তাপ ছাড়াই কার্লি চুল
ঘরোয়া পদ্ধতিতে কার্ল করলে চুলের ক্ষতি কমবে মডেল: কেয়া পায়েল; ছবি: রফিকুল ইসলাম রাফ
ইসরাত জাহান
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৫ | ০৬:৩১
| প্রিন্ট সংস্করণ
চুল কার্ল করা মানেই অনেকে ভাবেন কার্লিং আয়রন, স্ট্রেইটনার বা ব্লো ড্রায়ারের সাহায্য নিতে হবে। এসব যন্ত্রের অতিরিক্ত তাপ চুলের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা নষ্ট করে দেয়। ফলে চুল হয় শুষ্ক, ভঙ্গুর ও প্রাণহীন। অথচ চাইলে একদম ঘরোয়া উপায়ে তাপ ছাড়াই সুন্দরভাবে হেয়ার কার্ল করা সম্ভব। এতে চুল যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, তেমনি থাকবে প্রাকৃতিক ঝলমলে ভাবও।
বেণি পদ্ধতি
সবচেয়ে সহজ ও জনপ্রিয় উপায় এটি। রাতে ঘুমানোর আগে চুল ভাগ করে কয়েকটি বেণি করে নিন। আপনি যত বেশি বেণি করবেন কার্ল তত ঘন ও ছোট হবে। সকালে ঘুম থেকে ওঠে বেণি খুলে নিলেই পাবেন স্বাভাবিক ওয়েভি বা কার্লি চুল। একটু হেয়ার সিরাম বা লাইট হেয়ার অয়েল ব্যবহার করলে কার্ল আরও সুন্দরভাবে সেট হবে।
হেডব্যান্ড কার্ল
সবচেয়ে সহজ ও কম পরিশ্রমে করা যায় এমন একটি পদ্ধতি হলো হেডব্যান্ড কার্ল। মাথায় একটি হেডব্যান্ড আর সামান্য হেয়ার প্রোডাক্ট থাকলেই যথেষ্ট। রাতে ঘুমানোর আগে মাথায় হেডব্যান্ড পরে নিন। এরপর চুল মাঝ বরাবর ভাগ করে নিন এবং প্রতিবার প্রায় এক ইঞ্চি পরিমাণ চুল পাকিয়ে হেডব্যান্ডের ভেতরে পেঁচিয়ে নিন। রাতে এভাবে ঘুমিয়ে সকালে চুল খুললে পাবেন ন্যাচারাল কার্ল হেয়ার। প্রথমে কার্লগুলো একটু শক্ত বা অগোছালো লাগতে পারে; তাই হালকা করে ব্রাশ করে নিন। এরপর অল্প হেয়ার ক্রিম বা সিরাম ব্যবহার করলে ফ্রিজি ভাব দূর হবে এবং কার্ল আরও সুন্দরভাবে সেট হবে।
টুইস্ট বান
সবচেয়ে সহজ উপায়ে বিচ ওয়েভ কার্ল পেতে এটি দারুণ কার্যকর পদ্ধতি। রাতে ঘুমানোর আগে চুল মাঝ বরাবর ভাগ করে নিন। দুই পাশের চুল আলাদা করে দুটি উঁচু পনিটেইল বানান। প্রতিটি পনিটেইল দড়ির মতো শক্ত করে পাকিয়ে নিন এবং শেষে চারপাশে পেঁচিয়ে গোল করে বেঁধে ফেলুন। এভাবে দুই পাশের চুল পেঁচিয়ে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়ুন। সকালে ঘুম থেকে উঠে চুল খুলে আঙুল দিয়ে হালকা করে আঁচড়ে নিন। তারপর সামান্য সি-সল্ট স্প্রে ছিটিয়ে চুলে স্ক্রাঞ্চ করুন। এতে পাবেন ঢেউ খেলানো বিচ ওয়েভ কার্ল, যা দেখতে হবে ভলিউমযুক্ত ন্যাচারাল ও স্টাইলিশ।
হিটলেস রোলার
বাজারে এখন নানা ধরনের হিটলেস রোলার ও ফ্লেক্সি রড পাওয়া যায়। এগুলো চুলে জড়িয়ে সারারাত রেখে দিলে ন্যাচারাল কার্ল তৈরি হয়। সবচেয়ে ভালো হয় যদি আগে চুলে হালকা লিভ-ইন কন্ডিশনার বা সেটিং স্প্রে লাগানো হয়, এতে কার্ল দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং ফ্রিজও কমে।
পনিটেইল মেথড
রাতে ঘুমানোর আগে চুল উঁচু করে একটি পনিটেইল বানান। পনিটেইলের ছোট ছোট অংশ আলাদা করে স্ক্রাঞ্চির চারপাশে পেঁচিয়ে একটি বান বা খোঁপার মতো বানিয়ে রাখুন। রাতে এভাবে ঘুমিয়ে পড়ুন। সকালে ঘুম থেকে উঠে স্ক্রাঞ্চি খুলে চুল আঙুল দিয়ে হালকা করে আঁচড়ে নিন। চাইলে সামান্য হেয়ার শাইন স্প্রে ব্যবহার করুন। এতে পাবেন ভলিউমযুক্ত ন্যাচারাল কার্ল হেয়ার।
স্ক্রাঞ্চিং মেথড
সবচেয়ে সহজ ও দ্রুত মেসি বা ওয়েভি কার্ল পেতে স্ক্রাঞ্চিং মেথড খুব কার্যকর। চুল ধুয়ে সামান্য ভেজা থাকতেই জেল লাগিয়ে চুলকে ওপরের দিকে স্ক্রাঞ্চ করুন। চুলের গোড়ায় প্রোডাক্ট লাগাবেন না। শুধু মধ্যবর্তী অংশ এবং শেষে লাগান। চুল স্ক্রাঞ্চ করার সময় কাগজ মুড়ার মতো হালকা চেপে ধরবেন। চুল পুরোপুরি শুকিয়ে গেলে আঙুল দিয়ে হালকা করে আঁচড়ে নিন। এতে পাবেন ন্যাচারাল, মেসি ওয়েভি হেয়ার।
কাপড়ের ফিতা
এটি সামাজিক মাধ্যমে বেশ জনপ্রিয় একটি উপায়। লম্বা কাপড়ের ফিতা নিয়ে চুলের গোড়া থেকে প্রান্ত পর্যন্ত পেঁচিয়ে নিন। তারপর গিঁট দিয়ে বেঁধে রাখুন। রাতে রেখে সকালে খুললে দেখা যাবে দারুণ কার্লি চুল। চাইলে একটু হেয়ার স্প্রে ব্যবহার করে সেট করতে পারেন।
টুইস্ট ও পিন-আপ
চুল হালকা ভেজা অবস্থায় ছোট ছোট ভাগ করে ঘুরিয়ে গোল করে মাথার ত্বকের সঙ্গে পিন দিয়ে আটকিয়ে নিন। শুকিয়ে গেলে পিন খুলে দিন। এ পদ্ধতিতে চুলে তৈরি হয় ক্ল্যাসিক কার্ল; যা অনেকটা ভিন্টেজ লুক দেয়।
টিপস
চুল ভেজা নয়, স্যাঁতসেঁতে অবস্থায় কার্ল করুন। পুরো ভেজা চুলে কার্ল স্থায়ী হয় না। ঘুমানোর সময় মাথায় সাটিন বা সিল্ক স্কার্ফ ব্যবহার করলে কার্ল নষ্ট হয় না। প্রতিবার কার্ল করার আগে ও পরে হালকা সিরাম ব্যবহার করুন। এতে চুলে ফ্রিজ কমে ও শাইন বাড়ে। একবারে বেশি প্রোডাক্ট ব্যবহার করবেন না। এতে চুল ভারী ও চিটচিটে দেখাবে। v
তথ্য সূত্র: বার্ডি, স্টাইল ক্রেজ
- বিষয় :
- চুল
