ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

ছায়ানটে লালন থেকে নীলকমল মিশ্র

লোক সুরে ঐতিহ্য

লোক সুরে ঐতিহ্য
×

ছায়ানট মিলনায়তনে সংগঠনটির সাপ্তাহিক আয়োজনে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শিল্পীরা লোকসংগীত পরিবেশন করেন সমকাল

সমকাল প্রতিবেদন

প্রকাশ: ২২ নভেম্বর ২০২৫ | ০৮:২০

| প্রিন্ট সংস্করণ

আলো-আঁধারি পরিবেশ। একের পর এক শিল্পীর লোকসংগীত পরিবেশনা। গানগুলো স্মৃতি, সাধনা আর লোক-ঐতিহ্যের এক অমলিন স্রোতধারা। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ছায়ানট মিলনায়তনে এ দৃশ্য দেখা যায়।

সাপ্তাহিক আয়োজনের শুরুতে সম্মেলক শিল্পীরা পরিবেশন করেন লালনগীতি ‘ও যার আপন খবর’। লালনের সুরে যে ভাব, সেই ভাবই যেন মুহূর্তে মঞ্চ থেকে ছড়িয়ে পড়ে দর্শকের মন-সংবেদে। এরপর একে একে একক পরিবেশনায় উঠে আসেন ছায়ানটের শিক্ষার্থী ও শিল্পীরা।

পাওয়েল বিশ্বাস গাইলেন ভাবমগ্ন লালনগীতি ‘আমি অপার হয়ে বসে আছি’। তাঁর সুরে যেন ধ্যানের স্রোত। এরপর ফারজানা আফরিন ইভা স্নিগ্ধ কণ্ঠে শোনালেন ‘কবে সাধুর চরণ ধূলি’। মো. মানিকের কণ্ঠে ‘নিচে পদ্ম চরকবাহন যুগল মিলন’ ছিল পরিমিত, ভরাট ও অনুভবে পূর্ণ। বিমান চন্দ্র বিশ্বাসের গাওয়া ‘পাবে সামান্যে কি তার দেখা’ দর্শককে টেনে নিয়ে যায় লালনের দর্শনবিশ্বে।
এ সন্ধ্যায় বিশেষভাবে মঞ্চে ওঠেন জনপ্রিয় শিল্পী চন্দনা মজুমদার। তাঁর পরিবেশনে লালনগীতি যেন আরও গভীর হয়ে ওঠে মিলনায়তনের নীরবতায়।

লালনের পর পরিবেশিত হয় সম্মেলক গান মনমোহন দত্তের ‘মন মাঝে কার যেন ডাক শোনা যায়’। লোকসুরের সরলতা এখানে যেন প্রেম ও আকুলতার কোমল বাহন হয়ে ওঠে। এরপর এককভাবে নাজমুল আহসান তুহিন পরিবেশন করেন তাঁর জনপ্রিয় গান ‘নয়ন টানে নয়ন টানে গো’। অভিবাদন দাস অর্ণের গলায় ‘আমি তোমার পোষা পাখি’ ছিল ভরাট মমতায় ভরা, যা মনমোহন দত্তের গানে চাই।
মুহাম্মদ কামরুল বাশার গাইলেন ‘গুরু কল্পতরুমূলে’। গানে ছিল গুরুপ্রেমের সুরভি। আবুল কালাম আজাদ পরিবেশন করলেন ‘আগে সত্য পাছে দয়া’। গানটি এগিয়ে গেল মানুষের ভেতরের জাগরণ আর দয়ার দর্শনে।

সম্মেলকভাবে পরিবেশিত হয় কামাল পাশার কালজয়ী গান ‘প্রেমের মরা জলে ডোবে না’। এই গানে মঞ্চ যেন একটু দুলে ওঠে জীবনের নিষ্ঠা আর অনিবার্য প্রেমের শক্তিতে। এরপর একক পরিবেশনায় মহিতোষ কুমার মণ্ডল গাইলেন ‘বন্ধু কান্দাই ও না আর’। যার আবেগ ছুঁয়ে গেল দর্শকের নীরবতা।

 

আরও পড়ুন

×