মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অসাম্প্রদায়িক জনগণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লড়াই জরুরি: নুর আহমদ বকুল
ছবি-সংগৃহীত
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬ | ২২:৪৪
মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সামাজিক ন্যায্যতা ও সমতার ভিত্তিতে অসাম্প্রদায়িক জনগণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে সব প্রগতিশীল শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নুর আহমদ বকুল।
তিনি বলেছেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সাম্রাজ্যবাদ ও চরম দক্ষিণপন্থি মৌলবাদী শক্তি রাষ্ট্রকে দখলে নিয়ে প্রগতি, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব এবং বাঙালি জাতিসত্তার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। ট্যাগিং রাজনীতি ও মব সন্ত্রাসের মাধ্যমে প্রতিশোধের নতুন ফ্যাসিবাদী ধারা চালু করা হয়েছে।
বুধবার যুব নেতা শহীদ রাসেল আহমেদ খানের ২০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নুর আহমদ বকুল বলেন, মুক্তিযোদ্ধার কবর দিতে বাধা দেওয়া হচ্ছে, মাজার ভেঙে লাশ পুড়িয়ে উল্লাস করা হচ্ছে। বাউল, মুর্শিদি ও ভান্ডারী গানের মতো বাঙালির চিরায়ত সাংস্কৃতিক ধারাও বাধার মুখে পড়ছে। ফতোয়াবাজির নামে নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা চলছে, মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ভাস্কর্য ভাঙচুর করা হচ্ছে। মানুষের ভাত-কাপড় ও রুটি-রুজির দাবিতে আয়োজিত মিছিল-মিটিংও নৃশংসভাবে দমন করা হচ্ছে। এসব ঘটনা দেশের সুশাসনের চিত্র তুলে ধরে না, বরং দুঃশাসন বাড়ার ইঙ্গিত দেয়।
তিনি বলেন, শহীদ রাসেল আহমেদ খান ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রক্ষা এবং সাম্রাজ্যবাদ ও মৌলবাদবিরোধী সংগ্রামের অকুতোভয় সৈনিক। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর দক্ষিণপন্থি ও মৌলবাদী শক্তির বিরুদ্ধে রাজপথের প্রতিরোধ আন্দোলনে তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন। দেশের গণতন্ত্র, শান্তি, স্থিতিশীলতা ও অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক রাজনীতির ধারাবাহিকতা রক্ষায় তাঁর আত্মত্যাগ স্মরণ করা জরুরি।
আলোচনা সভা থেকে জননেতা রাশেদ খান মেননের মুক্তির দাবিও জানান নুর আহমদ বকুল। তিনি বলেন, রাসেল দিবস প্রগতিশীল শক্তির ঐক্য এবং অসাম্প্রদায়িক জনগণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে এগিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা দেয়।
যুব মৈত্রীর সভাপতি তৌহিদুর রহমানের সভাপতিত্বে সভা সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক তাপস দাস।
সভাপতির বক্তব্যে তৌহিদুর রহমান বলেন, রাসেল আহমেদ খানের মৃত্যুর ২০ বছর পরও সাম্প্রদায়িক ও মৌলবাদী শক্তি বাংলাদেশকে অতি দক্ষিণপন্থি পাকিস্তানি ভাবধারায় ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। প্রতিবছর ২০ থেকে ২৫ লাখ শিক্ষার্থী ও তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করলেও তাঁদের এক-চতুর্থাংশও কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছেন না। এ পরিস্থিতিতে যুব মৈত্রী তরুণদের কর্মসংস্থান ও বেকার ভাতার দাবি জানাচ্ছে।
রাসেল আহমেদ খান স্মৃতি ভবনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ যুব মৈত্রীর সাবেক সভাপতি সাদাকাত হোসেন খান বাবুল, কিশোর রায়, মোস্তফা আলমগীর রতন ও সাব্বাহ আলী খান কলিন্স; জাতীয় যুব জোটের সভাপতি শরিফুল কবির, যুব ঐক্যের আহ্বায়ক মিনহাজ সেলিম, বাংলাদেশ যুব মৈত্রীর সহসভাপতি আহাদ মিনার, বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি ইয়াতুন নেছা রুমা এবং সংগঠনটির দপ্তর সম্পাদক মাহাবুদ রানা তরুণ।
আলোচনা সভার আগে শহীদ রাসেল আহমেদ খানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি, বাংলাদেশ যুব মৈত্রীর কেন্দ্রীয় কমিটি, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রী, বাংলাদেশ নারী মুক্তি সংসদ এবং জাতীয় গার্হস্থ্য নারী শ্রমিক ইউনিয়ন।
- বিষয় :
- ওয়ার্কার্স পার্টি