ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ছাতা মাথায় দিয়ে ক্লাস করতে হয় শিক্ষার্থীদের

ছাতা মাথায় দিয়ে ক্লাস  করতে হয় শিক্ষার্থীদের
×

পূর্ব বারখাইন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনের জীর্ণ অবস্থা সমকাল

 মো. নেজাম উদ্দিন, আনোয়ারা (চট্টগ্রাম)

প্রকাশ: ০২ আগস্ট ২০২৬ | ০৭:২৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

বৃষ্টি হলে ছাদের একাধিক ফাটল দিয়ে টুপটাপ ঝরে পড়ে পানি। ভিজে যায় বই-খাতা। শুকনো জায়গা খুঁজে কোনো রকমে পাঠ নেয় কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। কখনও ছাতা মাথায় দিয়েই ক্লাস করতে হয় শিক্ষার্থীদের। ভবনের চারটি দরজা ও ৩০টি জানালা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। বৃষ্টি, বাতাস আর অনিরাপদ পরিবেশকে সঙ্গী করেই চলছে পাঠদান। এমন চিত্র দেখা গেছে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার পূর্ব বারখাইন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
দীর্ঘদিন ধরে ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত ভবনটি এখন চরম জরাজীর্ণ। বছরের পর বছর সংস্কারের অভাবে ছাদের জলরোধী স্তর (রুফ ট্রিটমেন্ট) নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই শ্রেণিকক্ষের বিভিন্ন স্থানে পানি চুইয়ে পড়ে। এতে শুধু পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে না, প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ভবনের চারটি দরজা ও ৩০টি জানালা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেলেও সেগুলো আর লাগানো হয়নি। দরজা-জানালা না থাকায় বর্ষা ও ঝড়ের সময় শ্রেণিকক্ষে পানি ঢুকে পড়ে। পাশাপাশি গবাদিপশু ও বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশও ঘটে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতে ভবনটি মাদকসেবীদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষা পরিবেশ ও নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
শুধু ভবনের জীর্ণদশাই নয়, বিদ্যালয়ে প্রয়োজনীয় আসবাবপত্রেরও  সংকট রয়েছে। পর্যাপ্ত হাই বেঞ্চ ও লো বেঞ্চ না থাকায় অনেক শিক্ষার্থী অস্বস্তিকর পরিবেশে পাঠ গ্রহণ করছে। শিক্ষকদের জন্য প্রয়োজনীয় ছয় সেট চেয়ার-টেবিলও নেই। ফলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন নানা দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হচ্ছে।
পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস ফাবিহা বলে, ‘জানালা ভাঙা থাকায় বৃষ্টি হলে শ্রেণিকক্ষে পানি ঢুকে যায়। তখন ঠিকমতো ক্লাস করতে পারি না। ভাঙা জানালার কারণে অনেক সময় আমাদের হাতও কেটে যায়।’
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি দিদারুল ইসলাম বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে সাইক্লোন শেল্টার হিসেবে ব্যবহৃত ভবনটি এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বৃষ্টি হলেই ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে, দরজা-জানালা না থাকায় নিরাপত্তাও নেই। রাতে মাদকসেবীদের আনাগোনা বাড়ায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে। দ্রুত সংস্কার না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’
প্রধান শিক্ষক দেলুয়ারা বেগম বলেন, ‘বৃষ্টির সময় শ্রেণিকক্ষে পানি ঢুকে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হয়। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও সুন্দর পরিবেশে শিক্ষা নিশ্চিত করতে ভবনের ছাদ সংস্কার, ক্ষতিগ্রস্ত দরজা-জানালা প্রতিস্থাপন এবং প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র সরবরাহ জরুরি হয়ে পড়েছে।’
স্থানীয় অভিভাবকদের অভিযোগ, শিশুদের নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। অথচ বছরের পর বছর ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান চললেও কার্যকর সংস্কার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তারা দ্রুত ভবন সংস্কার, দরজা-জানালা স্থাপন এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ সরবরাহে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ হিন্দুল বারী বলেন, ‘২০২৫ অর্থবছরে পিডিবি-৪ প্রকল্পের বরাদ্দ শেষ হয়ে গেছে। ২০২৬ সালে পিডিবি-৫ প্রকল্পের নতুন বরাদ্দ পাওয়া গেলে যেসব বিদ্যালয়ে অবকাঠামোগত সমস্যা রয়েছে, সেগুলোর তালিকা পাঠানো হবে। বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে পূর্ব বারখাইন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সমস্যাগুলোও সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
 

আরও পড়ুন

×