ট্রেন্ডি চুড়ি
ছবি সৌজন্য: তাসা
ইসরাত জাহান
প্রকাশ: ০৮ এপ্রিল ২০২৬ | ০৭:২২
| প্রিন্ট সংস্করণ
বাঙালি নারীর কাছে চুড়ির আবেদন চিরন্তন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলায় ধারা। কখনও মাটি, কাঠের চুড়ি বেছে নেন, আবার কখনও কাচ-ছাঁচ-মেটালের হাতের গহনা পরেন। উদ্যোক্তা ও ডিজাইনাররা এখন হাতের নিপুণ ছোঁয়ায় তৈরি করছেন চুড়ি। সেখানে রয়েছে হাতের কাজ, কড়ি, ঝুনঝুনির মিশেল। বৈশাখী ফ্যাশনে চুড়ি শুধু একটি অনুষঙ্গ নয়, বরং এটি হয়ে উঠেছে ব্যক্তিত্ব প্রকাশের অন্যতম মাধ্যম। এবারের ট্রেন্ডে যেমন ফিরে এসেছে ধ্রুপদি ঐতিহ্য, তেমনি যুক্ত হয়েছে আধুনিক ফিউশন ও পরিবেশবান্ধব ভাবধারা।
বাহারি চুড়ি নিয়ে কাজ করেন সঙ্গীতা ওয়াহিদ তাসা। বাজারের বিভিন্ন পণ্যের মতো নয়, তিনি তাঁর চুড়িতে নিজস্ব শৈলী বজায় রাখতে পছন্দ করেন। তিনি বলেন, ‘চুড়ি কমবেশি সবার পছন্দের হলেও এবারের বৈশাখী ট্রেন্ডে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে বাহারি হাতের কাচের চুড়ি। চুড়ির ফ্রেমে রঙিন কাপড় পেঁচিয়ে তার ওপর সুতা দিয়ে বসানো হয়েছে ঝুনঝুনি, যা গর্জিয়াস বা সিম্পল আউটফিটের সঙ্গে চমৎকারভাবে মানিয়ে যায়। এর পাশাপাশি এবার শামুক এবং মেটাল ডলার বসানো চুড়ির নকশাও বেশ চোখে পড়ছে। বৈশাখী সাজে পূর্ণতা আনতে আউটফিটের সঙ্গে মিলিয়ে ন্যুড কালার কিংবা চিরাচরিত লাল-কমলা রঙের কাপড়ে তৈরি নান্দনিক চুড়ি অনায়াসেই বেছে নিতে পারেন। এগুলো আপনার লুকে নিয়ে আসবে আভিজাত্য ও স্নিগ্ধতার দারুণ মিশেল।’
কড়ি দেওয়া চুড়ির আবেদন বাড়লেও, অন্যান্য চুড়িও খেই হারায়নি। যেন সব ট্রেন্ডই চলছে সমানতালে।
রেশমি ও কাচের চুড়ির চিরন্তন আবেদন
প্রতিবারের মতো এবারও বৈশাখের জন্য রেশমি ও কাচের চুড়ি বেছে নিতে পারেন। এ বছর কাশ্মীরি কাচের চুড়ি বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। শাড়ির সঙ্গে রেশমি চুড়ি, কাচের চুড়ি মুগ্ধতা ছড়াবে। তবে এবারের ট্রেন্ডে দেখা যাচ্ছে রঙের ভিন্নধর্মী বিন্যাস। আগে শুধু লাল-সাদা চুড়ির আধিক্য থাকলেও, এবার দেখা মিলবে মাল্টি-লেয়ারিং কালারের। শাড়ির পাড়ের সঙ্গে মিলিয়ে এক হাতে হলুদ, কমলা এবং গাঢ় সবুজ কাচের চুড়ির মিশ্রণ এবার বেশ জনপ্রিয়তা পাবে। বিশেষ করে যারা টাঙ্গাইলের সুতি, হাফসিল্ক বা জামদানি শাড়ি পরবেন, তারা অনায়াসে রেশমি চুড়ি পরতে পারেন।
টেরাকোটা ও কাঠের চুড়ি
এবার পরিবেশবান্ধব বা ইকো-ফ্রেন্ডলি ফ্যাশন একটি বড় জায়গা দখল করে নিয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় এবারের বৈশাখে পোড়ামাটির বা টেরাকোটা চুড়ির চাহিদা তুঙ্গে। মাটির চুড়ির ওপর সূক্ষ্মভাবে খোদাই করা লোকজ মোটিফ যেমন–মাছ, পালকি কিংবা একতারা বাঙালিয়ানা সাজে যোগ করবে এক ভিন্ন মাত্রা। এর পাশাপাশি কাঠের তৈরি মোটা বালা বা ‘কাঠ-চুড়ি’ এবার তরুণীদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে। এই চুড়িগুলোয় দেখা যাচ্ছে হ্যান্ডপেইন্টেড আল্পনা, যা বৈশাখী সাজকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলছে।
মেটালিক ফিউশন
আধুনিকতার ছোঁয়ায় এবারের বৈশাখে মেটাল বা ধাতব চুড়ির ধরনে এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। রুপালি অক্সিডাইজড গহনার বদলে এবার ম্যাট ফিনিশ অ্যান্টিক গোল্ড বেশি চোখে পড়ছে। বিশেষ করে যারা একটু ভারী গহনা পছন্দ করেন, তারা হাতের কবজিতে বড় নকশা করা বালা বা কঙ্কণ অনায়াসেই বেছে নিতে পারেন। এই ধরনের মেটালিক চুড়ির বড় সুবিধা হলো, এগুলো শাড়ির পাশাপাশি সালোয়ার-কামিজ কিংবা লং কুর্তির সঙ্গেও চমৎকার মানিয়ে যায়।
ফেব্রিক ও কড়ি
স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য অনেক ফ্যাশন সচেতন নারী বেছে নিচ্ছেন ফেব্রিক বা কাপড়ের তৈরি চুড়ি। সিল্ক বা সুতি কাপড়ের ওপর নকশিকাঁথার কাজ করা কিংবা পুঁতি ও কড়ি বসানো এই চুড়িগুলো ওজনে হালকা। এবারের বৈশাখী মেলায় এই কড়ির চুড়ি এবং ফেব্রিকবেইজড জুয়েলারিগুলো আলাদাভাবে নজর কাড়বে, যা উৎসবের সাজে গ্রামীণ ঘরানার ছোঁয়া দেবে।
স্টোন ও মুক্তার চুড়ি
বিকেলের আড্ডা-বেড়ানো বা রাতের ঘরোয়া বৈশাখী উৎসবে এবার দেখা মিলবে স্টোন, পার্ল বা মুক্তার চুড়ির আধিক্য। স্বচ্ছ পাথর বসানো সরু চুড়ি বা সিটি গোল্ডের ওপর মুক্তার কাজ করা চুড়িগুলো রাতের কৃত্রিম আলোয় এক স্নিগ্ধ আভিজাত্য ছড়িয়ে দেয়। বিশেষ করে শিফন বা জর্জেট শাড়ির সঙ্গে এই ধরনের সূক্ষ্ম কাজ করা চুড়িগুলো মুগ্ধতা ছড়াবে।
দরদাম
বিভিন্ন মার্কেটে চুড়িভেদে দামের পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। তবে মার্কেট থেকে কাচের চুড়ি কেনা যাবে ১৫০-৫০০ টাকার মধ্যে। কাশ্মীরি কাচের চুড়ির দাম ৪০০-৮০০ পর্যন্তও হয়ে থাকে। কাঠ ও অন্যান্য চুড়ির দাম ৫০০-৬০০ টাকা। তাসাসহ বিভিন্ন অনলাইন পেইজ থেকে চুড়ির সেট কেনা যাবে ২০০-১ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে
- বিষয় :
- ফ্যাশন
