কভিড-১৯ ভ্যাকসিন: আমাদের অবস্থান কোথায়?
ফেসবুক লাইভে দেখানো হবে
কানাডা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২০ | ২৩:২৩
বৈশ্বিক এই মহামারির সময় সারা বিশ্ব তাকিয়ে আছে নতুন খবর আর কাঙ্খিত সেই ভ্যাকসিনের দিকে। বিজ্ঞানীরা একের পর এক গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন ভ্যাকসিন তৈরি করার জন্য। করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য কার্যকর ভ্যাকসিন তৈরি ও গণ উৎপাদন করার জন্য বিশ্ব এখন চ্যালেঞ্জের মুখে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার জানিয়েছে, ভাইরাস প্রতিরোধের জন্য অ্যান্টিবডি তৈরি না হওয়া পর্যন্ত তাদের জনগণ দৈনন্দিন জীবন স্বাভাবিকের দিকে ফিরে আসতে পারে না। তাৎক্ষণিক ক্লিনিকাল ট্রায়াল ইতিমধ্যে চলছে, তবে ভ্যাকসিনের পুর্ণ বিকাশে এখনো সময়ের প্রয়োজন।
এই মুহূর্তে সারাবিশ্বে ফার্মাসিউটিক্যাল সংস্থা, একাডেমিক প্রতিষ্ঠান, সরকারি সংস্থা এবং অন্যান্য উন্নয়ন সংস্থাসহ প্রায় এক শতাধিক সংস্থা ভ্যাকসিন তৈরির কাজে নিয়োজিত রয়েছে। কমপক্ষে দশটি দেশ জুড়ে সতেরোটি ভ্যাকসিন প্রার্থী ইতিমধ্যে ক্লিনিকাল ট্রায়ালের মধ্যদিয়ে চলছে। এর মধ্যে একটি চীনা সেনা কর্তৃক সীমিত ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত হয়েছে।
এর মধ্যে বেশ কয়েকটি ভ্যাকসিন আশা জাগ্রত করেছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, কোনটি বড় আকারে সফল হবে তা নির্ধারণ করা খুব তাড়াতাড়ি সম্ভব নয়।
কভিড -১৯ ভ্যাকসিনের প্রাথমিক প্রাণী মডেলিংয়ের পরীক্ষায় সাফল্যের দাবি করে গ্লোব বায়োটেক লিমিটেড বাংলাদেশের প্রথম সংস্থা হিসাবে ভ্যাকসিন আবিষ্কারের দাবি করেছে। এটি ২০২০ সালের ডিসেম্বরে বাজারে ছাড়ার কথা জানিয়েছে।
গ্লোব বায়োটেক লিমিটেডের সিইও ও গবেষক ডা. কাকন নাগ বলেছেন, ১০ জুন থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত পাঁচটি খরগোশের প্রাথমিক পরীক্ষার পরে তারা এই ফল পেয়েছে। এ ভ্যাকসিন নিয়ে অত্যন্ত আশাবাদী এবং খুব শীঘ্রই পরবর্তী ক্লিনিকাল ট্রায়াল শুরু করবেন।
এ নিয়ে আগামী ১৮ জুলাই এক ভার্চুয়াল আলোচনা করতে যাচ্ছেন কানাডার ক্যালগেরির টম বেকার ক্যানসার সেন্টারের ক্লিনিক্যাল রিসার্চ কো-অরডিনেটর এবং আর এক্স মীমস বাংলাদেশ এর পরিচালক আহমেদ হোসেন শাহীন। উক্ত আন্তর্জাতিক আলোচনায় বিশ্বে কভিড -১৯ ভ্যাকসিন এর বর্তমান অবস্থান নিয়ে এক সায়েন্টিফিক আলোচনার আয়োজন করা হবে। ঝুমের মাধ্যমে এ আলোচনায় কানাডা, বাংলাদেশ, নেপাল ও অস্ট্রেলিয়া থেকে গবেষকরা অংশগ্রহণ করবেন।
আলোচনায় উপস্থিত থাকবেন অস্ট্রেলিয়ার ডা. শাহনাজ পারভীন, নেপালের ডা. শ্যাম প্রাসাদ লোহানী, ডা. এস এন এম আবদুর রহমান, ডীন ফার্মেসী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক প্রফেসর সাইদুর রহমান ও গ্লোব বায়োটেক রিসার্চ এর সিইও ডা. কাকন নাগ।
আহমেদ হোসেন শাহীন বলেন- বর্তমান পরিস্থিতিতে ভ্যাকসিন নিয়ে আমরা কোন অবস্থায় আছি এ আলোচনা থেকে আরো বেশি ধারণা লাভ করতে পারব।
বাংলাদেশ এই প্রথমবারের মতো নোভেল করোনাভাইরাস নিয়ে কাজ করছে এবং প্রাথমিক পর্যায়ের ফলাফল খুবই সন্তোষজনক। আমাদের সহযোগিতা ও উৎসাহ উদ্দীপনা যেন এ কাজকে সফলভাবে এগিয়ে নিতে পারে, দেশ তথা সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্য সুখবর দিতে পারে.সেটাই আমাদের লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানটি ফেসবুক লাইভে সরাসরি দেখানো হবে।
- বিষয় :
- মহামারি
- ভ্যাকসিন
- করোনাভাইরাস