ঢাকা শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

আমিরাতে ২ হাজার প্রবাসীকে ২৩ লাখ টাকার খাবার দিল ইয়ুথ বাংলা

আমিরাতে ২ হাজার প্রবাসীকে ২৩ লাখ টাকার খাবার দিল ইয়ুথ বাংলা
×

কামরুল হাসান জনি, ইউএই

প্রকাশ: ১৯ মে ২০২০ | ০৬:১৯ | আপডেট: ১৯ মে ২০২০ | ১২:১০

সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলা সংস্কৃতি চর্চা ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে গত বছর অক্টোবরে আত্মপ্রকাশ করে ইয়ুথ বাংলা কালচারাল ফোরাম। বেশ কয়েকটি আয়োজন ঘিরে প্রবাসীদের নজরে আসে সংগঠনটি। বিনোদনমূলক বিভিন্ন আয়োজনের থাকলেও বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাস হানা দিলে লকডাউনে পড়া প্রবাসীদের জন্য কেঁদে উঠে তাদের হৃদয়। সাংস্কৃতিক সংগঠনে ঠাঁই হয় মানবিকতা। আরব আমিরাতে লকডাউনের শুরু থেকেই দুবাই, আজমান, শারজাসহ বিভিন্ন প্রদেশে প্রবাসীদের জন্য কখনো রান্না করা খাবার, কখনো হোটেলে বিনামূল্যে খাবারের ব্যবস্থা আবার কখনো প্যাকেট ভর্তি শুকনো খাবার পৌঁছে দেওয়ার মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করে ইয়ুথ বাংলার সদস্যরা। লকডাউনের প্রথম দুদিন প্রবাসীদের রান্না করা খাবার বিতরণের পরিকল্পনা থেকেই চিন্তা ও কাজের প্রসার ঘটে তাদের। পাঁচজন দশজন করে চলতি সপ্তাহ পর্যন্ত তাদের এমন সহায়তা পৌঁছে গেছে দুই হাজারেরও বেশি প্রবাসীর কাছে। এই কর্মসূচি বাস্তবায়নকল্পে শুধুমাত্র খাবার সরবরাহ করতে তাদের খরচ হয়েছে প্রায় ২৩ লাখ টাকা। অর্থের জোগান দিয়েছেন সংগঠনের ৬৫ জন সদস্য। পাশাপাশি সহযোগী হিসেবে এগিয়ে আসে বিভিন্ন ব্যবসায়ী, সংগঠক ও কিছু ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান। ইয়ুথ বাংলার একেবারে ভিন্নধর্মী বণ্টন প্রক্রিয়ায় প্রবাসীদের খাবার সরবরাহ করার বিষয়টি প্রথম থেকেই বাংলাদেশ কনস্যুলেটেরও নজরে আসে। কনসাল জেনারেল ইকবাল হোসাইন খান সেসময় তাদের সঙ্গে কাজ করতে বিত্তবানদেরও আহবান জানান।

ইয়ুথ বাংলা কালচারাল ফোরামের সভাপতি লেফটেন্যান্ট (অব.) কাজী গুলশান আরা সমকালকে জানান, লকডাউনের শুরুতে সংগঠনের উপদেষ্টা শেখ ফরিদ সিআইপি, সাধারণ সম্পাদক আহমেদ ইখতেয়ার পাবেল, সাংগঠনিক সম্পাদক সদরুদ্দিন জামাল ও ফারাহ শামস মিলে সিদ্ধান্ত হয় প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝে দু’দিন তিন বেলা করে রান্না করা খাবার বিতরণের। রান্না করা খাবার দেওয়া শুরু হলে লম্বা হতে থাকে খাবার প্রত্যাশী প্রবাসীদের তালিকা। সিদ্ধান্ত বদলে কয়েকটি হোটেলে বিনামূল্যে খাবার গ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয় প্রবাসীদের। দুবাইয়ের ফুড ভিলেজ ও শারজার হুদাইবিয়ায় চলে বিনামূল্যে খাবার সংগ্রহের কার্যক্রম। এই কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে প্রবাসীদের অসহায়ত্ব আরো বেশি স্পষ্ট হয়ে ধরা পড়ে। এরপর কার্যক্রম দীর্ঘায়িত করার পরিকল্পনা শুরু হয় তাদের। তৈরি হয় খাবার প্রত্যাশী প্রবাসীদের ডাটাবেজ। সেই তথ্য অনুযায়ী ডেলিভারি ভ্যান দিয়ে পৌঁছে দেওয়া হয় প্রতিজনের জন্য এক সপ্তাহের শুকনো খাবার। তালিকায় সংখ্যা গরিষ্ঠ ছিল আজমান, শারজা ও দেরা দুবাইয়ের প্রবাসী বাংলাদেশিরা। দুটো মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানি এই কর্মসূচির জন্য প্রায় অর্ধলক্ষ দিরহাম সহায়তা প্রদান করে।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আহমেদ ইখতেয়ার পাবেল বলেন, সংগঠনের যার যত সামর্থ্য আছে তা নিয়ে এগিয়ে এসেছি। সংগঠনের উপদেষ্টা শেখ ফরিদ সিআইপি, হারামাইন গ্রুপের বাইজুন চৌধুরী, শারমিন আহসান ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন। এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে এগিয়ে এসেছে ইঞ্জিনিয়ার কমিউনিটি ও ফটোগ্রাফার কমিউনিটি। পাশাপাশি কযেকটি বিদেশি প্রতিষ্ঠান এই কাজে সহায়তা করেছে। ইয়ুথ বাংলা থেকে ইতিমধ্যে ২ হাজার প্রবাসী মধ্যে ৫৫০০ কেজি চাল, ২৫০০ কেজি ডাল, ১২০০ কেজি পিঁয়াজ, ৮০০ কেজি আলু, ১০০০ লিটার তেল, ১০০০ ক্যান কর্ন, ৭০০০ প্যাকেট এনার্জি বার, ৫০০ লিটার জুস, ৮০০০ প্যাকেট বিস্কুট, ৫০০ প্যাকেট মুড়ি ও ২০০০ প্যাকেট নুডলস বিতরণ করা হয়েছে।’

সংগঠনের সভাপতি কাজী গুলশান আরা বলেন, ভিন্ন ভিন্ন পর্যায়ে অনেকে প্রবাসীদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছেন। যতটুকু করেছেন তার বেশি ফটোশেসন হওয়ায় অনেকের উদ্দেশ্য ফিকে হয়ে গেছে। যদি ভিন্ন ভিন্ন সংগঠন, দল-মত নির্বিশেষে একটাই অবস্থান থেকে এই কার্যক্রম পরিচালনা করা যেত তাহলে আরো বহু প্রবাসী করোনা পরিস্থিতিতে অনেক বেশি উপকৃত হতেন।

আরও পড়ুন

×