পাঞ্জাবিতে সারাবেলা
রোজী আরেফিন
প্রকাশ: ০৪ মার্চ ২০২৬ | ০৭:১৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
ঈদের সকালে পাঞ্জাবি না হলে উৎসবের আমেজটাই যেন অপূর্ণ থেকে যায়। কেউ কেউ ঈদের দিন তো বটেই, পরের দিনও সারাবেলা পাঞ্জাবি পরে ঘুরে বেড়ান। এবারের ঈদে পাঞ্জাবির ট্রেন্ড নিয়ে লিখেছেন রোজী আরেফিন
ঈদ মানেই নতুন পোশাক আর ছেলেদের ঈদ আয়োজনের প্রথম পছন্দই হলো পাঞ্জাবি। তবে সময়ের সঙ্গে বদলেছে পছন্দের ধরন। আগের মতো এখন আর শুধু সাদা বা এক রঙের নয়, বরং এখনকার দিনে পাঞ্জাবির কালেকশনের ফেব্রিক, কাট, হাতের কাজ, এমনকি কোন সময়ে পরবেন– সব ভেবেচিন্তেই কেনাকাটা করছেন ক্রেতারা। এবারের ঈদে তাই পাঞ্জাবিতে দেখা যাচ্ছে রুচিশীলতা ও আধুনিকতার দারুণ এক সমন্বয়।
রঙের বাহার
রঙের ক্ষেত্রে ক্ল্যাসিক সাদা, অফ-হোয়াইট ও ক্রিম ঈদের সকালের জন্য এখনও প্রথম সারিতে। নামাজ বা পারিবারিক আনুষ্ঠানিকতায় এ রঙের আবেদন আলাদা। পাশাপাশি প্যাস্টেল-মিন্ট, আকাশি, পিচ-তরুণদের পছন্দের তালিকায় কমবেশি রয়েছে। বিকেল ও রাতের আয়োজনে গাঢ় নীল, মেরুন, অলিভ, ডিপ গ্রিন বেশ জনপ্রিয়। ছবিতে ভালো আসে এবং আলোয় পরিষ্কার দেখায়–এমন রংই এখন বেশি চাহিদায়।
বিভিন্ন নকশা
ডিজাইনে এবার দুই ধারা স্পষ্ট। একদিকে মিনিমাল লুক-কলারে হালকা কাজ, কাফে সূক্ষ্ম ডিটেইল, বুকের অংশে ছোট এমব্রয়ডারি। অন্যদিকে ঐতিহ্যবাহী হাতের কাজ ও সমৃদ্ধ এমব্রয়ডারি। নকশিকাঁথা অনুপ্রাণিত সূচিশিল্প, ব্লক প্রিন্ট বা কারুকাজ করা পাঞ্জাবিও রয়েছে ট্রেন্ডে। যারা ঈদের দিন একটু আলাদা ও নজরকাড়া লুক চান, তারা হাতের কাজ বা হালকা হেভি এমব্রয়ডারি বেছে নিচ্ছেন। তবে দিনের অনুষ্ঠানের জন্য হালকা কাজ আর রাতের দাওয়াতের জন্য তুলনামূলক ভারী কাজ–এভাবে নির্বাচন করাই এখন বুদ্ধিমানের।
ফেব্রিকে বৈচিত্র্য
ছেলেদের পাঞ্জাবির ফেব্রিকেও রয়েছে বৈচিত্র্য। সারাদিন পরার জন্য সবচেয়ে আরামদায়ক কটন ও সফট কটন। হালকা ও পরিপাটি লুক চাইলে কিনতে পারেন লিনেন ও লিনেন-ব্লেন্ড কাপড়ের তৈরি পাঞ্জাবি। ঈদের দিন বা পরের দিন সন্ধ্যা আয়োজনে টেক্সচারড, সিল্ক-ব্লেন্ড বা এমব্রয়ডারি করা পাঞ্জাবি রাজকীয় আবহ দেয়।
বয়স অনুযায়ী পাঞ্জাবি নির্বাচনেও বেশ পার্থক্য আছে। কিশোর ও তরুণরা ফিটেড বা কাট-বেইজড ডিজাইনের পাঞ্জাবিতে আগ্রহী। মধ্যবয়সীরা সোজা কাট ও পরিমিত এমব্রয়ডারি পছন্দ করছেন। বয়োজ্যেষ্ঠদের জন্য হালকা রং ও আরামদায়ক কাপড়ের পাঞ্জাবি সবসময় উপযুক্ত।
এবারের ঈদে বিভিন্ন ফ্যাশন হাউস পাঞ্জাবির সমৃদ্ধ সংগ্রহ এনেছে। আড়ংয়ে পাওয়া যাচ্ছে ব্লক প্রিন্ট, সূচিশিল্প ও হ্যান্ড ক্রাফটেড পাঞ্জাবি, যেখানে দেশীয় ঐতিহ্যের ছাপ স্পষ্ট। দেশীদশের বিভিন্ন ব্র্যান্ড হাতের কাজ ও প্রাকৃতিক রঙের বৈচিত্র্য তুলে ধরেছে পাঞ্জাবিতে।
ফ্যাশন হাউস কে ক্র্যাফটে রেগুলার, কাট-বেইজড ও ফিটেড ডিজাইনের মধ্যে পাঞ্জাবি পাওয়া যাচ্ছে। পুরুষদের ঈদ আয়োজনে বিশেষ গুরুত্ব দেয় ফ্যাশন হাউস টুয়েলভ। পাঞ্জাবি বরাবরই ঈদের অবিচ্ছেদ্য অনুষঙ্গ। তবে সেটিকে কীভাবে নতুনভাবে উপস্থাপন করা যায়, সেটিই যেন তাদের ডিজাইনারদের সৃজনশীল চ্যালেঞ্জ। এবার টুয়েলভের কালেকশনে ক্ল্যাসিক সাদা, অফ-হোয়াইট ও প্যাস্টেলের পাশাপাশি গাঢ় নীল, মেরুন ও অলিভ রঙের ব্যবহার বেশি। সোজা কাট, মিনিমাল কলার ডিটেইলস, মৃদু এমব্রয়ডারি ও টেক্সচারড ফেব্রিক মিলিয়ে তৈরি হয়েছে এমন এক আভিজাত্য, যা একই সঙ্গে ঐতিহ্যনির্ভর ও আধুনিক।
ঈদের লুক সম্পূর্ণ করতে পাঞ্জাবির আনুষঙ্গিক বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ। মানানসই পায়জামা বা চুড়িদার, নাগরা বা মোজারি, এমনকি ওয়েস্টকোট পুরো সাজকে বদলে দিতে পারে। গাঢ় রঙের পাঞ্জাবির সঙ্গে কনট্রাস্ট পায়জামা এখন ট্রেন্ডে। সঙ্গে একটি ঘড়ি বা সাদামাটা ব্রেসলেট যোগ করলে লুক হয় আরও পরিপাটি। সকালের স্নিগ্ধ সাদামাটা পাঞ্জাবির সঙ্গে ম্যাচিং একটা টুপি না পরলে ঈদের নামাজ কেমন যেন অসম্পূর্ণ লাগে। সব মিলিয়ে এবারের ঈদে পাঞ্জাবির ট্রেন্ড বলছে– আরাম, পরিমিতি ও ব্যক্তিত্বের প্রকাশ। শুধু পোশাক নয়, নিজের সময়, বয়স ও অনুষ্ঠানের ধরন বুঝে নির্বাচন করলেই ঈদের সাজ হবে পরিপূর্ণ। কারণ পাঞ্জাবি শুধু ছেলেদের ফ্যাশন নয়, এটি আমাদের উৎসবের পরিচয়ও বটে।
দরদাম
আড়ং, কে ক্র্যাফট, অঞ্জন’স, টুয়েলভ ক্লথিং, ইয়োলো, বিশ্বরঙ, রঙ বাংলাদেশ, সাদাকালোসহ বিভিন্ন ফ্যাশন ব্র্যান্ড থেকে পাঞ্জাবি কিনতে পারেন এক হাজার ২০০ থেকে ১২ হাজার টাকায়। ঢাকার অন্যতম বড় পাঞ্জাবির বাজার পীর ইয়ামেনি মার্কেট। এ ছাড়া রয়েছে মালিবাগ, মৌচাক, সদরঘাট, নিউমার্কেট, এলিফ্যান্ট রোড, গুলিস্তানসহ বিভিন্ন স্থানীয় মার্কেটে মিলছে পাঞ্জাবি।
মডেল: নিহাফ; পোশাক: অঞ্জন’স;
ছবি: ফয়সাল সিদ্দিক কাব্য
- বিষয় :
- পোশাক
