ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

চুল সাজুক অলংকারে

চুল সাজুক অলংকারে
×

মডেল: ঈপ্সিতা; মেকওভার: রেড বিউটি স্যালন; চুলের গহনা: শৈলী; ছবি: ফয়সাল সিদ্দিক কাব্য

রিক্তা রিচি

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ০৬:৩২

কবি কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর কল্পনার প্রেমিকার মেঘ কালো এলো চুল বিজলী জরীণ ফিতায় বাঁধতে চেয়েছিলেন। কখনোবা প্রিয়ার খোঁপায় তারার ফুল পরাতে চেয়েছিলেন। কল্পনা যতটা অধরাই হোক না কেন, এ কথা স্পষ্ট যে, কবি প্রিয়ার চুল সাজাতে চেয়েছেন নানা অলংকারে। হোক তা উপমা কিংবা নিরেট ফিতা। যুগ যুগ ধরে কবির কল্পনাই যেন বাস্তবে ফিরে ফিরে এসেছে। জায়গা করে নিয়েছে নারীর চিন্তায়-ফ্যাশনে-ভ্যানিটি রুম তথা ড্রেসিং টেবিলে। এখনকার নারীরা বিশেষ করে তরুণীরা চুল বাঁধেন নানা ঢঙে। আবার পিঠে এলিয়ে দেওয়া চুলেও কায়দা করে জড়িয়ে নেন কাঁটা কিংবা ফ্যাশনেবল অলংকার। আজকাল বাহারি ধরনের চুলের অলংকার পাওয়া যাচ্ছে। 

একসময় চুলের সাজে ফুলের ব্যবহার ছিল তুঙ্গে। এখনও তা রয়েছে। তবে এখন চুল সাজাতে অর্নামেন্টাল হেয়ার ব্যান্ডের ব্যবহার বেড়েছে। একসময়ের বো ক্লিপ এখন কিশোরী-তরুণী, যুবতীদের নিত্যদিনের সঙ্গী। আবার মধ্যবয়সী নারীরাও অনায়াসে স্টাইল করতে পারেন এ ধরনের চুলের গহনা দিয়ে। বাজার ঘুরে দেখা যায়, বো ডিজাইনের ক্ল  ক্লিপ, স্ক্রাঞ্চিজ, চুলের কাঁটা, ব্যান্ডানা, হেড ব্যান্ড, পাঞ্চ ক্লিপ ইত্যাদি বেশ চলছে। মেটাল বিশেষ করে তামা ও পিতলের তৈরি চুলের কাঁটা, কাঠ ও অন্যান্য উপকরণে তৈরি চুলের কাঁটার কদর বেড়েছে। বেড়েছে টেকসই উপকরণে তৈরি চুলের গহনার কদর।
স্ক্রাঞ্চিজ, ক্ল ক্লিপে সিল্ক, জর্জেট, নেট ও ভিসকস কাপড়ের প্রাধান্য বেড়েছে। মূল অংশ গোল কিংবা চারকোনা আকৃতির আর নিচের অংশ ঝালরযুক্ত– এমন মেটালের চুলের ক্লিপও বাজারে পাওয়া যাচ্ছে।  বিভিন্ন ধরনের চুলের গহনায় ফিতা, লেইস, চুল ইত্যাদি ব্যবহার করা হচ্ছে। কিছু কিছু স্ক্রাঞ্চিজে পুঁতি, পাথরও ব্যবহার করা হয়। মূলত যতভাবে নন্দন সৃষ্টি করা যায়, তার সবটার দেখাই মেলে। আবার গোলাপ, সাধারণ কোনো জংলি ফুল কিংবা নাম না জানা ফুলের নকশাও হেয়ার ব্যান্ডে ব্যবহার করা হচ্ছে। বিভিন্ন নকশা করা চুলের গহনা পাওয়া যায় জুয়েলারি ব্র্যান্ড শৈলীতে। বিভিন্ন ধরনের গহনা বিশেষ করে মেটাল, পাথর, পুঁতি ইত্যাদির গহনার পাশাপাশি সেখানে রয়েছে চুলের গহনাও। সেসব গহনার ডিজাইনে রয়েছে ঐতিহ্য, আধুনিকতা ও সাবেকিয়ানার মিশেল। শৈলীর উদ্যোক্তা তাহমিনা শৈলী বলেন, ‘আমরা সারাবছরই চুলের গহনা তৈরি করি। পূজা, ঈদ ও কোনো উৎসবের আগে বিশেষ নকশা করি। তাছাড়া গরমে আরামে চলাফেরা করার উপযোগী করেও চুলের কাঁটা করা হয়। ছোট, মাঝারি ও বড় চুলভেদে কাঁটার আকৃতি ও নকশায় ভিন্নতা আনার চেষ্টা করি।’ 

তাহমিনা বলেন, ‘আমরা মূলত তামা ও পিতলের গহনা তৈরি করি। কিছু কিছু চুলের গহনা গোল্ড প্লেটিং ও সিলভার প্লেটিং করি। তবে এগুলো বেশ চকচকে হয়ে যায়, যা এই গরমে চোখে আরাম দেয় না। তাই রঙের ক্ষেত্রে একটু ডিপ ও ব্ল্যাক টোন রাখার চেষ্টা করি।’  

ডিজাইনের ক্ষেত্রে লতা-পাতা, পদ্ম, কলকা, বল ইত্যাদিকে প্রাধান্য দেওয়া হয় বলে জানান তাহমিনা। তিনি জানান, চুলের গহনায় মোগল ডিজাইনও করা হয়। মূলত ঐতিহ্য, বাংলা ও বাঙালিদের প্রিয় এমন নকশাকেই গুরুত্ব দেন তিনি। স্বতন্ত্র নকশার সেসব চুলের গহনার দাম শুরু ৫০০ টাকা থেকে। যারা এলিগ্যান্ট লুকের জন্য চুলের গহনা নিতে চান তারা শৈলী থেকে ৫০০ থেকে ৫ হাজার টাকার মধ্যে পেয়ে যাবেন।  
বাহারি ধরনের হেয়ার অ্যাকসেসরিজ পাওয়া যায় ফ্লোরা বিডিতে। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী ফারদিনা রহমান জানান, ফ্লোরা বিডিতে ৩০০টিরও বেশি হেয়ার অ্যাকসেসরিজ রয়েছে। নবজাতক শিশুদের জন্য আলাদা পণ্য যেমন রয়েছে, তেমনি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, তরুণী এবং প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের জন্যও রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ট্রেন্ডি ও ফ্যাশনেবল অ্যাকসেসরিজ। স্ক্রাঞ্চি, হেয়ার ক্ল, হেয়ার বো, বিভিন্ন ধরনের ক্লিপ, টারবান্ড, ফাংশন বা অনুষ্ঠানে পরার জন্য হেড ক্রাউন, ভ্রমণের জন্য ব্যান্ডানা ইত্যাদি সবই পাওয়া যায় এখানে।  ‘আমাদের পণ্যের দাম খুব সাশ্রয়ী। হেয়ার অ্যাকসেসরিজের দাম শুরু ২৫০ থেকে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত’–বলেন ফারদিনা। 

পোশাকের সঙ্গে চুলের সাজ যেমন হবে
শাড়ির সঙ্গে চুলে খোঁপা করে সেখানে ফুল গুঁজে দেওয়ার রীতি খুব প্রচলিত। বেশ পুরোনোও। এখন খোঁপা করে সেখানে মেটালের অর্ধবৃত্তাকার কিংবা চাঁদ আকৃতির ঝালরযুক্ত গহনা ঝুলিয়ে দেওয়া যায়। এতে এলিগ্যান্ট লুক পাওয়া যায়। বেণি, ঝুঁটি এমনকি এলো চুলেও বিভিন্ন ধরনের অ্যাকসেসরিজ ব্যবহার করা যায়। বিভিন্ন ধরনের ক্লিপের সাহায্যে লুকে বৈচিত্র্য আনা যায়। 
পার্টি সাজের সঙ্গে খোঁপা করে কিংবা সামনের দিকে চিকন চিকন অনেক বেণি করে তাতেও বসানো যায় অনুষঙ্গ। কৃত্রিম মুক্তা কিংবা সাদা পাথরের ব্যবহার লুকটাই বদলে দেয়। ঢিলেঢালা বেণি করেও বসানো যেতে পারে পাথর বা মুক্তার কাঁটা। লম্বা কামিজ বা গাউনের সঙ্গে মেসি ধাঁচে খোঁপা করে তাতে গুঁজতে পারেন এগুলো। খোঁপায় পালকের ক্লিপ লাগালেও কিন্তু ভালো লাগে। শাড়ি কিংবা সালোয়ার-কামিজের সঙ্গে চুলে বেণি করলে সেখানে হেয়ার স্ট্রিংস ঝুলিয়ে দিতে পারেন। যদি ঐতিহ্যবাহী সাজে নিজেকে সাজান, তাহলে তার সঙ্গে বেণিতে ধাতব টারসেল, খোঁপায় মুক্তার কাঁটা বা ঝুমকা লাগাতে পারেন। 

মনের মতো চুল সাজাতে যত্ন
চুলে বিভিন্ন স্টাইল করার জন্য যত্নটা সঠিকভাবে নিতে হবে। ঘন চুলকে ইচ্ছামতো সাজানো যায়। নয়তো বিভিন্ন ধরনের ক্লিপ ব্যবহারের খুব একটা সুযোগ থাকে না। চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে নিয়মিত চুল আঁচড়ানোর পাশাপাশি প্রোটিন, বায়োটিনসমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। আমলকী, ডিম, কালোজিরা ইত্যাদি নিয়মিত খেতে হবে। মাথায় সপ্তাহে একবার হেয়ার প্যাক লাগাতে হবে। মাসে একবার প্রোটিন কিংবা ক্যারাটিন ট্রিটমেন্ট করা যেতে পারে। সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার চুলে শ্যাম্পু করতে হবে। এরপর কন্ডিশনার ব্যবহার করতে হবে। সপ্তাহে একদিন কিংবা দুদিন চুলে তেল লাগাতে হবে। নয়তো স্ক্যাল্পে ময়েশ্চার থাকবে না।

আরও পড়ুন

×