হাতপাখার সময়
শিরিন আক্তার
প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ | ০৬:৫৯
| প্রিন্ট সংস্করণ
একটা সময় তীব্র গরমে গ্রামবাংলার মানুষ শরীর জুড়াত হাতপাখার বাতাসে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ পরিষেবা যত বেড়েছে, ততই ইলেকট্রিক ফ্যাশনের চল বেড়েছে। তবে হাতপাখার কদর কমেনি। তীব্র গরমে যখন লোডশেডিং শুরু হয় তখন হাতপাখাই ভরসা। সেটি হোক গ্রাম, শহর কিংবা নগরে। বিদ্যুতের পাখা কিংবা এসির ভিড়ে যেটি একসময় হারিয়ে যেতে বসেছিল, সেই হাতপাখাই আবার জায়গা করে নিচ্ছে মানুষের দৈনন্দিন জীবনে।
হাতপাখার ইতিহাস
হাতপাখার প্রচলন শুরু হয়েছিল আজ থেকে প্রায় তিন হাজার বছর আগে গ্রিক-রোমান যুগে। চীন ও জাপান থেকে ইউরোপীয় বণিকরা প্রথম হাতপাখা নিয়ে আসেন। সেই হাতপাখাগুলোয় মণি-মুক্তা, সোনা-রুপা, হাতির দাঁত, বিভিন্ন সামাজিক প্রেক্ষাপট, ফুল, ফল, পাখি আঁকা থাকত। বাংলার আবহাওয়ার তাপদাহের সঙ্গে তাল মেলাতে একসময় তালপাতা, খেজুরপাতা, কিংবা বাঁশের সাহায্যে স্থানীয়ভাবে হাতপাখা তৈরি শুরু হয়। পরে তা হয়ে ওঠে প্রতিটি ঘরের নিত্যসঙ্গী। ধীরে ধীরে হাতপাখায় যুক্ত হতে থাকে শিল্পের ছোঁয়া। সাধারণ তালপাতার পাখা ছাড়াও দেখা যায় বাঁশের চিকন বুননে তৈরি পাখা; যার গায়ে আঁকা রঙিন ফুল, পাখি, নকশা।
শহরেও বাড়ছে চাহিদা
শুধু গ্রামেই নয়, শহরের মানুষও এখন হাতপাখার দিকে ঝুঁকছেন। লোডশেডিং কিংবা বাইরে বসে সময় কাটানোর সময় হাতপাখা হয়ে উঠছে সহজ সমাধান। বিশেষ করে হাসপাতালে রোগীদের স্বজনদের মধ্যে কিংবা সন্তানকে কোচিংয়ে দিয়ে বাইরে অপেক্ষারত মায়েদের বেশি হাতপাখা ব্যবহার করতে দেখা যায়। কেউ কেউ ঘরের সাজে নান্দনিক উপকরণ হিসেবেও হাতপাখা ব্যবহার করেন।
বদলে যাওয়া রূপ
আগে হাতপাখা খুব সাধারণভাবে তৈরি করা হলেও এখন সেখানে এসেছে বৈচিত্র্য। রঙিন কাপড়, পুঁতি আর নকশা দিয়ে সাজানো হাতপাখা এখন বৈশাখী মেলা বা বিভিন্ন হস্তশিল্পের দোকানে চোখে পড়ে।
পরিবেশবান্ধব পছন্দ
প্লাস্টিক বা বিদ্যুৎনির্ভর যন্ত্রের তুলনায় হাতপাখা পুরোপুরি পরিবেশবান্ধব। এতে নেই কোনো বিদ্যুৎ খরচ, নেই দূষণের ভয়। তাই পরিবেশ সচেতন মানুষের কাছেও এর জনপ্রিয়তা বাড়ছে। শহরে তালপাতার পাখা এখনও বিভিন্ন স্থানে কিনতে পাওয়া যায়।
সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী
আজকাল রাজধানীর বিভিন্ন অলিগলিতে ভ্যানে বাঁশের তৈরি হাতপাখা, তালপাতার হাতপাখা বিক্রি করতে দেখা যায়। এ ছাড়া স্থানীয় হাটবাজার থেকে শুরু করে হস্তশিল্প দোকানগুলোয় সহজেই হাতপাখা মেলে। দেশীয় ফ্যাশন হাউস আড়ংয়ে বাঁশ, বেত বা তালপাতার তৈরি নকশা করা হাতপাখা পাবেন। কুমুদিনী, ফোক ইন্টারন্যাশনালেও পাওয়া যায় হাতপাখা। এ ছাড়া দোয়েল চত্বর, ঢাকা কলেজের সামনের ফুটপাত বা মোহাম্মদপুরের কৃষি মার্কেটেও এ ধরনের হাতপাখা পাওয়া যায়। এর পাশাপাশি অনলাইনের বিভিন্ন পেজ থেকে কিনতে পারেন হাতপাখা।
- বিষয় :
- হাতপাখা
