করোনার দিনলিপি
দুবাইয়ে ওরা ১৯ জন
কামরুল হাসান জনি, ইউএই
প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২০ | ১৩:৩৯ | আপডেট: ১৮ এপ্রিল ২০২০ | ১৪:০৩
করোনাভাইরাসের কারণে মানুষ যখন নিজ গৃহে বন্দি, তখন দুবাইয়ে তাদের সেবায় আত্মনিয়োগ করেছেন বাংলাদেশি। ভয়কে জয় করে তারা স্বেচ্ছায় শ্রম দিচ্ছেন দুবাইয়ে লকডাউনে থাকা নাইফ এলাকায়। গত ৩১ মার্চ নাইফ এলাকা লকডাউন করে দেয় দুবাই প্রশাসন। তখন থেকেই সেখানে অন্যান্য কমিউনিটির মতো বাংলাদেশিদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও সচেতনতার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে মামুনুর রশীদের নেতৃত্বে ১৯ জনের স্বেচ্ছাসেবী এ ইউনিট। তাদের মধ্যে দু'জন নারীও রয়েছেন।
করোনাযুদ্ধে লড়াই করছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত। গত শুক্রবার পর্যন্ত প্রায় আট লাখ মানুষের করোনার পরীক্ষা করেছে দেশটির স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। শুক্রবার পর্যন্ত দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ৬ হাজার ৩০২ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন ১ হাজার ১৮৮ জন।
ইতোমধ্যে লকডাউনে বন্দি প্রবাসীদের পাশে দাঁড়িয়েছে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা। ত্রাণ সহযোগিতা দিচ্ছে বিভিন্ন ব্যবসায়ী, সংগঠন ও দূতাবাস। তবে সরাসরি দুবাই পুলিশের সার্বিক সহযোগিতায় ব্যতিক্রমী ভূমিকা রাখছে ১৯ বাংলাদেশির এ স্বেচ্ছাসেবী ইউনিট। সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দুটি বিশেষ দলে বিভক্ত হয়ে কাজ করছেন তারা। কখনও বাংলাদেশিদের বাসাবাড়িতে থাকার তাগাদা দিচ্ছেন, কখনও মেডিকেল টিমের সঙ্গে যোগাযোগ করে অসুস্থ প্রবাসীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করছেন, আবার কখনও সরকারি ব্যবস্থাপনায় দেওয়া খাবার বিনামূল্যে পৌঁছে দিচ্ছেন স্বদেশিদের হাতে।
মামুনুর রশীদের নেতৃত্বে ১৯ জনের এ ইউনিটে কাজ করছেন- মোদাসসের শাহ, আব্দুল্লাহ আল শাহীন, আনোয়ার হোসাইন, শামসুন নাহার স্বপ্না, রুমা খাতুন, কাজী ইসমাইল, ফখরুদ্দিন চৌধুরী, মোহাম্মদ জলিল, মোহাম্মদ মিজান, মোহাম্মদ ইদ্রিস, মঞ্জুর মোরশেদ, মোহাম্মদ নুরুল, মোহাম্মদ ইমরান, আনোয়ার আজিম, হাসান ফরহাদ, বাশির চোখদার, হামদান আহমেদ ও মোহাম্মদ শাইফ।
স্বেচ্ছাসেবী ইউনিটের একাধিক কর্মী কথা বলেন সমকালের সঙ্গে। জানান তাদের করোনার দিনলিপি। তাদের দিনের শুরুটা হয় সচেতনতা দিয়ে। নাইফ এলাকার প্রতিটি ভবনে বাংলাদেশিদের বাসায় থাকার অনুরোধ যেমন করছেন, তেমনি এসব প্রবাসীর করোনা পরীক্ষা করতে সহযোগিতায়ও এগিয়ে আসছেন। স্বেচ্ছাসেবকরা জানান, লকডাউনে থাকা একেকটি ভবনের প্রায় প্রত্যেককেই পরীক্ষা করা হচ্ছে। দুবাইয়ের আল সাবখা বাসস্টেশনে অস্থায়ীভাবে তৈরি করা হয়েছে করোনা পরীক্ষা কেন্দ্র। যাদের পরীক্ষা
করা হয়, তাদের দুবাই সরকারের অর্থায়নে পাঁচ কিংবা চার তারকা হোটেলে কোয়ারেন্টাইনে নিয়ে যাওয়া হয়। তিন দিনের মাথায় যাদের রিপোর্ট নেগেটিভ আসে, তাদের বাসায় ফেরার অনুমতি মেলে। আর যারা পজিটিভ রিপোর্ট পেয়ে করোনা শনাক্ত হচ্ছেন, তাদের সরাসরি নিয়ে যাওয়া হয় আল ওয়ার্সন অস্থায়ী হাসপাতালে। স্বেচ্ছাসেবক ইউনিটের সদস্যদেরও সুস্থতা নিশ্চিত করতে শারীরিক পরীক্ষা করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। দিনের কর্মসূচিতে থাকে দুপুর ও সন্ধ্যার খাবার বিতরণ কার্যক্রম। দুপুরের খাবার ১২টার পর আবার রাতের খাবার সন্ধ্যা ৬টায়- এভাবে প্রতিদিন দু'বেলা বিনামূল্যে খাবার বিতরণ করছেন তারা। এই খাবার সরবরাহ করে দুবাই পুলিশ। প্রতিদিনের নিয়মিত কার্যক্রম শেষে স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে যাওয়া হয় বিভিন্ন হোটেলে। সেখানে তাদের প্রত্যেককে আলাদা কক্ষে থাকতে দেওয়া হয়। মূলত স্বেচ্ছাসেবকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা বিবেচনা করেই দুবাই প্রশাসন এ উদ্যোগ নিয়েছে। তবুও কেউ কেউ দিন শেষে ফিরে যান নিজের গৃহে, পরদিন যোগ দেন সেবার কাজে।
তারা জানান, লকডাউন এলাকায় অনেকগুলো বাংলাদেশি পরিবার রয়েছে। এসব পরিবারে থাকা নারীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের জন্য স্বেচ্ছাসেবী ইউনিটে দু'জন নারীকর্মী আছেন। তারা স্বেচ্ছায় কাজ করছেন
