ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ডায়ালাইসিস শুরু

এখন আর রোগীকে ছুটতে হয় না অন্য হাসপাতালে

এখন আর রোগীকে ছুটতে হয় না অন্য হাসপাতালে
×

 শৈবাল আচার্য্য

প্রকাশ: ০৩ মে ২০২৬ | ০৭:০৪

| প্রিন্ট সংস্করণ

কিডনির কার্যকারিতা অনুযায়ী প্রতি মাসে একজন রোগীকে কমপক্ষে ৮ থেকে ১২ বার পর্যন্ত কিডনি ডায়ালাইসিস করাতে হয়। বেসরকারিভাবে একবার ডায়ালাইসিস করতে রোগীকে গুনতে হয় সাড়ে ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা। এ হিসাবে ডায়ালাইসিস বাবদ একজন রোগীর প্রতি মাসে প্রয়োজন হয় ৪০ থেকে ৬০ হাজার টাকার মতো। স্বাভাবিকভাবেই এত টাকা একজন গরিব-অসহায় রোগীর পক্ষে বহন করা অসম্ভব। কেননা চট্টগ্রাম অঞ্চলে ডায়ালাইসিস সেবার প্রয়োজন হওয়া রোগীদের প্রায় ৯০ শতাংশই কম আয়ের খেটে খাওয়া অসহায় মানুষ। তাই এসব গরিব-অসহায় রোগীদের একমাত্র ভরসা সরকারি হাসপাতাল। এতদিন সরকারিভাবে কেবল চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালেই এ সেবা পাওয়ার সুযোগ ছিল। নগরের আন্দরকিল্লায় অবস্থিত ১২৫ বছরের পুরোনো হাসপাতালে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে আগে সেই সুবিধা ছিল না। অবশেষে সরকারি এই হাসপাতালে চালু হয়েছে কিডনি ডায়ালাইসিস সেবা কার্যক্রম। এতে রোগী-স্বজনরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।

সংকটাপন্ন এক কিডনি রোগীর ডায়ালাইসিসের মাধ্যমে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে প্রথমবারের মতো এ সেবা চালু হয়েছে। হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ও সহযোগী অধ্যাপক (কার্ডিওলজি) ডা. মো. একরাম হোসেন এই সেবা উদ্বোধন করেন। 

উল্লেখ্য, হাসপাতালে কোনো কিডনি ডায়ালাইসিস মেশিন ছিল না। যে কারণে কিডনির জটিলতা নিয়ে অনেক রোগী এখানে চিকিৎসার জন্য ছুটে এলেও ডায়ালাইসিস সেবা পেতেন না। সম্প্রতি একজন দাতা জেনারেল হাসপাতালে একটি ডায়ালাইসিস মেশিন দান করেন। হাসপাতালের চিকিৎসকরা বলছেন, প্রাথমিকভাবে শুধু ভর্তি রোগীদের এই ডায়ালাইসিস সেবাটি দেওয়া হবে।
হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগের ইনচার্জ ডা. রাজদ্বীপ বিশ্বাস বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে একটি ডায়ালাইসিস মেশিন চালু করা হয়েছে। এটি দিয়ে হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি রোগীদের প্রয়োজনীয় ডায়ালাইসিস করা হবে। দীর্ঘদিন পর আমাদের হাসপাতালে রোগীকে ডায়ালাইসিস সেবার আওতায় আনতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। এর ফলে রোগীরা যেমন সহজে ডায়ালাইসিস সেবা পাবেন, তেমনি অন্য কোনো হাসপাতালে যাওয়ার দুর্ভোগও আর পোহাতে হবে না। এতে রোগীদের টাকা ও সময়ও সাশ্রয় হবে।’ 
আইসিইউ বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. মৌমিতা দাশ বলেন, ‘হাসপাতালে ডায়ালাইসিস সেবা চালুর মাধ্যমে রোগীদের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ব্যয় কিছুটা কমে আসবে। এর ফলে এক

 হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছুটোছুটি করার মতো ভোগান্তি থেকেও মুক্তি পাবে। এখন থেকে একই হাসপাতালেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হবে। অনেক বছর পর হলেও সেবা ডায়ালাইসিস কার্যক্রম শুরু হওয়ায় আমরা আনন্দিত।’ 

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা দিনমজুর লোকমান হোসেন বলেন, ‘প্রতিনিয়ত যে হারে মানুষের ব্যয় বাড়ছে, সে হারে বাড়ছে না আয়। তাই আমাদের মতো খেটে খাওয়া কম আয়ের মানুষের 
একমাত্র ভরসা সরকারি হাসপাতাল। সরকারিভাবে যত বেশি চিকিৎসা পাওয়া সহজলভ্য হবে তা আমাদের জন্য অনেক বড় আশীর্বাদ। হাসপাতালে ডায়ালাইসিস সেবা কার্যক্রম চালু হওয়ায় আমরা আনন্দিত। আমরা চাই গরিব রোগীদের কথা বিবেচনা করে সকল চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করুক সরকার ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা।’
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) পরিচালিত এক গবেষণার তথ্য বলছে, নিয়মিত ডায়ালাইসিস সেবা নিতে গিয়ে রোগীদের মাসে গড়ে ৪৬ হাজারের উপরে ব্যয় হয়। এই ব্যয় সামাল দিতে গিয়ে ৯৩ শতাংশ রোগীর পরিবার আর্থিক সমস্যায় পড়ে। টাকার অভাবে সাড়ে ১৯ শতাংশ রোগী প্রয়োজনের চেয়ে কম ডায়ালাইসিস করান। কম ডায়ালাইসিস করানো রোগীদের মধ্যে ৯৫ শতাংশই কারণ হিসেবে অনেক বেশি ব্যয়ের কথা উল্লেখ করেছেন। এতে আরও বলা হয়- ডায়ালাইসিসের পেছনে একজন রোগীকে মাসে সর্বনিম্ন ৬ হাজার ৬৯০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকার উপরে খরচ করতে হয়। বেসরকারি হাসপাতালে মাসে একজন রোগীর গড়ে খরচ হয় ৭৭ হাজার ৫৮৯ টাকা। যা সরকারিতে পড়ে ৩২ হাজার ৫৫২ টাকা। সবচেয়ে বেশি খরচ হয় ডায়ালাইসিস ফি ও হাসপাতালে যাতায়াত বাবদ।

আরও পড়ুন

×