ফরিদপুরে নদীভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধের দাবিতে মানববন্ধন
নদীভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধনে আলফাডাঙ্গার বুড়াইচ ইউনিয়নের বাসিন্দারা। ছবি: সমকাল
ফরিদপুর অফিস ও আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৯:৪৩
ফরিদপুরের সদরপুর ও আলফাডাঙ্গায় নদীভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ভাঙন চললেও স্থায়ী প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে ফসলি জমি, বসতবাড়ি ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আরও বহু পরিবার ও প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
বৃহস্পতিবার সকালে সদরপুর উপজেলার আকোটেরচর শয়তানখালী ট্রলারঘাটে মানববন্ধন করেন জনসংঘ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ও স্থানীয় বাসিন্দারা। একই দিন আলফাডাঙ্গার বুড়াইচ ইউনিয়নের চর খোলাবাড়িয়া এলাকায় মধুমতী নদীর তীরে মানববন্ধন করেন কয়েক গ্রামের মানুষ।
সদরপুরের আকোটেরচর ও ঢেউখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় দেড় কিলোমিটারজুড়ে পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁ নদের তীরে তীব্র ভাঙন চলছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, চলতি মৌসুমে শতাধিক বিঘা ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে পিয়াজখালী বাজার, জনসংঘ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, ১১ নম্বর মুন্সীর চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পিয়াজখালী জামে মসজিদ ও মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন স্থাপনা।
জনসংঘ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আয়ুব আলী বলেন, নদীভাঙনের কারণে বিদ্যালয়ের দুটি ভবন ঝুঁকিতে রয়েছে। চারতলা ভবনের ছাদ থেকেও নদী দেখা যায়। তিনি দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান।

পিয়াজখালী বাজারের ব্যবসায়ী কাজী আবুল কালাম বলেন, দ্রুত জিও ব্যাগ ফেলা বা বাঁধ নির্মাণ করা না হলে বাজারটিও ভেঙে যেতে পারে। এতে শত শত ব্যবসায়ী ক্ষতির মুখে পড়বেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, চলতি মৌসুমেই আমাদের গ্রামের ১০০ বিঘার বেশি জমি নদে চলে গেছে সেই সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী পিয়াজখালী বাজার, জনসংঘ আদর্শ ইচ্চ বিদ্যালয়, ১১ নম্বর মুন্সীর চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পিয়াজখালী জামে মসজিদ ও মাদ্রাসা নদ থেকে মাত্র ৫০০ গজ দূরে রয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এসব স্থাপনাও যেকোনো সময় নদে বিলীন হয়ে যেতে পারে।
অন্যদিকে, আলফাডাঙ্গার চর খোলাবাড়িয়া, দিগনগর ও আশপাশের এলাকায় মধুমতী নদীর ভাঙনে ইতিমধ্যে দুটি মসজিদ, প্রায় ৫০০ একর জমি ও ১২০ থেকে ১৩০টি বসতঘর নদীতে বিলীন হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে আল হেরা দাখিল মাদ্রাসা, দিগনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চর খোলাবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি সাব-পোস্ট অফিস, এতিমখানা, কয়েকটি মসজিদ, কবরস্থানসহ বিভিন্ন স্থাপনা।
আল হেরা দাখিল মাদ্রাসার সুপার মো. আব্দুর রব বলেন, মাদ্রাসা থেকে নদী মাত্র ৪০ গজ দূরে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে অল্প সময়ের মধ্যেই প্রতিষ্ঠানটি নদীগর্ভে চলে যেতে পারে। এতে প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থীর পড়াশোনা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
চর খোলাবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলমগীর খান বলেন, বিদ্যালয় থেকে নদী প্রায় ৬০ গজ দূরে। দ্রুত ভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয় কৃষকেরা জানান, নদীভাঙনে তাদের ফসলি জমি ও বসতঘর হারিয়ে অনেকে অন্যের জমিতে আশ্রয় নিয়েছেন। গত বছর ভাঙন ঠেকাতে জিও ব্যাগ ফেলা হলেও এ বছর সেসব এলাকাও নদীতে বিলীন হয়েছে। গত তিন বছরে ভাঙনের কারণে চর মাকড়াইল গ্রামের বড় অংশ নদীগর্ভে চলে গেছে বলেও তারা জানান।
বুড়াইচ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল ওহাব পান্নু বলেন, দিগনগর, চর খোলাবাড়িয়া ও চর মাকড়াইল গ্রাম নদীভাঙনের হুমকিতে রয়েছে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন রোধের ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন।
আলফাডাঙ্গার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (চলতি দায়িত্ব) সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ কে এম রায়হানুর রহমান বলেন, স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে কথা বলে জিও ব্যাগ ফেলার ব্যবস্থা করা হবে।
ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব হোসেন বলেন, ভাঙনকবলিত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে আগামী দুই দিনের মধ্যে জিও ব্যাগ ফেলা হবে। তবে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণে সময় লাগবে।