ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

প্রেরণা

জীবনের পাঠই হোক এগিয়ে চলা

জীবনের পাঠই হোক এগিয়ে চলা
×
×

আরমান খান

প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬ | ০৭:৩৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

নাভি পিল্লাই। ২০২৬ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কারজয়ী দক্ষিণ আফ্রিকার মানবাধিকারকর্মী। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের এই বিচারক ও জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনারের বিভিন্ন সাক্ষাৎকার থেকে অনুপ্রেরণার কথা তুলে এনেছেন আরমান খান

২০২৬ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার পর জার্মানির নুরেমবার্গে বক্তব্য দেওয়ার পর অনেকেই আমার মানবাধিকার বিষয়ক কাজের প্রশংসা করে বলেন যে, আপনি অত্যন্ত সাহসী। ঠিক তখনই আমি প্রশ্ন তুলি–সত্য কথা বলার জন্য কেন একজন মানুষের আলাদা করে সাহসের প্রয়োজন হবে? এমনটাই তো হওয়ার কথা তাই না? সমাজে অন্যায় বা বৈষম্য দেখলে তা প্রতিরোধ করা বা সত্য বলাটা কোনো বাড়তি বীরত্ব নয়। বরং এটি প্রত্যেক নাগরিকের স্বাভাবিক দায়িত্ব হওয়া উচিত! অন্যায়ের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে ভয় না পেয়ে সত্যকে আঁকড়ে ধরাই তরুণদের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত। আর যুগ যুগ ধরে তরুণদের ইতিহাস এটিই আমাদের প্রমাণ দিয়ে এসেছে। 

অধিকার সম্পর্কে সচেতন হোন 
সবসময়ের মতো আমি তরুণদের বলব, চারপাশের পরিস্থিতি কতটা উন্নত হয়েছে বা হচ্ছে তা আপনাদের অনুধাবন করতে হবে। একই সঙ্গে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তরুণদের নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। সোচ্চার হতে হবে এবং নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সত্যিকার অর্থে, অধিকার কেউ এসে আপনার হাতে ধরিয়ে দিয়ে যাবে না; নিজের যোগ্যতায় ও সোচ্চার আওয়াজের মাধ্যমে তা অর্জন করে নিতে হয়। অনেকেই বলে, তরুণরা অলস। আমি এটা বিশ্বাস করি না। তরুণদের বলি, কাজ করে যান এবং নিজেদের আইনি ও সামাজিক অধিকার সম্পর্কে পড়াশোনাও অব্যাহত রাখুন।  

চেষ্টা করলে সবই সম্ভব 
আপনি ঠিকই শুনেছেন; চেষ্টা করলেই পরিবর্তন সম্ভব। আমি দক্ষিণ আফ্রিকায় একজন বাসচালকের ঘরে জন্ম নিয়েছি। অত্যন্ত দরিদ্র পরিবার আমার। জীবনে অসংখ্য প্রতিকূলতা জয় করে আজ এখানে এসেছি। আমি সোনার চামচ মুখে নিয়ে পৃথিবীতে আসিনি! আপনারা নিশ্চয়ই জানেন, আমিই প্রথম অশ্বেতাঙ্গ নারী হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকোর্টের বিচারক এবং পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচারক নির্বাচিত হই। এর জন্য আমার পরিশ্রম করতে হয়েছে। শুনতে হয়েছে বর্ণবাদী নানান কথা। তরুণদের বলব, আপনি যদি আন্তরিকভাবে চেষ্টা করেন, তবে অবশ্যই সমাজে একটি বড় পরিবর্তন এনে দিতে পারবেন। এর জন্য করতে হবে কঠোর পরিশ্রম। 

বড় স্বপ্ন দেখুন
তরুণদের বলব, আপনার পারিবারিক বা অর্থনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড যাই হোক না কেন, বড় স্বপ্ন দেখতে কখনও ভয় পাবেন না। আপনার দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি এবং ভালো জানাশোনা থাকলে যেকোনো প্রতিকূলতা ভেঙে বৈশ্বিক মঞ্চে অবদান রাখতে পারেন। বিশ্ব আপনাকে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য যদি আপনি কঠোর পরিশ্রম করে নিজের স্বপ্নের পেছনে যথাযথভাবে ছুটতে পারেন। 

পরিবর্তন আপনার হাত ধরেই আসবে!
অনেকে আমার কাছে জানতে চান, কর্মজীবন থেকে কবে অবসরে যাবেন? আমি বলি, তখনই অবসর নেব; যখন পৃথিবী থেকে মানবাধিকার লঙ্ঘন পুরোপুরি বন্ধ হবে। নিজের কণ্ঠস্বরকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে হাতিয়ার হিসেবে পুরোপুরি ব্যবহার করতে পারবো এবং একটি সমতাভিত্তিক পৃথিবী গড়ে তুলতে পারবো।
তরুণদের বলব, আপনি তরুণ, আপনার হাত ধরেই পরিবর্তন আসবে। অন্য কেউ এই পরিবর্তন আনতে পারবে না! আমি তরুণ প্রজন্মের ওপর অত্যন্ত আশাবাদী যে তারা এই লড়াইকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। 

আরও পড়ুন

×