২০ মিনিটের সাগর পাড়ি দিতে লাগছে ৩ ঘণ্টা
আনোয়ারুল হায়দার, নোয়াখালী
প্রকাশ: ০৫ এপ্রিল ২০২৬ | ০৭:২১
| প্রিন্ট সংস্করণ
জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটের কারণে নোয়াখালী-হাতিয়া নৌরুটে গত ১৫ দিন ধরে স্পিডবোট চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগের পাশাপাশি বেকার হয়ে পড়েছেন শতাধিক শ্রমিক। স্পিডবোট চলাচল অনির্দিষ্টকাল বন্ধের আশঙ্কা রয়েছে।
চেয়ারম্যানঘাট-নলচিরা নৌপথে দীর্ঘদিন ধরে প্রায় ৭০টি স্পিডবোট চলাচল করলেও বর্তমানে তা সম্পূর্ণ বন্ধ। তবে বিকল্প হিসেবে কাঠের ট্রলার, ফেরি ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) সি-ট্রাক সীমিত আকারে চলাচল করছে। আগে যেখানে স্পিডবোটে মাত্র ২০-২৫ মিনিট সময় লাগত, এখন সেখানে যাত্রীদের আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা সময় ব্যয় করতে হচ্ছে।
হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল ইকবাল বলেন, ‘হাতিয়ায় জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয় বরিশালের মেঘনা পেট্রোলিয়াম ডিপো থেকে। তারা চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ করতে পারছে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘হাতিয়ায় মাসে পেট্রোল ও অকটেনের চাহিদা প্রায় তিন লাখ লিটার, কিন্তু সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১৪ হাজার ৪০০ লিটার। ঘাটতি ২ লাখ ৮৫ হাজার লিটার। ডিজেলের চাহিদা ১২ লাখ লিটার, সেখানে সরবরাহ মাত্র ১ লাখ ৬৫ হাজার লিটার– ঘাটতি ১০ লাখ ৩৫ হাজার লিটার। সরবরাহ বাড়াতে ডিপোতে চিঠি দেওয়া হয়েছে।’
ঘাট ইজারাদার আবদুল মতিন ও মাহির উদ্দিন জানান, আগে নলচিরা-চেয়ারম্যানঘাট রুটে নিয়মিত ৭০টি স্পিডবোট চলাচল করত। কিন্তু গত ১৮ মার্চ থেকে তেলের সংকট তীব্র হওয়ায় স্পিডবোট চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। তিন কোটি টাকা দিয়ে ঘাট ইজারা নিয়েছি। এখন আয় নেই। বিনিয়োগের অর্ধেকও উঠবে কি না সন্দেহ।’
স্পিডবোটচালক নলচিরা ঘাট এলাকার বাসিন্দা মো. জুয়েল উদ্দিন ও ওছখালি গ্রামের মো. হৃদয় হোসেন বলেন, ‘জ্বালানি তেলের অভাবে স্পিডবোট চালানো সম্ভব হচ্ছে না। তেল না পেলে অনির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বন্ধ থাকবে চলাচল।’ তারা জানান, নলচিরা থেকে চেয়ারম্যানঘাট পর্যন্ত ১৮ কিলোমিটার নৌপথ স্পিডবোটে পাড়ি দিতে ২০-২৫ মিনিট সময় লাগে। ভাড়া জনপ্রতি ৩০০ টাকা। একটি বোটে ২৫-২৬ জন যাত্রী বহন করা যায়। একবার নদী পার হতে প্রয়োজন হয় প্রায় ২০ লিটার জ্বালানি তেল। অন্যদিকে, কাঠের নৌকা, সি-ট্রাক ও ফেরিতে একই পথ পাড়ি দিতে লাগে আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা, ভাড়া ১৫০ টাকা।
চালকদের অভিযোগ, সরকারি সংস্থা মেঘনা অয়েল কোম্পানির ডিলারদের কাছেও তেল পাওয়া যাচ্ছে না। কবে সরবরাহ স্বাভাবিক হবে, তাও কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছে না। স্পিডবোট লাইনম্যান রাকিব উদ্দিন বলেন, ‘৭০টি স্পিডবোট বন্ধ থাকায় প্রায় ১৫০ জন শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন। তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।’
যাত্রীদের দুর্ভোগও বেড়েছে কয়েকগুণ। নিয়মিত যাত্রী হাতিয়া উপজেলার ওছখালির বাসিন্দা মো. ফিরোজ উদ্দিন বলেন, ‘আগে স্পিডবোটে ২০ মিনিটে নলচিরা থেকে চেয়ারম্যানঘাটে পৌঁছে দেড় ঘণ্টার মধ্যে জেলা শহর মাইজদীতে কাজ সেরে ফিরে আসা যেত। এখন নদী পার হতে আড়াই-তিন ঘণ্টা লেগে যায়। এতে সময় নষ্ট হচ্ছে, কাজও করা যাচ্ছে না।’
নোয়াখালী জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘হাতিয়াসহ জেলার ৯টি উপজেলায় নিয়মিত জ্বালানি তেল সরবরাহ হচ্ছে। তবে হঠাৎ চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় কিছুটা সমস্যা তৈরি হয়েছে। এই সংকট সাময়িক, খুব শিগগিরই সমাধান হবে।’
- বিষয় :
- ট্রলার
