ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

রুক্ষ চুলের ঘরোয়া যত্ন

রুক্ষ চুলের ঘরোয়া যত্ন
×

ঘরোয়া প্যাক চুলে প্রাণ ফেরাতে কার্যকর

বীথি রহমান

প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৫ | ০৬:৩১

| প্রিন্ট সংস্করণ

ঘন কালো ঝলমলে চুলে বাঙালি নারী হয়ে ওঠেন সৌন্দর্যের অনন্য মূর্তি। সুন্দর চুলের নারী দেখলেই মনে উঁকি দেয় জীবনানন্দের বিখ্যাত ও বহুল চর্চিত লাইন–‘চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা...।’ বাংলা সাহিত্যে প্রেম ও রহস্যের প্রতীক হিসেবে চুলকে বর্ণনা করা হয়েছে। নারীর সৌন্দর্যের অনন্য অংশ চুলের ব্যাপারে তাই এক চুলও ছাড় নয়! তবে আবহাওয়ার মর্জি বুঝে চুলের সৌন্দর্য রক্ষায় থাকতে হবে সদা সচেতন। 
শীত আসি আসি করছে। ঋতু বদলের এ সময় চুলে লাগে পরিবর্তনের হাওয়া। চুল হয়ে যায় রুক্ষ, প্রাণহীন। রুক্ষ চুল ঝরেও বেশি। চুল পড়া রোধ ও রুক্ষতা দূর করতে এ সময় প্রয়োজন হয় বাড়তি যত্নের। 
ঘরোয়া যত্নআত্তি: রুক্ষ চুলে প্রাণ ফেরাতে স্কাল্প ও পুরো চুলে তেল ম্যাসাজ করতে হবে। রূপবিশেষজ্ঞ ফারহানা রুমি জানান, তেল হলো চুলের খাবার। তাই রুক্ষ চুলের যত্নে এর বিকল্প নেই। চুলে প্রাণ ফেরাতে নারকেল তেল কুসুম-গরম করে মাথার তালু ও চুলে ম্যাসাজ করুন। ২০ মিনিট রেখে চুল শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে নিন। চাইলে অলিভ অয়েলও ব্যবহার করতে পারেন। তেল প্রাকৃতিক কন্ডিশনার হিসেবে কাজ করে। তাই আলাদা কন্ডিশনার ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে না। তেল লাগিয়ে শ্যাম্পু করার পর ঝলমলে চুলের সঙ্গে মনও হবে ফুরফুরে। 
ডিমের সাদা অংশ, এক চা চামচ মধু ও লেবুর রস এবং দুই চা চামচ টকদই মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। এ প্যাকটি চুল ও মাথার ত্বকে ভালো করে লাগিয়ে রাখুন অন্তত ৩০-৪০ মিনিট। শ্যাম্পু করার পর দেখবেন চমক। এটি ব্যবহারে চুল হয় মাখনের মতো নরম ও কোমল। মাসে দুবার এ প্যাকটি লাগাতে পারেন। চুল অনুযায়ী উপাদানগুলোর পরিমাণ কমিয়ে-বাড়িয়ে নিতে পারেন। 
অ্যালোভেরার জেল পাতা থেকে বের করে সরাসরি চুলে লাগান। ৩০ মিনিট পর শ্যাম্পু করে ফেলুন। অ্যালোভেরার জেল তাৎক্ষণিক চুলকে ঝরঝরে ও প্রাণবন্ত করে। 
কলা চটকে পুরো চুলে লাগিয়ে রাখুন অন্তত ২০ মিনিট। পাকা কলা চুলের আগা ফাটা দূর করতে সাহায্য করে। এ ছাড়া এই প্যাকটি চুল রেশমি করতেও কার্যকর ভূমিকা রাখে। কলা আঠালো প্রকৃতির হওয়ায় প্রথমে বেশি পানি দিয়ে ধুয়ে নেবেন। পরে শ্যাম্পু ব্যবহার করবেন।
আমলকী ও মেথির পেস্ট ৩০ মিনিট চুলে রেখে শ্যাম্পু করুন। এই ঘরোয়া প্যাকটি চুলে প্রাণ ফিরিয়ে আনতে দারুণ কার্যকর। মেথি চুল ঝলমলে করে। অন্যদিকে আমলকী চুলের গোড়া মজবুত করে। চুল পড়া বন্ধ করতে আমলকীর জুড়ি নেই।
চুলকে ময়েশ্চারাইজ করতে মেয়নেজও ব্যবহার করতে পারেন। আধা কাপ মেয়নেজ কুসুম গরম করে চুলে লাগান। ৪০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। এতে চুলের রুক্ষ ভাব দূর হবে এবং চুল হবে ঝরঝরে। চুলের রুক্ষতা দূর করতে মেহেদি প্যাকও ব্যবহার করতে পারেন। বাজারে এখন বিভিন্ন ধরনের মেহেদি পাওয়া যায়। সেগুলোর প্যাক বানিয়ে ১ ঘণ্টা রেখে ধুয়ে ফেললেও চুল অনেক কোমল ও ঝরঝরে হয়ে ওঠে।
শীত আসার আগের সময়ে প্রচুর চুল পড়ে। তাই শুধু ঝলমলে চুল নয়, নতুন চুল গজাতেও করতে হবে পরিচর্যা। পরিষ্কার চুলে পেঁয়াজের রস লাগিয়ে রাখুন ঘণ্টাখানেক। বেশি পানি দিয়ে শ্যাম্পু করুন। শ্যাম্পুর সঙ্গে সামান্য লেবুর রস যোগ করে নেবেন। এতে পেঁয়াজের রসের যে কটু গন্ধ সেটি দূর হয়ে যাবে। পেঁয়াজের রসে সালফার ও অন্যান্য উপকারী উপাদান আছে। তাই এটি নতুন চুল গজাতে কার্যকর। 
প্রতিটি পদ্ধতি সপ্তাহান্তে বা মাসে দুবার ব্যবহার করতে পারেন। তবে যে কোনো প্যাক ব্যবহারের আগে অবশ্যই চুল পরিষ্কার করে নেবেন। চুল বা মাথার ত্বক অপরিষ্কার থাকলে কোনো পদ্ধতিই কাজে লাগবে না। 
স্বাস্থ্যোজ্জ্বল চুল পেতে চাইলে কেমিক্যালযুক্ত হেয়ার ট্রিটমেন্ট পরিহার করতে হবে। এড়িয়ে চলতে হবে অতিরিক্ত তাপ ও ধুলোবালি। বিশেষ করে ইলেকট্রনিক হেয়ার ড্রায়ার ও স্ট্রেইটনারের ব্যবহার কমাতে হবে। দুই মাস অন্তর চুলের আগা কাটতে হবে।  প্রচুর পানি পান চুলের স্বাস্থ্য রক্ষায় ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করতে হবে। শুধু পরিচর্চাই যথেষ্ট নয়, খাদ্য তালিকাও রাখতে হবে পুষ্টিসমৃদ্ধ। ডিম, বাদাম, মাছ, শাকসবজি এবং ভিটামিন-সি জাতীয় ফল চুলের জন্য উপকারী। এসব খাবারে প্রোটিন, ভিটামিন-সি, আইরন, ওমেগা ফ্যাটি এসিড ও বায়োটিন থাকে; যা চুল বড় করে এবং চুলকে করে ঝলমলে,  ঘন ও মজবুত। 

আরও পড়ুন

×