ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

সচেতনতা

মন বসছে না পড়ার টেবিলে?

মন বসছে না  পড়ার টেবিলে?
×
×

যতক্ষণ পড়বেন মন দিয়েই পড়ুন... মডেল :: মিশুক, মৌরিন ও তাসু ছবি :: সাহস

ফেরদৌস আলম

প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬ | ০৭:৩৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

সমাজিক মাধ্যমের যন্ত্রণা ছাড়াও রাজ্যের চাপ মাথায়। মন থাকে না মনের ঘরে! ওলট-পালট হয়ে যায় সব। পাশাপাশি বয়সের সঙ্গে মনটাও কেমন উড়ালপনা হয়ে যায়। পড়াশোনার চাপ নিতে পারে না তেমন। অথচ অন্য সবই ভালো লাগে যেন। তবু একজন শিক্ষার্থী হিসেবে পড়তে হবে আপনাকে; দিতে হবে মনোযোগ। নিজের মস্তিষ্ককে রাখতে হবে সজাগ। চলুন, কিছু কৌশল জেনে নিই–

মনোযোগ দিয়ে এক ঘণ্টা পড়ুন...
দিনমান অমনোযোগী হয়ে পড়ার চেয়ে মনোযোগ দিয়ে একঘণ্টা পড়াও অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তাই সবার আগে পড়ায় আনতে হবে মনোযোগ। পড়তে পড়তে ক্লান্ত ও অন্যমনস্ক হয়ে পড়লে, চেয়ার ছেড়ে দাঁড়িয়ে যেতে পারেন। এতে মনোযোগ ফিরে আসবে। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের একটি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ৩০০ ছাত্রছাত্রীর মাঝে করা হয়েছে এক গবেষণা। সেই গবেষণার ফল এটি। তাই আপনিও এ পথে হাঁটুন। এ ছাড়া বন্ধুদের সঙ্গে পড়াশোনা নিয়ে আলোচনাও করতে পারেন। আলোচনা করলেও পড়া মনে থাকে বেশ।

দায়িত্ববোধ
অনেকে আছেন, ছোটবেলা থেকেই একটু অন্যমনস্ক, অস্থির প্রকৃতির; পড়াশোনা বা অন্য কিছুতে তেমন আগ্রহ দেখান না, অথবা পড়ায় মন বসাতে পারেন না। তাদের মনোযোগ ফেরানোর জন্য পোষা প্রাণী কিনে দেওয়া যেতে পারে। ছোট ভাইবোনের দেখাশোনার দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। এতে কাজের প্রতি দায়িত্বশীল হয়ে উঠবেন তারা। আর দায়িত্ববোধ জন্মালে আসবে পড়ায় মনোযোগ। 

খাবার মেনু
আমরা খুব ভালো করেই জানি, পড়তে গেলে শরীরে থাকা দরকার যথেষ্ট পরিমাণ ভিটামিন, মিনারেল ও পানীয়; অর্থাৎ স্বাস্থ্যসম্মত খাবার। এসব ছাড়া পড়ায় মনোযোগ বাড়ানোর বিকল্প নেই। এ ক্ষেত্রে ভারী খাবারের পর অন্যান্য ফলের সঙ্গে পর্যাপ্ত আপেল খেতে পারেন। কেননা এতে মিনারেল, আয়রন ও প্রচুর ভিটামিন রয়েছে। জানেন নাকি, জার্মানরা পড়ায় মনোযোগ ফেরাতে বাচ্চাদের স্কুল টিফিনের সঙ্গে আপেল দিয়ে দেয়! 

মস্তিষ্কের খাবার
এ তো গেল ভিটামিনের কথা। এবার মস্তিষ্কে নজর দিতে পারেন। খেতে পারেন বাদাম, আখরোট, সামুদ্রিক মাছ, শাক-সবজি, ফল, গ্রিন-টিসহ বিভিন্ন চা। এসব খাবার শরীর ও মস্তিষ্কের জন্য উপকারী। পড়ার মাঝে পাকা টমেটো বা টমেটোর জুসও খেতে পারেন। ১০০ গ্রাম টমেটোতে রয়েছে ২৫ গ্রাম ভিটামিন সি ও পটাশিয়াম। কাজেই পান করতে পারেন টমেটোর জুস বা অন্য যে কোনো ফল বা সবজির রস।

ফাস্টফুড সতর্কতা 
ফাস্টফুডে ব্যবহার করা হয় নানা রাসায়নিক উপাদান, যা অ্যালার্জির কারণ হয়ে থাকে। শুধু তাই নয়, মনোযোগ আর শরীরেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এগুলো। জার্মানির খাদ্য বিশেষজ্ঞ ডা. ইয়ুর্গেন স্লুইটার মনে করেন, দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি, ভুক্তভোগী অনেকেই ফাস্টফুডের ক্ষতিকর বিষয় জানেন না। ফাস্টফুড লোভনীয় খাবার হলেও শরীর ও মস্তিষ্কে এর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই এ থেকে মুখ ফিরিয়ে মনোযোগ দিন পড়াশোনায়। 

ফেসবুকে বিশ্রাম?
পরীক্ষার সময় অনেকে পড়াশোনার ফাঁকে বিশ্রামের জন্য ফেসবুকে ঢুঁ মারেন অথবা গেম নিয়ে বসেন। এতে মোটেও বিশ্রাম হয় না। পারলে একটা চকোলেট মুখে দিয়ে প্রিয় কোনো গান শুনুন। অথবা বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলুন। এতে মাথা হালকা হওয়ার পাশাপাশি পড়ায় মনোযোগ আসবে।

খেলাধুলা বা ব্যায়াম
গবেষকরা মনে করেন, শারীরিক পরিশ্রম অর্থাৎ খেলাধুলা বা ব্যায়াম যে কোনো মানুষকে যে কোনো চাপ থেকে সহজে মুক্তি দিতে সাহায্য করে। ব্যায়াম বা খেলাধুলা করার ফলে শরীরে হরমোনের প্রকাশ ঘটে কিছুটা অন্যভাবে। স্বাভাবিকভাবেই তার ইতিবাচক প্রভাব পড়ে মনোযোগে। এবার ইতিবাচক বিষয়গুলোতে মন দিয়ে পড়তে বসুন। মন বসবেই পড়ার টেবিলে!  

আরও পড়ুন

×