ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অবশেষে সরু সেতুটি প্রশস্ত হচ্ছে

অবশেষে সরু সেতুটি  প্রশস্ত হচ্ছে
×

ভুলুয়া নদীতে নির্মাণ করা হচ্ছে ২৪ ফুট প্রশস্ত নতুন সেতু সমকাল

 ফুলগাজী (ফেনী) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০২ আগস্ট ২০২৬ | ০৭:২৪

| প্রিন্ট সংস্করণ

দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান হতে যাচ্ছে ফেনীর পরশুরাম উপজেলার চিথলিয়া ইউনিয়নের প্রায় ২৫ হাজার মানুষের। স্থানীয়দের কাছে ‘চিকন সেতু’ নামে পরিচিত ৬ ফুট প্রস্থের সেতুটি ভেঙে সেখানে নির্মাণ করা হচ্ছে ২৪ ফুট প্রশস্ত নতুন সেতু। তিন কোটি ৮৪ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পের কাজ আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ হওয়ার কথা।
পরশুরাম উপজেলার চিথলিয়া ইউনিয়নের ফেনী-পরশুরাম আঞ্চলিক মহাসড়ক থেকে নাসির উদ্দিন ভিলেজ সড়ক হয়ে ভারত সীমান্তবর্তী রাজাপুর বাজার পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কটি ১২টি গ্রামের মানুষের একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম। মালিপাথর, দক্ষিণ শালধর, উত্তর শালধর, গুচ্ছগ্রাম, দুর্গাপুর, রাজাপুর, রতনপুর, পাগলীরকুল, সোনাপুর, মনতলা, চন্দনা ও কিসমত শালধর গ্রামের বাসিন্দাদের এই সড়কের ওপর নির্ভর করতে হয়। পাশাপাশি দুটি উচ্চবিদ্যালয়, দুটি মাদ্রাসা, ১২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শালধর বিজিবি ক্যাম্প, চিথলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ এবং শালধর ও রাজাপুর বাজারে যাতায়াতেরও মাধ্যম এই সড়ক।
সড়কের মাঝামাঝি প্রায় ৯০ ফুট দীর্ঘ ও মাত্র ছয় ফুট প্রশস্ত একটি সেতু দীর্ঘদিন ধরে যানবাহন চলাচলে বড় বাধা হয়ে ছিল। স্থানীয়রা জানান, একসময় শুধু পথচারীদের কথা বিবেচনা করে সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল। পরে জনসংখ্যা ও যানবাহনের সংখ্যা বাড়লেও সেতুটি আর প্রশস্ত করা হয়নি। ফলে প্রতিদিন শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। আগের সরকারের আমলে সেতুটি প্রশস্ত করার দাবিতে এলাকাবাসী একাধিকবার উপজেলা প্রকৌশল বিভাগের কাছে আবেদন করেন। বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর গ্রেটার নোয়াখালী প্রকল্প-৪ (জিএনপি-৪)-এর আওতায় ৩০ মিটার দীর্ঘ ও সাত মিটার প্রশস্ত একটি সেতুর জন্য প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকার প্রাথমিক প্রস্তাবও পাঠানো হয়েছিল। তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হয়নি।
পরে চলতি সরকারের আমলে আইআরআইডিপি-এনএফএল প্রকল্পের আওতায় ৩ কোটি ৮৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩৬ মিটার দীর্ঘ ও ২৪ ফুট প্রশস্ত নতুন সেতু নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়। গত ১৫ মার্চ প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পেয়েছে মেসার্স ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স। প্রতিষ্ঠানটি পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে নির্মাণকাজ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে দি নিউ ট্রেড লিংককে।
মালিপাথর গ্রামের বাসিন্দা আরিফ পাঠান বলেন, ‘এটি আমাদের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি ছিল। নতুন সেতু নির্মাণ হওয়ায় আমরা খুবই আনন্দিত। এতে এলাকার মানুষের বহু বছরের দুর্ভোগ দূর হবে।’
দি নিউ ট্রেড লিংকের স্বত্বাধিকারী তাজুল ইসলাম বলেন, ‘নির্ধারিত সময়ের আগেই সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করার চেষ্টা করছি। তবে সেতুর দুই পাশে ডাইভারশন সড়কের কাজ এখনও প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। বিষয়টি উপজেলা প্রকৌশল বিভাগকে জানিয়েছি।’
পরশুরাম উপজেলা প্রকৌশলী মো. ওবায়দুল বাসার বলেন, ‘সেতুর নির্মাণকাজ নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। ঠিকাদার ভালোভাবে কাজ করছেন। নির্ধারিত সময়ের আগেই কাজ শেষ হবে বলে আশা করছি। পাশাপাশি সেতুর দুই পাশের ডাইভারশন সড়কের কাজও সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

আরও পড়ুন

×