ব্রিটিশ-বাংলাদেশি বিজনেস সামিট এবং পারচেসিং এসএমই কনসোর্টিয়াম গঠনের ঘোষণা
ছবি: আয়োজকদের সৌজন্যে
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬ | ১৯:৫২
যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের মধ্যে ব্যবসা এবং বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদার করার লক্ষ্যে ২০২৭ সালে ঢাকায় একটি বৃহৎ ‘বিজনেস সামিট’ আয়োজনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর (এসএমই) সক্ষমতা বৃদ্ধিতে একটি ‘পারচেসিং কনসোর্টিয়াম’ গঠন করবে ব্রিটিশ বাংলাদেশি কমিউনিটি কোয়ালিশন (বিবিসিসি)। এর মাধ্যমে দুই দেশের এসএমই ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ এবং জয়েন্ট ভেঞ্চার গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
গত রোববার লন্ডনে বিবিসিসি ও হোপস ফাউন্ডেশনের (বাংলাদেশ) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘অ্যান ইভনিং উইথ হোপস ফাউন্ডেশন–বিজনেস, ফিলানথ্রপি অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপস’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এসব পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হোপস ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট ও সোনিয়া গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এনায়েতউদ্দিন খান কায়সার। তিনি বলেন, বাংলাদেশি এবং ব্রিটিশ-বাংলাদেশি এসএমই উদ্যোক্তাদের সংযোগ করতে কাজ করবে আমাদের অলাভজনক সমাজসেবী হোপস ফাউন্ডেশন। বাংলাদেশে এই সংস্থা যুব ও নারী উদ্যোক্তাদের সহায়তা করে।
তিনি বলেন, ব্রিটেনের রেস্টুরেন্ট ও সেবা খাতে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের সাফল্য সারা বিশ্ব জানে। এর বাইরেও রিটেইলসহ ব্রিটেনে নানা এসএমই উপখাতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত হাজার হাজার উদ্যোক্তা আছেন। তাদের সহায়তায় বাংলাদেশি উদ্যোক্তাগণ ব্রিটেনে এবং ইউরোপে ব্যবসা বাড়াতে পারেন এবং ব্যবসায় অধিকতর মূল্য সংযোজন করতে পারেন।
বিবিসিসির সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল শুকুর খালিসাদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিবিসিসির চেয়ারম্যান সিরাজ হক, হোপস ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. এম. আফজাল হোসেন, ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা মুস্তাফিজুর রহমান এবং নেক্সট স্টেজ ইভেন্টসের সিইও আবদুল্লাহ মাহমুদ।
আবদুল শুকুর খালিসাদার বলেন, বিবিসিসি পারচেসিং কনসোর্টিয়াম ছোট ব্যবসায়ীদের সম্মিলিত ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ। এর মূল লক্ষ্য ছোট ও স্বতন্ত্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং ক্রেতাদের একটি সম্মিলিত পারচেসিং প্ল্যাটফর্মের আওতায় নিয়ে আসা, যাতে তারা যৌথভাবে বড় ম্যানুফ্যাকচারার, হোলসেলার এবং সাপ্লায়ারদের সঙ্গে আরও প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে পণ্য ক্রয় ও উন্নত ট্রেডিং টার্মস নিয়ে আলোচনা করতে পারে।
রিটেইল, হসপিটালিটি, ফুড ডিস্ট্রিবিউশন এবং অন্যান্য সেক্টরে, যেখানে ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো ক্রমবর্ধমান ব্যয় ও প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হচ্ছে, সেখানে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পারচেসিং কনসোর্টিয়ামে অংশগ্রহণকারী ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো তাদের পারচেসিং রিকোয়ারমেন্ট একত্র করে বাল্ক পারচেসিং এবং ইকোনমিক অব স্কেলের সুবিধা পেতে পারে। একটি ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের একক ক্রয়ক্ষমতা সীমিত হলেও বহু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত ক্রয়ক্ষমতা একটি উল্লেখযোগ্য কমার্শিয়াল শক্তিতে পরিণত হতে পারে।
তিনি জানান, ব্রিটেনে হাজার হাজার ছোট ও মাঝারি দক্ষ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে, যাদের আন্তর্জাতিক মার্কেট সম্প্রসারণের আগ্রহ রয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশে অনেক বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী ও সুপ্রতিষ্ঠিত করপোরেটগুলোর এখন উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা রয়েছে। দুই পক্ষকে একত্র করে ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সুযোগের দ্বার উন্মুক্ত করতে হবে।
খালিসাদার বলেন, স্বতন্ত্রভাবে আমাদের অনেক ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের এত পারচেসিং পাওয়ার নেই, যার মাধ্যমে তারা বড় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমানভাবে প্রতিযোগিতা করতে পারে। কিন্তু সম্মিলিতভাবে তারা বড় কমার্শিয়াল শক্তিতে পরিণত হতে পারে। বিবিসিসি পারচেসিং কনসোর্টিয়াম এই সম্মিলিত শক্তিকে কাজে লাগাবে।
তিনি বলেন, ছোট ক্রেতাদের একত্র করে আরও ভালো মূল্যে পণ্য ক্রয়, উন্নত সাপ্লাই অ্যারেঞ্জমেন্ট এবং অনুকূল ট্রেডিং টার্মস নিশ্চিত করার সুযোগ সৃষ্টি করা। এর মাধ্যমে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও প্রতিযোগিতামূলক এবং দীর্ঘমেয়াদে টেকসই করে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে শেলিনা আখতার, রাজনা আল ফারহাদি, তানিয়া চৌধুরী, জাসমিন রহমান, ফাতিমা খাতুন, আফিয়া শারমিন এবং ব্রিজেট গ্যালোওয়েসহ বেশ কয়েকজন নারী উদ্যোক্তা ও কমিউনিটি নেতা উপস্থিত ছিলেন।
বিবিসিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ব্রিটিশ-বাংলাদেশি এসএমই উদ্যোক্তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ও ‘বি-টু-বি’ মিটিংয়ের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব সৃষ্টির লক্ষ্যে যুক্তরাজ্য থেকে একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল নিয়ে ঢাকায় যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের। এই উদ্যোগগুলো দুই দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা আয়োজকদের। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি।
- বিষয় :
- প্রেস রিলিজ