সাফল্য
হাতে ক্যামেরা আর গাছ নিয়ে ছোটেন যে তরুণ
মেয়ের জন্য রোপণ করেছেন ৬০০ গাছ
ছোট্ট একটা পেয়ারা গাছ দিয়ে গাছ লাগানো শুরু আরিফুলের... ছবি : সংগ্রহ
মুহাম্মদ শফিকুর রহমান
প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৭:৩৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
রাস্তার পাশে পড়ে থাকা ছোট্ট একটি পেয়ারা গাছ বাড়িতে এনে মাটিতে পুঁতেছিল তৃতীয় শ্রেণির এক শিশু। গাছটি বড় হয়েছিল। প্রায় ১০ বছর সেই গাছের পেয়ারা খেয়েছে পরিবার। সম্প্রতি বন্যায় গাছটি মারা গেছে। গাছ লাগানোর অভ্যাসটি মরেনি। সেই শিশুটি এখন এস এম আরিফুল আমিন। পেশায় ফটোসাংবাদিক। ক্যামেরা হাতে ছোটেন দেশের নানা প্রান্তে। যেখানে যান, সঙ্গে থাকে তালবীজ, খেজুরবীজ কিংবা দেশীয় গাছের চারা। একসময় গাছ লাগানো ছিল তাঁর নিজের আনন্দের কাজ। এখন সেটি যেন জীবনের একটি দায়িত্ব।
বাড়ির আঙিনা থেকে সমগ্র বাংলাদেশ
আরিফুলের গাছ লাগানোর গল্পটা কেবল নিজের বাড়ির আঙিনায় সীমাবদ্ধ নয়। তিনি খুঁজে নেন এমন জায়গা, যেখানে জমি আছে, কিন্তু গাছ নেই। নদীভাঙনের আশঙ্কায় অনেক চর ও নদীপারের জমি বছরের পর বছর পড়ে থাকে। সেসব জায়গাতেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। বগুড়ার ধুনট, সিরাজগঞ্জের কাজীপুর, রাজধানীর পূর্বাচলের ৩০০ ফিট সড়ক, গাজীপুরের কাপাসিয়া, কালীগঞ্জ, রাজধানীর আগারগাঁও, শেরেবাংলা নগর কিংবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়–বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে
রয়েছে তাঁর লাগানো গাছ। এর সংখ্যা পাঁচ হাজারের বেশি। তাল, খেজুর, নারকেল,
আম, কাঁঠাল, পেয়ারা, কাঠবাদাম, কৃষ্ণচূড়া, গর্জন, করঞ্জা, সফেদা, আমলকী, মেহগনি, জারুলসহ দেশীয় নানান গাছ রয়েছে সে তালিকায়। তবে গাছ লাগানোর ক্ষেত্রে তাঁর কাছে সংখ্যার চেয়ে একটি গাছ কোথায় লাগানো হলো এবং সেটি শেষ পর্যন্ত টিকল কিনা সেটি গুরুত্বপূর্ণ।
হারিয়ে যাওয়ার আগে করঞ্জা
সম্প্রতি করঞ্জা গাছের বীজ সংগ্রহে নেমেছেন তিনি। একবারে সংগ্রহ করেছেন প্রায় ৫০০ বীজ। তাঁর ধারণা, দেশের অনেক জায়গা থেকে করঞ্জা হারিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় একটি নার্সারির সহায়তায় বীজ থেকে চারা তৈরির কাজও শুরু হয়েছে। চারা বড় হলে ধুনট, সিরাজগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল-মৌলভীবাজার, টাঙ্গাইল, জাতীয় সংসদ ভবন এলাকা ও বনানী লেকের পাশে লাগানোর পরিকল্পনা আছে তাঁর।
মেয়ের জন্য ৬০০ গাছ
‘কার্বন নিউট্রাল বেবি’ ভাবনা থেকে মেয়ের জন্য গাছ লাগানো শুরু করেন তিনি। সাতক্ষীরার এক শিশু রুহামের বাবা-মা সন্তানের জন্য ৫০০টির বেশি গাছ লাগিয়েছেন; সেখান থেকে তিনি অনুপ্রাণিত হন। নিজের মেয়ের জন্য এখন পর্যন্ত লাগিয়েছেন প্রায় ৬০০টি গাছ।
ছবির গল্প ও আগামীর স্বপ্ন
২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর রাজধানীর ৩০০ ফিট এলাকায় তারেক রহমান দেশে ফেরার সময় তাঁর একটি ছবি তোলেন আরিফুল আমিন। পরে টাইম ম্যাগাজিন থেকে তাঁকে ইমেইল করে জানানো হয়, ছবিটি প্রকাশিত হয়েছে। এটিকে তিনি তাঁর ফটোসাংবাদিকতা জীবনের অন্যতম বড় অর্জন মনে করেন। নিজের কাজ সম্পর্কে আরিফুল আমিন বলেন, ‘আমার ছবি আন্তর্জাতিক ৩০০টির বেশি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছে খালেদা জিয়ার জানাজা ও তারেক রহমানের দেশে ফেরার ছবি। খালেদা জিয়ার জানাজার একটি ছবি ৬৭টি দেশের ২৫৬টি সংবাদপত্র, অনলাইন, ম্যাগাজিন ও অন্যান্য মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। ক্যামেরায় ইতিহাস ধরে আর মাটিতে বীজ পুঁতে ভবিষ্যৎ গড়া আমার স্বপ্ন!’
- বিষয় :
- সাফল্য অর্জন