‘ যে সমাজে সংগীতচর্চা থাকে সেই সমাজ পথভ্রষ্ট হয় না’
বাগীশ্বরী সংগীতালয়ের ২১ বছর পূর্তি উপলক্ষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অতিথিদের সঙ্গে সংবর্ধিত শিক্ষকরা সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৬ এপ্রিল ২০২৬ | ০৬:৫৭
| প্রিন্ট সংস্করণ
‘সংগীতচর্চা একটি সমাজকে সুস্থ, মানবিক ও পথভ্রষ্টতা থেকে দূরে রাখে, সংগীত মানুষের আত্মার ভাষা; এটি ব্যক্তি ও সমাজকে করে তোলে আরও সুন্দর, সৃজনশীল ও মূল্যবোধসম্পন্ন। প্রযুক্তিনির্ভর এই সময়ে মানবিক মূল্যবোধ রক্ষায় সাংস্কৃতিক চর্চার গুরুত্ব অপরিসীম। এ ক্ষেত্রে বাগীশ্বরীর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো আলোর দিশারি হিসেবে কাজ করছে।’
চট্টগ্রামের থিয়েটার ইনস্টিটিউট চট্টগ্রাম (টিআইসি) মিলনায়তনে বাগীশ্বরী সংগীতালয়ের ২১ বছর পূর্তি উপলক্ষে গত ২১ ও ২২ এপ্রিল দুদিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সমাপনী দিনে আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন বক্তারা। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সরকারি চারুকলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রীতা দত্ত। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনের সুরকার ও সংগীতশিল্পী আব্দুর রহিম। সভাপতিত্ব করেন বাগীশ্বরী সংগীতালয়ের সভাপতি লায়ন কৈলাশ বিহারী সেন, স্বাগত বক্তব্য দেন অধ্যক্ষ রিষু তালুকদার। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আবৃত্তিশিল্পী অদিতি সাহা।
আলোচনা সভায় বক্তারা আরও বলেন, ‘সাংস্কৃতিক চর্চা একটি জাতিকে অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক করে তোলে। তরুণ প্রজন্মকে মাদক, সহিংসতা ও নৈতিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখতে সংগীত ও শিল্পচর্চার কোনো বিকল্প নেই। তারা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, শিল্পচর্চার পাশাপাশি দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠাই হওয়া উচিত প্রধান লক্ষ্য।’
অনুষ্ঠানে বাগীশ্বরী সংগীতালয়ের ২১ বছর পূর্তি উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক সাংবাদিক যীশু সেন, সদস্য সচিব প্রকৌশলী রিমন সাহা, ব্যাংকার উৎপল চক্রবর্তী, ডা. সৌমিত্র দাশ, অধ্যাপক ছন্দা শর্মা, শিক্ষক মো. মশিউল আনোয়ার খান, শিক্ষক এনি নাথ, শিক্ষক সমীরণ সেন, শিক্ষক পলাশ দে বক্তব্য রাখেন।
সমাপনী অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল অর্ধশত শিক্ষক-শিক্ষিকাকে সংবর্ধনা প্রদান। দীর্ঘদিন ধরে সংগীত শিক্ষায় অবদান রাখা এসব গুণী শিক্ষককে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। আয়োজনে একক, দ্বৈত ও দলীয় সংগীতে প্রায় চার শতাধিক শিল্পী অংশ নেন। সুফিয়া কামাল, বেগম রোকেয়া, কবি আল মাহমুদ, জসীম উদ্দিন ও জীবনানন্দ দাশের নামে গঠিত বিভিন্ন গ্রুপের পরিবেশনায় টিআইসি মিলনায়তন মুখরিত হয়ে ওঠে সুরের মূর্ছনায়।
সংগীতানুষ্ঠানে শিল্পীদের পরিবেশনা যেমন ছিল হৃদয়গ্রাহী, তেমনি যন্ত্রসংগীতে কিবোর্ড, তবলা, বাঁশি ও গিটারসহ বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রের সুরে পুরো আয়োজন পায় ভিন্ন মাত্রা।
সংবর্ধিত শিক্ষক-শিক্ষিকারা হলেন ছন্দা শর্মা, সৌমেন দাশ, রশ্মি চৌধুরী, শান্তা চক্রবর্তী, লাবনী প্রভা দত্ত, যীশু সেন, পম্পি মল্লিক, স্বাতী সেন, সুস্মিতা দাশ, এনি নাথ, সরস্বতী চৌধুরী, মোঃ মশিউল আনোয়ার খান, শিপীকা কুণ্ডু, পুতুল রাণী ধর, জয়ন্তী রাণী রায়, তুলিকা ভট্টাচার্য্য, ঝুমুর খাস্তগীর, শুভ্রা চৌধুরী, জয়শ্রী দত্ত, বর্ণা তালুকদার, সনাতন দাশ, রূপক ভট্টাচার্য্য, নিরুপম দাশ, মুন্না ভট্টাচার্য্য, সুমি সেন, মনিষা সরকার, জয়শ্রী চক্রবর্তী, সুভাষ চক্রবর্তী, রুমকি সেন, সমীরন সেন, রুমি দত্ত, কলি সরকার, সুধাংশু বিকাশ দাস, ডা. সৌমিত্র দাশ, শোমা খাস্তগীর, প্রিয়াংকা দত্ত, কনিকা পাল, রনি চক্রবর্তী, বিজয়লক্ষ্মী দত্ত, মম দাশ, তমা দত্ত, পলাশ দে, অদিতি সাহা।
- বিষয় :
- সাংস্কৃতিক জোট
