ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

সাক্ষাৎকার: ডন সম্পাদক

সরকার ও গণমাধ্যমের মতভিন্নতা হলে জনস্বার্থ প্রাধান্য পাবে

সরকার ও গণমাধ্যমের মতভিন্নতা হলে জনস্বার্থ প্রাধান্য পাবে
×

জাফর আব্বাস

সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম

প্রকাশ: ০৯ মে ২০২৬ | ০৭:৫৮ | আপডেট: ০৯ মে ২০২৬ | ১৬:১৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

পাকিস্তানের জনপ্রিয় ইংরেজি দৈনিক ডনের সম্পাদক জাফর আব্বাস। ১৯৮১ সাল থেকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সাংবাদিকতায় যুক্ত তিনি। ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসির ইসলামাবাদ ও করাচি সংবাদদাতা ছিলেন। দ্য হেরাল্ড ম্যাগাজিনের বিশেষ প্রতিনিধি ছিলেন। তিনি এশিয়ান নিউজ নেটওয়ার্কের (এএনএন) সম্পাদকীয় বোর্ডের সদস্য। জাফর আব্বাস ২০১৯ সালে কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস বা সিপিজের গুয়েন ইফিল প্রেস ফ্রিডম অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন। বাংলাদেশ জার্নালিজম কনফারেন্স ২০২৬ উপলক্ষে জাফর আব্বাস এখন ঢাকায়। ৭ মে তিনি কথা বলেছেন সমকালের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সমকালের সহকারী সম্পাদক সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম

সমকাল: সারাবিশ্বে ছাপা পত্রিকার সংখ্যা কমছে। পাকিস্তানে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম কীভাবে সংবাদপত্রকে প্রভাবিত করছে?

জাফর আব্বাস: আপনাকে আমাদের ডনের ওয়েবসাইট, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের উদাহরণ দিয়ে বলতে পারি; সেখানে এত বেশি জনসম্পৃক্ততা থাকে যে প্রিন্ট মিডিয়া নিয়ে আমরা এখন আর ভাবতেও পারি না। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে একের পর এক সংবাদ আপডেট হতে থাকে। 

এটি ঠিক যে, ছাপা পত্রিকা ছিল সংবাদশিল্পের মূল চালিকাশক্তি (ফ্ল্যাগশিপ)। এখন সে জায়গা নিয়েছে ডিজিটাল মিডিয়া। তবে ছাপা পত্রিকার গুরুত্ব কমবে না। কেননা, ছাপা পত্রিকায় কাজ করা সাংবাদিকরা অনেক বেশি অভিজ্ঞ। সেখানে সম্পাদকীয় নীতি, দক্ষ সংবাদকর্মী, অভিজ্ঞ সাংবাদিকরা কাজ করেন। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত খবরটি ছাপা পত্রিকায় অনেক যাচাই-বাছাইয়ের মধ্য দিয়ে যায়। দিনশেষে কিন্তু পাঠক বিশ্বাসযোগ্য খবর চায়। ফলে অনেক সংখ্যক খবর যেমন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যায়, তেমনি আবার নির্ভরযোগ্য খবরটি পেতে মুদ্রিত সংবাদমাধ্যমের ওপর নির্ভর করতে হয়। এভাবেই দুটি মাধ্যম এখন একটি আরেকটির সঙ্গে সমন্বয় করে চলছে। 

সমকাল: পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমে কোন ধরনের কর্মী নিয়োগ পান? 
জাফর আব্বাস: পাকিস্তানে সাংবাদিকতা শেখার খুব ভালো কোনো প্রাতিষ্ঠানিক চর্চা ছিল এমন নয়। ফলে একসময় নানা রকম ব্যাকগ্রাউন্ড থেকেই মানুষ সাংবাদিকতার পেশায় এসেছে। তবে সংবাদমাধ্যমে কাজ করার ক্ষেত্রে পাকিস্তানে কর্মীর ভাষাজ্ঞানকে খুব গুরুত্ব দেওয়া হয়। যে মাধ্যম থেকেই আসুন, ইংরেজি, উর্দু, সিন্ধি বা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কোন কোন ভাষায় তিনি পারদর্শী, তা প্রয়োজন অনুযায়ী বিবেচনা করা হয়। 

সমকাল: সাংবাদিকতা নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাব্যবস্থা কেমন? নারীদের সাংবাদিকতাকে কীভাবে দেখা হয়? 

জাফর আব্বাস: প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ক্ষেত্রে পাকিস্তানেও এখন পরিস্থিতি বদলেছে। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে, উঁচুমানের সাংবাদিকতা শিক্ষা দিচ্ছে। বিভিন্ন মাধ্যমে প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের বিভিন্ন টুলস নিয়ে প্রশিক্ষণ থেকে শুরু করে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাও শেখানো হয়। এর ভেতর থেকে তৈরি হয় ভবিষ্যতের জন্য দক্ষ, ভালো সাংবাদিক। আর নারীদের কথা বলছিলেন; ডন নারীদের সমঅধিকার ও নারীর অধিকার নিশ্চিতে ইতিবাচক উদ্যোগের পক্ষে। সেই অবস্থানে থেকেই ডন দায়িত্ব পালন করে। 

সমকাল: বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম সূচকের ইতিহাসে এবারই প্রথম অর্ধেকের বেশি দেশ সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে ‘গুরুতর’ এবং ‘খুবই গুরুতর’ শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। গত ২৫ বছরের মধ্যে ১৮০টি দেশের গড় হার কখনোই এত নিচে নামেনি। বিষয়টিকে কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন? 

জাফর আব্বাস: চারপাশে তাকালেই বুঝতে পারবেন কেন এমন ঘটছে। এর মধ্যে কী পরিমাণ কর্তৃত্বপরায়ণ, স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থা আরও পোক্ত হয়েছে! কেউ কি তার দেশে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা দিচ্ছে? নানা রকম সেন্সরশিপের মধ্য দিয়েই যেতে হচ্ছে। এরই ফলাফল বিভিন্ন দেশের মুক্ত গণমাধ্যমের অবস্থানের অবনতি হওয়া। 

দেখুন, তথাকথিত মুক্ত গণমাধ্যম এবং গণতন্ত্রের চ্যাম্পিয়ন হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। সেই দেশের প্রেসিডেন্ট নির্লিপ্তভাবে মুক্ত গণমাধ্যমের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে কথা বলে চলেছেন। প্রেসিডেন্ট অভিযোগ করেছেন, তাঁর দেশের মূলধারার সংবাদমাধ্যম সঠিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে না এবং এসব গণমাধ্যমের নাকি নিজস্ব রাজনৈতিক এজেন্ডা রয়েছে। সে দেশে সাংবাদিকরা সরাসরি আক্রমণের শিকার হচ্ছেন। সংবাদমাধ্যম বন্ধ করা এবং সম্প্রচার লাইসেন্স বাতিলের হুমকি আসছে। কী বলবেন আপনি এসব ঘটনাকে?

বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলোতেও গণমাধ্যম এখন কতৃর্ত্ববাদী শাসকের রোষানলে। সারাবিশ্বে যখন সংবাদমাধ্যম এমন চাপের মুখে পড়ে, তখন স্বাভাবিকভাবেই সূচক নিচের দিকে নামবে। 

 সমকাল: এর মধ্যে পাকিস্তানের সূচকে এক ধাপ সামনে এগোলো কীভাবে?

জাফর আব্বাস: পাকিস্তানেও সমস্যা আছে। তবে পাকিস্তানের মুক্ত গণমাধ্যমের জন্য সাংবাদিকদের লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ইতিহাস অনেক দিনের। বছরের পর বছর ধরে এ সংগ্রাম চলেছে। এই সংগ্রামে সাংবাদিক ও গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোর নিশ্চিতভাবেই কিছু অর্জন রয়েছে। পাকিস্তানে মানবাধিকার সংস্থা, সাংবাদিকদের ট্রেড ইউনিয়ন এবং বেশ কিছু গণমাধ্যম আছে, যারা ক্রমাগত মুক্ত গণমাধ্যমের পক্ষে লড়াই করে চলেছে। হয়তো এরই একটি সামষ্টিক ফলাফল সামান্য সামনের দিকে আসা। তবে এতে প্রমাণ হয় না পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম মুক্ত। কর্তৃত্বপরায়ণতার কবল থেকে বের হয়ে স্বাধীন সংবাদ প্রকাশের জন্য সংগ্রাম এখনও রয়েছে। তবে আমাদের লক্ষ্য যতটা সম্ভব দেশের সংবাদমাধ্যকে আরও বেশি স্বাধীনতা দেওয়া। এ ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থ নিয়ে সরকারের বয়ান আর আমাদের উপলব্ধির মধ্যে বিরোধ তৈরি হলে আমরা জনস্বার্থকে প্রাধান্য দেব এবং জনস্বার্থের পক্ষেই থাকব।

সমকাল: সংবাদমাধ্যমে সেলফ সেন্সরশিপ বাড়ছে। দমনপীড়নমূলক নীতি-আইন বাড়ছে। সেন্সরশিপ বনাম সেলফ সেন্সরশিপের মধ্যে কোনটি বেশি ক্ষতিকর?

জাফর আব্বাস: যদি সরকার সেন্সরশিপ প্রয়োগ করে, সেখানে সাংবাদিক হিসেবে আমি বা আপনি এর জন্য দায়ী থাকছি না। বলা যায় যে, সামরিক শাসন বা কর্তৃত্ববাদী শাসকের কারণে কিছু প্রকাশ করা যাচ্ছে না। তবে সেন্সরশিপ প্রয়োগ না করেও সরকার অনেক রকম চাপ তৈরি করতে পারে। যাতে সম্পাদক বা সংবাদকর্মীরা নিজেরাই সেলফ সেন্সরশিপে বাধ্য হন। পাকিস্তান, ভারত বা বাংলাদেশে কিন্তু এমন ঘটনা ঘটছে।

 রাষ্ট্র সেন্সরশিপ প্রয়োগ করলে সাংবাদিকের দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে আপনি জনগণের কাছে তবুও বলতে পারবেন, এটা লেখার এখতিয়ার আপনার নেই। আর সেলফ সেন্সরশিপের অর্থ দাঁড়ায় এমন, লেখার অধিকার থাকতেও আপনি লিখছেন না। জনগণকে এটুকুও বলার উপায় থাকে না যে, একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-প্রতিবেদন আছে, অথচ প্রকাশ করা হচ্ছে না। এই অদৃশ্য চাপই সবচেয়ে কঠিন সমস্যা। সাংবাদিকতার জন্য এর চেয়ে খারাপ আর কী হতে পারে? এটি অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাকে নষ্ট করে। 

সমকাল: এতে তো সংবাদমাধ্যমই ক্ষতির মুখে পড়ে?

জাফর আব্বাস: দক্ষিণ এশিয়াসহ বিশ্বের অনেক দেশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সংবাদমাধ্যমের গ্রহণযোগ্যতা নষ্ট হয়েছে তাদের সম্পাদক বা সাংবাদিকদের সেলফ সেন্সরশিপের জন্য। এখনও তা ঘটে চলেছে। পাঠক, দর্শক তখন স্বাভাবিকভাবেই আরও বেশি সামাজিক মাধ্যমের দিকে ঝুঁকে পড়েন। সেখানে বিশ্বাসযোগ্য খবর থাকুক আর নাই থাকুক। আমি মনে করি, সেন্সরশিপের চেয়েও অনেক বেশি বিপজ্জনক ‘সেলফ সেন্সরশিপ’। 

সমকাল: গোয়েন্দা বিভাগ পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমকে কতটা চাপে রাখে? 

জাফর আব্বাস: এটি নির্দিষ্টভাবে বলা কঠিন। যে কোনো সংবাদমাধ্যম এই চাপের সঙ্গে মানিয়ে নেয়। তারা নিজেদের মতো করে একটি বোঝাপড়ায় আসে। যারা জনগণের কণ্ঠস্বর হিসেবেই নিজেদের ভূমিকাকে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়, তাদের লড়াইটা সবসময় বেশি। সামরিক বা বেসামরিক যে সরকারই আসুক, কেউ নিজেদের সমালোচনা সহ্য করতে পারে না–এ কথা তো সত্যি? বাংলাদেশের দিকে তাকালে দেখা যায়, বেসামরিক সরকার এসে সামরিক শাসনের চেয়েও বেশি কঠোর আচরণ করেছে। দমনপীড়নের ঘটনা ঘটেছে, সাংবাদিকদের নামে মামলা হয়েছে। আবার এটিও সত্যি, যে কোনো দেশের গোয়েন্দা বিভাগই সংবাদমাধ্যমকে চাপে রাখতে নিজেদের ক্ষমতার ব্যবহার করতে পারে। সেটি পাকিস্তান, ভারত, বাংলাদেশ যে কোনো দেশের ক্ষেত্রেই হতে পারে। নির্ভর করে সংবাদমাধ্যমের মালিক, সম্পাদক সেই চাপ থেকে প্রতিষ্ঠানকে কতটা স্বাধীন রাখতে পারবেন। এর জন্য অবশ্যই অনেক মূল্য দিতে হয়। সাংবাদিকতা পেশাটাই দেশের মানুষের কাছে দায়বদ্ধতার। তাদের কাছে কতটা সঠিক তথ্য নির্ভরযোগ্যভাবে আমি তুলে দিতে পারব–এটিই হবে আমার চেষ্টা। 

সমকাল: এ ধরনের পরিস্থিতি সামলানোর বিশেষ কোনো উপায় কী?

জাফর আব্বাস: যে কোনো গণমাধ্যমের অর্থনৈতিকভাবে স্বনির্ভর হওয়া খুব জরুরি বলে মনে করি। সেটি বাংলাদেশের কোনো গণমাধ্যম হোক বা পাকিস্তানের ‘ডন’ হোক। যখন সংবাদমাধ্যম স্বনির্ভর হয়, তখন যেমন তার আরও নতুন নতুন কাজ করার সুযোগ তৈরি হয়, একই সঙ্গে চাপ মোকাবিলাও অনেক ক্ষেত্রে সহজ হয়। সেটি যেন আবার মুনাফার দিকে বেশি না ঝুঁকে যায়, সেটিও লক্ষ্য রাখতে হবে। 

সমকাল: পাকিস্তানের দীর্ঘ সামরিক শাসনের ইতিহাস আছে। তার অধীনে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা চর্চার অভিজ্ঞতা কী?

জাফর আব্বাস: সামরিক শাসন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কি একসঙ্গে চলে? যখন সামরিক শাসন থাকে, তখন মতপ্রকাশের স্বাধীনতার কথা কীভাবে বলা যায়? সামরিক শাসনের সময় ‘সম্পূর্ণ সেন্সরশিপ’ ছিল এবং মানুষের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। আর সামরিক বাহিনী প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে পাকিস্তানের রাজনৈতিক ব্যবস্থার অংশ সবসময়ই হয়ে আছে। 
 
সমকাল: চরমপন্থিদের নিয়ে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে আপনারা কোন বিষয়গুলোকে বিবেচনায় রাখেন?

জাফর আব্বাস: সংবাদমাধ্যম সহিংসতা, সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রবাদ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করবেই। এটি তাদের পেশাদারিত্বের জায়গা। কিন্তু সতর্ক থাকতে হবে যেন সন্ত্রাসবাদ বা জঙ্গিগোষ্ঠীকে কোনোভাবে মহান না করে ফেলা হয়, একই সঙ্গে উগ্রবাদের অভিযোগে অভিযুক্তও যেন আবার সংবাদ পরিবেশনের সময় ভিকটিম না হয়ে যায়; অথবা তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া অমানবিক কোনো আচরণকে যেন উৎসাহ না দেওয়া হয়। মূল কথা হচ্ছে, সংবাদমাধ্যম সব খবর প্রকাশ করবে সর্বোচ্চ নিরপেক্ষতা বজায় রেখে। 

সমকাল: মোহাম্মদ আলি জিন্নাহ মুসলিম লীগের প্রকাশনা হিসেবে ডন পত্রিকা প্রকাশ করেছিলেন। ৮০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ডন অনেক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে। কখনও বিতর্কিতও হয়েছে। ডন এখন কতটা চাপের মুখে সংবাদ পরিবেশন করে?

জাফর আব্বাস: আমাদের মূল্যবোধ খুবই স্পষ্ট–গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বিরুদ্ধে গেলে আমরা বিরোধিতা করব। সেটি বেসামরিক সরকার হোক বা সামরিক সরকার, যার সিদ্ধান্তই হোক। তারা যদি মানবতাবিরোধী সিদ্ধান্ত নেয়, অধিকারকর্মীদের বিরুদ্ধে যায়, আমরা এর বিরোধিতা করব–এটিই ডনের নীতি। ফলে এই যে জনস্বার্থভিত্তিক সাংবাদিকতার নীতি, এটি অনুসরণের জন্য ডন সবসময়ই কিছু না কিছু চাপে থাকে। 
তবে যদি প্রাতিষ্ঠানিক চাপের কথা বলি, তাহলে ডনের সম্পাদকীয় বিষয়ে সাধারণত ম্যানেজমেন্ট বা ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ থাকে না। কোনো প্রতিবেদন প্রকাশের পর ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ সম্পাদকীয় সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা করতে পারে, দ্বিমত পোষণ করতে পারে। কিন্তু, প্রতিবেদন প্রকাশের আগে সেটি করা যাবে না।

সমকাল: নিশ্চয় লক্ষ্য করেছেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক দীর্ঘ সময় ভালো থাকার পর কিছুদিন আগে খারাপ হয়েছিল। তখন আবার পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক দীর্ঘ সময়ের খারাপ অবস্থা থেকে ভালো হয়েছে। এখন আবার ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক ভালো হচ্ছে। পাকিস্তান এই ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে কীভাবে দেখে?

জাফর আব্বাস: দেখুন, আমি রাজনীতিবিদ নই। এ প্রশ্নের উত্তর দেওয়া আমার জন্য সমীচীনও হবে না। নিশ্চয়ই পাকিস্তান বাংলাদেশের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক তৈরি করতে চায়। দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তান-বাংলাদেশের সম্পর্ক উষ্ণ ছিল না। এখন পরিস্থিতি বদলাচ্ছে। আপনি জানতে চাচ্ছেন ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে পাকিস্তানের অবস্থান নিয়ে। আমি এমন কোনো প্রমাণ পাইনি যে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে সুসম্পর্ককে পাকিস্তান ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিবেচনা করে। 

সমকাল: বাংলাদেশ-পাকিস্তানের মধ্যকার বর্তমান সম্পর্ক কতটুকু টেকসই মনে করেন?

জাফর আব্বাস: পাকিস্তান-বাংলাদেশের মধ্যে শুধু ধর্মের মিল রয়েছে এমন নয়। আঞ্চলিকভাবে সম্পর্ক রয়েছে। ভাষাগত ব্যবধান সত্ত্বেও সাংস্কৃতিক দিক থেকে দুই দেশের সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ। আরও অনেক কিছুতে সম্পর্ক রয়েছে দুই দেশের। আমি মনে করি, দুই পক্ষ থেকেই সচেতন প্রয়াস থাকলে বাংলাদেশ-পাকিস্তানের সম্পর্ক অনেকদূর এগিয়ে যাবে। 
 
সমকাল: সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। 

জাফর আব্বাস: আপনাদেরও ধন্যবাদ। 

আরও পড়ুন

×