ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

ঘর-দোকান থেকে ময়লা পানি বের করতেই দিন শেষ

জিইসি থেকে আগ্রাবাদ

ঘর-দোকান থেকে ময়লা পানি বের করতেই দিন শেষ
×
×

বৃষ্টিতে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকায় হাঁটুপানি জমে যায়, চলাচলে দুর্ভোগে পড়েন মানুষ সমকাল

 শৈবাল আচার্য্য

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬ | ০৭:২৪

| প্রিন্ট সংস্করণ

টানা কয়েকদিন ধরে বৃষ্টি আর জলাবদ্ধতায় নাকাল চট্টগ্রাম নগরবাসী। নগরীর অনেক ছোট-বড় দোকানে পানি ঢুকে গিয়েছিল। বৃষ্টি কমার পর নিজ প্রতিষ্ঠান থেকে পানি অপসারণেই ব্যস্ত সময় পার করতে হচ্ছে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের। এখনও কোথাও জমে আছে পানি, ময়লা-আবর্জনা। শুক্রবার নগরের জিইসি থেকে আগ্রাবাদ পর্যন্ত ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে।
জিইসি মোড়ের সেন্ট্রাল প্লাজার সামনে, সানমার ওশান সিটির বিপরীতে, গরিবুল্লাহ শাহ, ওয়াসার মোড়ের কয়েকটি স্থানে দোকানপাট, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়ির সামনে পানি জমে থাকতে দেখা গেছে। কয়েকটি স্থানে বৃষ্টি আর জলাবদ্ধতার প্রভাবে সড়কে তৈরি হয়েছে ছোট-বড় গর্ত। কয়েকটি স্থানে নির্মাণরত নানা স্থাপনার চারপাশে দেওয়া হয়েছে বাঁশ।  

জিইসি মোড়ে কথা হয় ভাসমান দোকানদার মো. লোকমানের সঙ্গে। শুক্রবার দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত দোকান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করেছেন তিনি। লোকমান বলেন, ‘টানা বৃষ্টিতে আয় রোজগার শূন্যে নেমেছে। দোকানে ও ঘরে পানি ঢুকে নানা জিনিস নষ্ট হয়ে গেছে। পানির সঙ্গে ঢুকেছে পোকামাকড়ও। এসব পরিষ্কার করতে করতেই দিন শেষ। আবার ভারী বৃষ্টি শুরু হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।’ 
মুরাদপুর থেকে ১০ নম্বর সিটি সার্ভিসে করে আগ্রাবাদে যাতায়াত করা চাকরিজীবী মুনতাহা ইসলাম বলেন, ‘কয়েকদিনের বৃষ্টিতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। এক থেকে দেড় ঘণ্টা অপেক্ষায় থেকেও গাড়ি পাওয়া যায়নি। বাসা থেকে অফিসে আসতে ও অফিস থেকে বাসায় ফিরতে নাজেহাল অবস্থায় পড়তে হয়েছে। বৃষ্টি কিছুটা কমার পরও ভোগান্তি থেকে রেহায় মিলছে না। সেইসঙ্গে প্রায় সড়কে এখন ছোট-বড় গর্ত তৈরি হয়েছে; যা যানবাহন চলাচলে বাধার সৃষ্টি করছে।’ 

প্রবর্তক এলাকার বাসিন্দা সুমন চৌধুরী বলেন, ‘বৃষ্টি কমলেও এলাকার অলিগলিতে এখনও ময়লা-আবর্জনা জমে রয়েছে। এ অবস্থায় সড়ক দিয়ে হাঁটাচলা করতে গিয়ে সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। ময়লা-আবর্জনা অপসারণে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের আরও দ্রুত কাজ করা উচিত। এত এত ট্যাক্স দিয়েও এমন চরম ভোগান্তি আর সহ্য হচ্ছে না।’ আবহাওয়া অফিসের তথ্য বলছে, চট্টগ্রামে ছয় দিনে এক হাজার ৮০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে গত ৭ জুলাই একদিনেই সর্বোচ্চ ৪১২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে; যা ৪২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে ১৯৮৩ সালের ৪ আগস্ট সর্বোচ্চ ৫১১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছিল সংস্থাটি। 

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ বশির আহমেদ বলেন, ‘মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় টানা কয়েকদিন ধরে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। আরও কয়েকদিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।’
 কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) চট্টগ্রাম জেলার সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলেন, ‘পাঁচ দিনের অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড় ধসের ঘটনায় আমরা উদ্বিগ্ন। গত কয়েক বছর ধরে জলাবদ্ধতার কারণে চট্টগ্রামবাসীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। প্রশাসনের অদক্ষতা, সমন্বয়হীনতা, অপরিকল্পিত নগর ব্যবস্থাপনা এবং উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর অগ্রগতি হয়নি। প্রতি বর্ষা মৌসুমে কিছু উদ্যোগের কথা শোনা গেলেও বছরের বাকি সময়ে দৃশ্যমান কোনো কার্যক্রম থাকে না। প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। হাজার হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়, কিন্তু দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পায় না নগরবাসী। চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা ও পাহাড় ধস সমস্যা সমাধানে সমন্বিত, কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।’

আরও পড়ুন

×