ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

গন্তব্য ঠিক করে তবেই কাজে মন দিন

গন্তব্য ঠিক করে তবেই কাজে মন দিন
×

মিয়া হ্যাম। ছবি : সংগ্রহ

মো. মাহমুদুল হাসান

প্রকাশ: ০৫ এপ্রিল ২০২৬ | ০৭:০৫ | আপডেট: ০৭ এপ্রিল ২০২৬ | ১৫:২৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

মিয়া হ্যাম। দুইবার বিশ্বকাপজয়ী আমেরিকান কিংবদন্তি প্রমীলা ফুটবলার। নানা সময়ে দেওয়া তাঁর বিভিন্ন সাক্ষাৎকার থেকে অনুপ্রেরণার কথা তুলে এনেছেন মো. মাহমুদুল হাসান

হাই স্কুলে পড়ার দিনগুলোতে খুবই কঠোর অনুশীলন করতাম আমি। জাতীয় দলে জায়গা পেয়েছি ১৫ বছর বয়সে। ফলে জায়গাটি ধরে রাখার প্রত্যয় ছিল মনে। যখন অনেক সহপাঠীই ‘বড় হয়ে কী হবে’– এমন ভাবনায় অস্থির, ততদিনে আমি ঠিক করে নিয়েছিলাম নিজের গন্তব্য। ফুটবলই গন্তব্য আমার! ফলে নারী-পুরুষ–দুই দলের সঙ্গেই অনুশীলন করতাম। আর তা আমাকে জাতীয় দলের হয়ে দীর্ঘদিন খেলতে সাহায্য করেছে। 

একটু পেছনে ফিরে...

ছোটবেলা থেকেই একটু অন্যরকম ছিলাম আমি। নিজের কাজ বলা যায় নিজেই করতাম। অন্যের দিকে চেয়ে থাকতাম না। এটি খুব ভালো কাজে দিয়েছে। নিজেকে খুব ভালোভাবেই নিজের কাছে উপস্থাপন করতে শিখে গেছি ছোটবেলায়ই। ফলে মাধ্যমিকে পড়ার দিনগুলোতে আরও কঠোর অনুশীলন শুরু করি। এই অনুশীলনই আমাকে নতুন পথের সন্ধান দিয়েছে। মানে খুব অল্প সময়েই আমি জাতীয় দলে জায়গা করে নিয়েছি। ভাবলে অবাক হবেন, তখন আমার বয়স ছিল মাত্র ১৫ বছর। ফলে জায়গাটি ধরে রাখার প্রত্যয় ছিল মনে। এর জন্য বাড়িয়েছি পরিশ্রমের মাত্রা। এখন ভাবলে অবাকই লাগে যে কতটা পরিশ্রম করেছি তখন। আসলে পরিশ্রম ছাড়া কোনো কিছুতেই সফলতা আসে না। ধরে রাখা যায় না সাফল্যও! 

বড় হয়ে কী হবে তুমি?

মনে পড়ে, সেই মাধ্যমিক থেকেই আশপাশের মানুষ জিজ্ঞেস করত ভবিষ্যতের কথা। আমি কিছু বলতাম না। ইচ্ছে করেই। তবে যখন অনেক সহপাঠীই ‘বড় হয়ে কী হবে’– এমন ভাবনায় অস্থির, ততদিনে আমি ঠিক করে নিয়েছিলাম নিজের গন্তব্য। কাছের বন্ধুদেরও বলেছি, ফুটবলই গন্তব্য আমার! এই গন্তব্যের পথে ছুটে চলার জন্য এবং পথটা পাড়ি দেওয়ার জন্য আমি নারী-পুরুষ–দুই দলের সঙ্গেই অনুশীলন করতাম। তা আমাকে জাতীয় দলের হয়ে দীর্ঘদিন খেলতে সাহায্য করেছে।

নিজের পথ বেছে নেওয়া

নিজের ইচ্ছাকে প্রাধান্য শুরুতে ফুটবলের পাশাপাশি বাস্কেটবলও খেলতাম। নিজের পথ বেছে নিতে আমাকে খুব বেশি বেগ পোহাতে হয়নি; কেননা, শুরুতেই বুঝে গিয়েছিলাম, দুটি কাজ করতে পারাই যথেষ্ট। প্রথমত, নিজের অন্তরের ডাক শোনা; দ্বিতীয়ত, সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলা। যখনই এ কাজ দুটি করে ফেলতে পেরেছি, ফুটবলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়ে গেছে আপনা-আপনি। বলি, এ ক্ষেত্রে অন্য কারও আকাঙ্ক্ষা পূরণের চেয়ে বরং নিজের ইচ্ছাকেই প্রাধান্য দেওয়া উচিত। আমি অন্তত এমনটাই করেছিলাম।

ইচ্ছার প্রাধান্য

খেলাধুলার জগৎটি দিন দিন অনেক হিসাব নিকাশের হয়ে উঠেছে আমার জন্য। তাই বলে এতে যে কোনো আনন্দই নেই; তা কিন্তু নয়। যে কোনো চাপ এড়িয়ে, মাঠে ও মাঠের বাইরে প্রতিটি মুহূর্ত নিজের মতো উপভোগ করতে পারা একজন ফুটবলারের জন্য বিশেষ গুণ বলে মনে করি আমি। কেবল ফুটবলার কেন; এটি যে কোনো পেশার ক্ষেত্রেই সমান গুরুত্ব পেতে পারে! 

আরও পড়ুন

×