ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মরণফাঁদ ভাঙা পাটাতনের ভুলুয়া সেতু

মরণফাঁদ ভাঙা  পাটাতনের ভুলুয়া সেতু
×

 মিসু সাহা নিক্কন, রামগতি (লক্ষ্মীপুর)

প্রকাশ: ০২ আগস্ট ২০২৬ | ০৭:২৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার সীমান্তবর্তী ভুলুয়া নদীর ওপর নির্মিত ভুলুয়া সেতু এখন চরম ঝুঁকিপূর্ণ। মরিচাধরা কাঠামো, ভাঙা পাটাতন ও অসংখ্য গর্তে সেতুটি কার্যত মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ সেতু পার হচ্ছেন বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রী ও চালকরা। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের দাবি উঠলেও কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় স্থানীয়দের দুর্ভোগ বাড়ছে।
জানা গেছে, ২০০০ সালের দিকে তৎকালীন সরকার নোয়াখালীর ঐতিহাসিক ভুলুয়া খালের ওপর প্রায় ২০০ মিটার দীর্ঘ এ স্টিল সেতু নির্মাণ করে। রামগতির চর রমিজ উদ্দিন ইউনিয়নের চর আফজল গ্রাম (চৌধুরী বাজারসংলগ্ন) এলাকায় দুই উপজেলার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির পর সেতুটি নির্মিত হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণের কয়েক বছরের মধ্যেই সেতুর দুই প্রান্তের মাটি ধসে সড়ক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। পরে কাঠামোয় মরিচা ধরে পাটাতন ভেঙে যেতে শুরু করে। স্থানীয় উদ্যোগ ও সরকারি অর্থায়নে কয়েক দফা সংস্কার করা হলেও বর্তমানে সেতুর অবস্থা আবারও বেহাল।

স্থানীয়রা জানান, সেতুটি নির্মাণের পর রামগতি ও সুবর্ণচরের মানুষের যোগাযোগ সহজ হয়। এ সেতু দিয়ে লক্ষ্মীপুর থেকে নোয়াখালীর সুবর্ণচর হয়ে জেলা শহর মাইজদী, চৌমুহনী, ফেনী, ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সহজে যাতায়াত করা যায়। ভোলা জেলার মানুষও চৌধুরীর হাট খেয়াঘাট ব্যবহার করে এ সেতুর মাধ্যমে বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াত করেন। কৃষিপণ্য পরিবহনসহ দুই অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে সেতুটি।

পথচারী খালেদ হাফিজ বলেন, ‘এই সেতু দিয়ে খুব অল্প সময়ে রামগতি থেকে নোয়াখালী যাওয়া যায়। কিন্তু এখন সেতুর বিভিন্ন অংশ ভেঙে যাওয়ায় চলাচল খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।’ স্থানীয় বাসিন্দা বিজয় মাহমুদ বিজয় বলেন, ‘প্রায় প্রতিদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক ও সীমানাসংক্রান্ত জটিলতার কারণে স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।’ 
সিএনজি অটোরিকশাচালক মিজানুর রহমান বলেন, ‘সেতুটি দ্রুত সংস্কার করা হলে দুই উপজেলার মানুষের দুর্ভোগ কমবে, যোগাযোগ ও স্থানীয় অর্থনীতিও আরও গতিশীল হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে গাড়ি চালাতে গিয়ে এই সেতুতে নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছি আমরা। সেতুর পাটাতন ভেঙে যাওয়ায় গাড়ি নিয়ে সেতুতে উঠতে ভয় হয়। অনেক সময় পাটাতনের ভাঙা অংশে গাড়ির চাকা ঢুকে যায়।’
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) রামগতি উপজেলা কার্যালয়ের প্রকৌশলী স্নেহাল রায় সমকালকে বলেন, ‘বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু হবে বলে আশা করছি।’

আরও পড়ুন

×