সিররুল কুরআন গ্রন্থের প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠিত
ছবি-সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২০:১১
খাজা ওসমান ফারুকীর ‘সিররুল কুরআন (ভূমিকা পর্ব)’ গ্রন্থের প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ উপলক্ষে বুধবার বিকেলে রাজধানীর একটি হোটেলে ‘সিররুল কুরআন: খাজা ওসমান ফারুকীর কুরআন-ভাবনা ও সুফি তাফসিরের বহুমাত্রিক দিগন্ত’ শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক মো. ওসমান গনী। স্বাগত বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক আবদুস সবুর খান।
এতে প্রধান আলোচক ছিলেন ড. এ কে এম মাহবুবর রহমান। আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক আব্দুর রশীদ, ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক কে এম সাইফুল ইসলাম খান, ড. সৈয়দ এমদাদ উদ্দীন নিজামপুরী, মনোরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক হেলাল উদ্দিন, ডা. মনজুরে মুরশেদ, অধ্যাপক তওহীদুল হাসান, অধ্যাপক জাহিদুল ইসলাম, শাহ সরোয়ার মুস্তফা আবুলউয়াল্যী, শায়খ উছমান গনী, অধ্যাপক শাহ নূরে মুক্তাদির আল সুরেশ্বরী, সৈয়দ ফারহান হোসাইন বরিয়াবরী, মেহেদী হাসান, নাইমুল ইসলাম, ডা. ইযহার আবুলউলায়ী, হোসাইন রেজা, রিয়াজ উদ্দীনসহ বিশিষ্টজন।
সিররুল কুরআন প্রচলিত অর্থে একটি পূর্ণাঙ্গ তাফসিরগ্রন্থ নয়; এটি কুরআনের গভীরতর পাঠ ও সুফি তাফসিরের জ্ঞানতাত্ত্বিক ভিত্তি অন্বেষণের পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে রচিত একটি গবেষণাধর্মী গ্রন্থ। এতে কুরআনের অর্থ, ভাষা, বয়ান, তাফসির ও তাদাব্বুর, মুহকাম ও মুতাশাবিহ, যাহির ও বাতিন, আধ্যাত্মিক জ্ঞান এবং কুরআনের বহুমাত্রিক তাৎপর্য নিয়ে প্রশ্ন ও অনুসন্ধানের একটি বিস্তৃত পরিসর নির্মাণের প্রয়াস রয়েছে।
সুফি সেন্টার আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে আলোচকরা বলেন, বাংলা ভাষায় সুফি তাফসিরচর্চার একটি শক্তিশালী একাডেমিক ভিত্তি নির্মাণের ক্ষেত্রে সিররুল কুরআন গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হতে পারে। কুরআনের যাহিরি বিধান ও বাতিনি তাৎপর্যকে পরস্পরবিরোধী হিসেববে না দেখে তাদের অন্তর্নিহিত সম্পর্ক অন্বেষণ করা সুফি তাফসিরের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। এ ক্ষেত্রে ঐতিহ্যবাহী সুফি তাফসিরের পাশাপাশি আধুনিক জ্ঞানতত্ত্ব, দর্শন, মনস্তত্ত্ব ও চেতনা-গবেষণার সঙ্গে একটি সৃজনশীল সংলাপের প্রয়োজন রয়েছে বলেও আলোচনায় উঠে আসে।
বক্তারা বলেন, কুরআনকে শুধু পাঠ ও ব্যাখ্যার বিষয় হিসেবে না দেখে মানুষের অন্তর্জগত, নৈতিকতা, আত্মশুদ্ধি ও আধ্যাত্মিক উপলব্ধির একটি গভীর উৎস হিসেবে পাঠের সুযোগ রয়েছে। বাংলা ভাষাভাষী পাঠকের কাছে সুফি তাফসিরের এই সমৃদ্ধ ঐতিহ্যকে গবেষণাভিত্তিক ও বোধগম্য ভাষায় উপস্থাপনের উদ্যোগ বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
গ্রন্থটির লেখক খাজা ওসমান ফারুকী বলেন, কুরআনের গভীরে প্রবেশের আগে কুরআনকে কীভাবে পাঠ করতে হবে—এই মৌলিক প্রশ্নগুলোর সঙ্গে পাঠকের একটি প্রাথমিক সংলাপ তৈরি করাই সিররুল কুরআনের অন্যতম উদ্দেশ্য। বাংলা ভাষায় সুফি তাফসির ও কুরআন-ভাবনার গবেষণামূলক চর্চাকে আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
- বিষয় :
- বই