এই বদ অভ্যাসগুলো আপনার?
ইমাম হোসেন মানিক
প্রকাশ: ৩০ নভেম্বর ২০২৫ | ০৬:৪৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
অজান্তে আমরা প্রায় সবাই নিজের ভেতর কিছু বদ অভ্যাস লালন করি। ভেবেও দেখি না, কী ভয়ানক পরিণতি ডেকে আনতে পারে এই অভ্যাসগুলো। চলুন, আপনার ভেতর আছে কিনা দেখে নিই–
ভেবে দেখেননি নিশ্চয়ই: রাত জাগার ফলে ঘুম থেকে উঠতে দেরি হয় আপনার। ফলে সকালের ক্লাস ধরতে পারেন না। এ নিয়ে বাসায় ও ক্লাসে বকাও শুনতে হয়। তবু মাথাব্যথা নেই আপনার। বরং বেশ হেলেদুলে ক্লাসে যান কানে ইয়ার ফোন গুঁজে। ফুটপাতে হেঁটে হেঁটে গান শোনেন। শুধু তাই নয়; ফুট ওভারব্রিজ ব্যবহার না করে, ইয়ার ফোন কানে গুঁজে রাস্তা পার হন ট্রাফিক সিগন্যালের তোয়াক্কা না করে। ভাবেন, বদ অভ্যাসে কী ঝুঁকি নিচ্ছেন!
চলন্ত গাড়ি থেকে লাফ: ব্যস্ততা থাকতেই পারে, তাই বলে হুটহাট চলন্ত গাড়িতে উঠে পড়বেন? গাড়ি ঠিকমতো না থামতেই লাফিয়ে নামবেন? মনে রাখুন, গাড়ি চলে পিচঢালা পথে। এই পিচ কখনও আপনার শরীরে আদরে পরশ বুলাবে না। আপনি তার গায়ে আছড়ে পড়লে, সে আপনাকে যন্ত্রণা ছাড়া কিছুই দেবে না। আর পেছন থেকে আসা ধাবমান আরেকটি গাড়ি আপনার শরীরকে তো পাত্তাই দেবে না। তাই বলি, নিজের গন্তব্যে যেতে কয়েকটা সেকেন্ড অপেক্ষা করে যদি বিপদ এড়ানো যায়, তাতে লাভ বই লোকসান নেই!
আড্ডায়: চটপটি, ফুচকা আর বাদামের খোসায় চেনা গানের সুর তুলে আড্ডায় বসলেন। এই আড্ডার জগৎ আপনাকে যতটা তৃপ্তি দেয়, হয়তো তা আর কোথাও পান না। কিন্তু আড্ডা যদি হয় ঝুঁকিপূর্ণ কোনো জায়গায়, তখন কেমন হবে, বলুন তো? ছাদের রেলিংয়ে বসে মনের আনন্দে আড্ডা দিচ্ছেন। আছে বন্ধুরা। স্বপ্ন দেখাচ্ছেন একে অন্যকে। হঠাৎ স্বপ্নের গায়ে এসে যদি লাগে দমকা হাওয়া, বুঝতেই পারছেন, ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যেতে পারেন নিচে। বলি, একটু সচেতন হলে মন্দ কী? ছাদের মাঝখানে বসে আড্ডা জমালে বছর শেষে কত টাকা জরিমানা গুনতে হবে আপনাকে?
হেলমেট ছাড়া বাইক: গতি আপনাকে তাড়া দেয়। দেবেই তো! গতিকে হার মানানোর মোক্ষম সময় তো তারুণ্যই। আপনার তাগড়া মনোবলের কাছে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারে দুর্বলতায় ভর করে চলা গতি? এই গতিকে হার মানাতে আপনি বাইক ছোটালেন হেলমেট ছাড়া। জানি, গতি মাথা নত করবে আপনার কাছে। কিন্তু বিপদ? সে তো আপনার গতিকে কাবু করার জন্যই গর্ত খুঁড়ে বসে থাকে! বলি, কেন বিপদের কাছে হেরে যাবেন আপনি? বরং হেলমেট পরে গতির সঙ্গে হারিয়ে দিন না বিপদকেও!
লোকসানের বোঝা: প্রয়োজন ও সময়ের তাগিদেই মানুষ আপন করে নিয়েছে ফোন ও অনলাইন। ভিডিও গেমসে খুঁজে পাওয়া যায় সময়ের রসদ। সময় কাটানো ও একঘেয়েমি ভাব দূর করতে ডিজিটাল অনুষঙ্গের তুলনা চলে না অন্য কিছুর সঙ্গে। অনেকের আবার টিভি দেখেও সময় কাটানো পছন্দ। এসবে দোষের কিছু নেই। যদি এতে আসক্তি হয়ে যায়, তখন কেউ পথ দেখাবে না আপনাকে।
বাজি কিংবা খেয়ালের বশে: আড্ডায় বাজি ধরে কিংবা খেয়ালের বশে অপরিচিত নম্বরে ফোন বা মিসকল দিয়ে অন্যকে বিড়ম্বনার মুখে ফেলবেন না। বস্তুত পক্ষে, অন্যের জন্য খোঁড়া গর্তে পড়তে হবে নিজেকেই। চিংড়ি মাছের চোখ বা শুঁড় খসে পড়লে সময়ের ব্যবধানে আবারও গজিয়ে যায়। আপনি চিংড়ি গোত্রের নন। তাই বদ অভ্যাসের লাগাম ধরুন। নইলে পৃথিবীর আলোমাখা পথ আপনাকে বারবার লাল বাতি দেখিয়ে যাবে।
- বিষয় :
- নিয়ম বদল