ঢাকা বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

রাধারমণ দত্তের সমাধির পাশে গানবাজনা বন্ধের দাবি

ইউএনওর কাছে আবেদন

রাধারমণ দত্তের সমাধির পাশে গানবাজনা বন্ধের দাবি
×
×

ছবি- সংগৃহীত

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬ | ২২:৪০

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার কেশবপুর গ্রামে রাধারমণ দত্তের সমাধির পাশে গানবাজনা বন্ধের আবেদন করা হয়েছে। গত সোমবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আবেদন করে কেশবপুর ইসলামিক অর্গানাইজেশন কমিটি নামের সংগঠন।

আবেদনে উল্লেখ করা হয়, কেশবপুর বাজার-সংলগ্ন কবরস্থান এলাকায় মরমি সাধক রাধারমণ দত্তের নামে গানবাজনা করার অনৈসলামিক কার্যক্রমের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা করছেন ইসলামিক অর্গানাইজেশন কমিটির সদস্যরা। জনস্বার্থে এ কার্যক্রম বন্ধের আবেদন জানান তারা। আবেদনে গ্রামের কাদির মিয়া, রফিক মিয়া, মো. তৈমুর আলী, আনকার, খালেদ, সোহেল, মো. রফিকুল, জাহাঙ্গীর, আবু মিয়া, মো. রফিক আলী, দিলা মিয়া, ওয়াহিদ, ইকবাল, আবু তাহের, আওলাদ, তারেক মিয়াসহ অনেকেই স্বাক্ষর করেন।

জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইসলাম উদ্দিন বলেন, রাধারমণ দত্তের প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠান হবে ৯ ও ১০ নভেম্বর। স্থানীয় এমপি ও জেলা প্রশাসনের পরামর্শে উপজেলা প্রশাসন এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে। ১ নভেম্বর প্রস্তুতিমূলক সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ ছাড়া অনুষ্ঠান হয় উপজেলা সদরে। অন্য কোনো আয়োজন আছে বলে জানা নেই। কোনো সাংস্কৃতিক সংগঠন এমন আয়োজনের অনুমোদন নেয়নি। রাধারমণ দত্তের সমাধিস্থলের পাশে কবরস্থান রয়েছে, গানের আয়োজন শুনে হয়তো অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মতিউর রহমান খান বলেন, রাধারমণ দত্তের প্রয়াণ দিবসের অনুষ্ঠান নিয়ে ইউএনও কথা বলেছেন, বন্ধ রাখার কোনো আবেদনের বিষয়ে কথা হয়নি।

বৈষ্ণব কবি রাধারমণ দত্তের রচনাবলি বাঙালি লোকসংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছে। যুগ যুগ ধরে রাধারমণ দত্তের সমাধি এলাকায় সংস্কৃতি চর্চা হচ্ছে। প্রতিবছর এলাকার সাধারণ মানুষ ও প্রশাসনের সহযোগিতায় রাধারমণ উৎসব হয়। এর আগে এ আয়োজন বন্ধ করতে কেউ আবেদন করেনি।

কেশবপুর গ্রামের ক্রীড়া সংগঠক আবু হেনা রনি বলেন, ২০২৩ সালের আগ পর্যন্ত রাধারমণ দত্তের সমাধি এলাকায় প্রতিবছরই দুদিন ধরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন হতো। সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক, ইউএনওসহ অনেকেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতেন। দুই বছর ধরে এখানে অনুষ্ঠান হচ্ছে না। এর পাশে কবরস্থান রয়েছে ঠিক, কবরস্থান তো আগেও ছিল। তখন তো কেউ অনুষ্ঠান করতে বাধা-আপত্তি করেনি।

উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী কেন্দ্রীয় সংসদের সহসভাপতি ও গণমাধ্যমকর্মী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, গানবাজানায় নিষেধাজ্ঞা দেশের সংস্কৃতি চর্চাকে সংকুচিত করবে। হাসন রাজা, রাধারমণ দত্ত, দুর্বিন শাহ, শাহ আবদুল করিমসহ অসংখ্য গুণী সাধক সুনামগঞ্জের রত্ন। তারা সুনামগঞ্জের সুনাম বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিয়েছেন। রাধারমণের জন্মভিটা এলাকায় এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা কোনোভাবেই কাম্য নয়। 

এর আগে ২২ অক্টোবর দিরাই উপজেলার হাতিয়া গ্রামে পারিবারিক বাউলগানের আসর বন্ধে পুলিশের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছিল। আপত্তি সত্ত্বেও মধ্যরাতে সীমিত পরিসরে এ আয়োজন হয়েছিল। ওই গ্রামের যুক্তরাজ্যপ্রবাসী শওকত আলী এ আয়োজন করেছিলেন।

এ ছাড়া ইসলামবিরোধী কার্যকলাপ প্রতিরোধ কমিটির বাধার মুখে দিরাই উপজেলা সদরের স্টেডিয়ামে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বাতিল করা হয়। ৫ অক্টোবর স্বপ্নচূড়া স্পোর্টিং ক্লাব ও সিলেটের জারা স্পোর্টিং ক্লাবের মধ্যে ম্যাচটি হওয়ার কথা ছিল।

আরও পড়ুন

×