কৃষকের ভরসা সোলার সেচ পাম্প, খরচ অর্ধেক
হাইলধর গ্রামে ধানি জমিতে স্থাপন করা হয়েছে সোলার চালিত সেচ পাম্প। এতে অর্ধেক খরচে জমিতে সেচ দিতে পারছেন চাষিরা সমকাল
মো. নেজাম উদ্দিন, আনোয়ারা (চট্টগ্রাম)
প্রকাশ: ২৬ এপ্রিল ২০২৬ | ০৬:৫৯
| প্রিন্ট সংস্করণ
জ্বালানি সংকট ও তীব্র লোডশেডিংয়ের এই সময় আনোয়ারা উপজেলার কৃষকদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে উঠেছে সৌরবিদ্যুৎচালিত সেচ পাম্প। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) স্থাপিত এই পাম্প দ্বারা ডিজেল বা বিদ্যুতের ঝামেলা ছাড়াই সহজে জমিতে সেচ দেওয়া যাচ্ছে। ফলে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে সেচ খরচ।
আনোয়ারা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামীম আহমেদ সরকার বলেন, ‘এটি সরকারের একটি পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ। এর ফলে পরিবেশ দূষণ কমছে এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের ওপর চাপ হ্রাস পাচ্ছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রকল্প আরও সম্প্রসারণ করা হলে কৃষি খাতে বড় পরিবর্তন আসবে।’
বিএডিসি সূত্রে জানা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলায় ভূ-উপরিভাগের পানি ব্যবহারের মাধ্যমে সেচ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আনোয়ারা উপজেলার হাইলধর ও পরৈকোড়া ইউনিয়নে ১ দশমিক ৫ কিউসেক ক্ষমতার দুটি সোলার এলএলপি সেচ পাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে হাইলধর ইউনিয়নের স্কিমটি ইতোমধ্যে চালু হয়েছে, যার মাধ্যমে প্রায় ১০ হেক্টর জমিতে সেচ দেওয়া হচ্ছে। অপরদিকে, পরৈকোড়া ইউনিয়নের স্কিমটি চালু হলে আরও ১০ হেক্টর জমি চাষের আওতায় আসবে।
হাইলধর ইউনিয়নের কৃষক আবু তালেব বলেন, ‘সোলার সেচ পাম্প চালুর পর চাষের খরচ অনেকটাই কমেছে। আগে প্রতি কানি জমিতে সেচ দিতে ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকা খরচ হতো, এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ হাজার ৬০০ টাকায়। এ ধরনের পাম্প আরও স্থাপন করা হলে সব কৃষকই উপকৃত হবে।’
স্কিমের পরিচালক জানান, এই পাম্প পরিচালনায় কোনো ডিজেল বা বিদ্যুতের প্রয়োজন হয় না। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত পাম্প চালু রাখা হয়। আগে যেখানে প্রতি কানি জমিতে ২ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া হতো, এখন নেওয়া হচ্ছে ১ হাজার ৬০০ টাকা। এতে কৃষকরা যেমন খুশি, তেমনি পরিচালনাও হয়েছে ঝামেলামুক্ত।
বিএডিসির উপ-সহকারী প্রকৌশলী আজমানুর রহমান বলেন, ‘বর্তমানে আনোয়ারায় দুটি সোলার সেচ পাম্প স্থাপন করা হয়েছে। একটি চালু হয়েছে এবং অন্যটির কাজ চলমান রয়েছে। ভবিষ্যতে উপজেলাজুড়ে আরও শ্যালো সোলার পাম্প স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে, যা কৃষি খরচ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
জানা গেছে, আনোয়ারা উপজেলায় বোরো মৌসুমে প্রায় ১৪ হাজার কৃষক ৪ হাজার ৪৪০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ করেছেন। উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের মধ্যে বর্তমানে হাইলধর ইউনিয়নের ১০ হেক্টর জমি সোলার সেচ পাম্পের আওতায় এসেছে এবং পরৈকোড়া ইউনিয়নের আরও ১০ হেক্টর জমি সোলার সেচ পাম্পের আওতায় আনার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
চাষিরা বলছেন, উপজেলার বাকি ইউনিয়নগুলোর কৃষিজমিও যদি পর্যায়ক্রমে সোলার সেচ পাম্পের আওতায় আনা যায়, তাহলে হাজারো কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন। এতে একদিকে যেমন কৃষি উৎপাদন ব্যয় কমবে, অন্যদিকে সেচ ব্যবস্থায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়বে। কৃষকের স্বার্থে দ্রুত সময়ের মধ্যে উপজেলার সব ইউনিয়নে সোলার সেচ পাম্প সম্প্রসারণের দাবি জানিয়েছেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা।
- বিষয় :
- সোলার সিস্টেম
