলোর অনিয়মও খতিয়ে দেখা জরুরি। একপাক্ষিকভাবে দায় চাপালে প্রকৃত সমস্যার সমাধান হবে না।

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এত সংকীর্ণ জায়গায় এবং ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় পৌরসভা কীভাবে বহুতল বাণিজ্যিক ভবনের অনুমোদন দেয়– তা তাদের বোধগম্য নয়। ঝুঁকিপূর্ণভাবে ভবন হেলে পড়ায় এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই পরিবার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নিয়ে চরম উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন। স্থানীয়দের প্রশ্ন, ভবনটি যদি কোনো দুর্ঘটনার শিকার হয়, তাহলে এর দায় কি শুধুই মালিকের, নাকি অনুমোদন প্রদানকারী পৌর কর্তৃপক্ষও দায় এড়াতে পারে না?
পটিয়া পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান খন্দকার বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে অবগত নন। তবে তিনি জানান, কয়েকদিনের মধ্যেই সরেজমিন গিয়ে ভবনটির অবস্থা দেখা হবে। তদন্তে যদি কোনো ধরনের অনিয়ম বা ঝুঁকি পাওয়া যায়, তাহলে সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অন্যদিকে পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহানুর রহমান বলেন, এখনও পর্যন্ত এ সংক্রান্ত কোনো লিখিত অভিযোগ তার হাতে পৌঁছায়নি। তিনি জানান, গত দুই দিন পটিয়ার বাইরে অবস্থান করায় বিষয়টি নজরে আসেনি। তবে অভিযোগ হাতে পেলেই সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও কর্তৃপক্ষকে সঙ্গে নিয়ে দ্রুত সরেজমিন তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
 

আরও পড়ুন

×