হৃদ্যন্ত্রে ছিদ্র নিয়ে জন্মানো ২ মাসের ছাকওয়ান বাঁচতে পারে একটু সহায়তা পেলেই
বাবা মায়ের সঙ্গে দুই মাসের ছাকওয়ান। ছবি: সমকাল
রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬ | ২৩:৫৪ | আপডেট: ২৮ অক্টোবর ২০২৬ | ২৩:৫৪
দুই মাস বয়সেই মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে ছাকওয়ান। মায়ের কোলে থাকার কথা ছিল যার নিশ্চিন্ত ঘুমে, সেই শিশুটি এখন প্রতিটি শ্বাস নিচ্ছে কষ্টে। ছোট্ট বুকটি দ্রুত ওঠানামা করছে, শ্বাসের সঙ্গে বের হচ্ছে অস্বাভাবিক ঘড়ঘড় শব্দ। জন্মের পর থেকেই হৃদপিণ্ডে ফুটো নিয়ে বেঁচে আছে সে। চিকিৎসকরা বলেছেন, উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত তাকে ঢাকায় নিতে হবে। কিন্তু দরিদ্র বাবা-মায়ের হাতে নেই সেই সামর্থ্য। সন্তানের চিকিৎসার খরচ জোগাড় করতে না পেরে এখন প্রতিটি মুহূর্ত আতঙ্কে কাটছে তাঁদের।
ছাকওয়ান কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলা সদরের গোবর্ধনদোলা গ্রামের রবিউল ইসলাম ও শারমিন আক্তারের সন্তান। জন্মের পর থেকেই তার হৃদ্যন্ত্রে জটিলতা ধরা পড়ে। শ্বাসকষ্টসহ নানা সমস্যায় ভুগছে শিশুটি। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী দ্রুত ঢাকায় নিয়ে বিশেষায়িত চিকিৎসা প্রয়োজন। কিন্তু অর্থের অভাবে সেই চিকিৎসা শুরু করাই সম্ভব হচ্ছে না।
ছাকওয়ানের বাবা রবিউল ইসলাম কিস্তিতে মিশুক রিকশা চালান। প্রতিদিনের আয় থেকে কিস্তির টাকা পরিশোধ করে যা থাকে, তা দিয়ে পাঁচ সদস্যের সংসার চালাতেই হিমশিম খেতে হয় তাঁকে। এমন পরিস্থিতিতে শিশুর চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড় করা তাঁর কাছে প্রায় অসম্ভব।
কয়েকদিন আগে শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে ছাকওয়ানকে কুড়িগ্রাম সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু চিকিৎসার পাশাপাশি ওষুধ কেনার সামর্থ্যও ছিল না পরিবারের। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে শিশুটিকে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে নিয়ে আসেন বাবা-মা। এখন বাড়িতেই কষ্টে দিন কাটছে তার।
ছেলের দিকে তাকিয়ে চোখের পানি ধরে রাখতে পারেন না বাবা রবিউল। তিনি বলেন, ‘ছেলেকে বাঁচাতে হলে ঢাকায় নিয়ে চিকিৎসা করাতে হবে, ডাক্তাররা বলেছেন। কিন্তু আমার হাতে কোনো টাকা নেই। রিকশা চালিয়ে সংসার চালাতেই পারি না। ছেলের চিকিৎসা কীভাবে করাব, বুঝতে পারছি না। বাড়িতে শুয়ে থাকা ছাকওয়ানের প্রতিটি শ্বাস যেন পরিবারের জন্য একেকটি উৎকণ্ঠার মুহূর্ত। কখন ছোট্ট বুকটির ওঠানামা থেমে যায়। এই ভয়েই দিন-রাত কাটছে বাবা-মায়ের।
সন্তানের কষ্ট চোখের সামনে দেখেও অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে না পারার যন্ত্রণা আরও অসহায় করে তুলেছে তাঁদের। ছাকওয়ানকে বাঁচাতে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন। তাই, অসহায় এই পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে শিশুটির চিকিৎসার জন্য সমাজের বিত্তবান, হৃদয়বান ব্যক্তি, সামাজিক সংগঠন ও সামর্থ্যবান মানুষের কাছে মানবিক সহায়তার আকুল আবেদন জানিয়েছেন স্বজন ও স্থানীয়রা।
ছাকওয়ানের দাদী আছমা খাতুন কান্নায় ভেঙে পরে বলেন, দুই মাসের শিশুটি প্রতিনিয়ত শ্বাসকষ্টে কষ্ট পাচ্ছে। বাবা-মা অসহায়ের মতো সন্তানের দিকে তাকিয়ে আছেন। অর্থের অভাবে একটি শিশুর চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যাবে। এটা মেনে নেওয়া যায় না। ছাকওয়ানের চিকিৎসার জন্য সবাই যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করলে পরিবারটি বড় উপকার পাবে এবং শিশুটির জীবন বাঁচানোর একটি সুযোগ তৈরি হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা রিপন মিয়া বলেন, স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল কাদের বলেন, ছাকওয়ানকে দেখলে সত্যিই খুব কষ্ট লাগে। এত ছোট একটি শিশু হৃদ্যন্ত্রে জটিলতা নিয়ে শ্বাসকষ্টে ভুগছে। তার বাবা দিনমজুরের মতো কষ্ট করে রিকশা চালিয়ে সংসার চালান। একার পক্ষে এত বড় চিকিৎসার খরচ বহন করা সম্ভব নয়। সমাজের সামর্থ্যবান মানুষ এগিয়ে এলে শিশুটিকে হয়তো বাঁচানো সম্ভব হবে।
স্থানীয় লিপি খাতুন বলেন, ছাকওয়ানের পরিবার অত্যন্ত অসহায়। টাকার অভাবে শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিতে পারছে না। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা স্থানীয়ভাবে যতটুকু পারি সহযোগিতা করার চেষ্টা করছি। তবে বড় ধরনের চিকিৎসার জন্য অনেক অর্থ প্রয়োজন। সরকারের পাশাপাশি বিত্তবান ও মানবিক মানুষদের এগিয়ে আসার অনুরোধ জানাই।
কুড়িগ্রাম জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মুহা. হুমায়ুন কবির বলেন, রাজারহাট উপজেলার রবিউলের ছেলে ছাকওয়ান হৃদ্রোগজনিত সমস্যার কথা আমি জানতে পারলাম। তারা যদি সমাজসেবা অধিদপ্তরে আবেদন করেন, তাহলে আমরা সরকারি অনুদান দিয়ে চিকিৎসা ক্ষেত্রে সহায়তা করতে পারবো।
- বিষয় :
- কুড়িগ্রাম