ঘর গোছানোর জনপ্রিয় পদ্ধতি
অপ্রয়োজনীয় জিনিস ফেলে দিলে ঘর গোছানো সহজ হয়
রিক্তা রিচি
প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬ | ০৭:৩২
| প্রিন্ট সংস্করণ
রোজকার ব্যস্ত জীবনে একটু দম ফেলার ফুরসত পাওয়া যায় না। কেবল কাজ আর ছুটে চলা। তাই তো নিজের ঘরের অনেক কিছুই ঠিকঠাক গোছানো হয় না। অপ্রয়োজনীয় জিনিসগুলো ফেলে দেওয়ার মতো সময় হয়ে ওঠে না। আবার সময় হলেও, সঠিক পরিকল্পনার অভাব এবং ইচ্ছাশক্তির কারণে তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয় না। ফলে ঘর ভরে থাকে অপ্রয়োজনীয় পোশাক, প্যাকেট, কার্টন ইত্যাদিতে। মনোবিদরা মনে করেন, ঘরের ভেতরে অনেক জিনিস অগোছালোভাবে পড়ে থাকলে এর বিরূপ প্রভাব মানসিক স্বাস্থ্যে পড়ে। এতে মানসিক ক্লান্তি ও উদ্বেগ বাড়ে।
এখন সামাজিক মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ঘর গোছানোর নানা ভিডিও চোখে পড়ে। কনটেন্ট ক্রিয়েটরদেরও ঘর সাজানোর নানা কৌশল নিয়ে রিলস বানাতে দেখা যায়। সম্প্রতি ঘর গোছানোর অনেক পদ্ধতি বেশ জনপ্রিয় হয়েছে। এর মধ্যে ‘সুইডিশ ডেথ ক্লিনিং’ পদ্ধতি, কোনমারি মেথড ও ১২-১২-১২ মেথড অন্যতম। এ মেথডগুলোর মূল উদ্দেশ্য হলো অপ্রয়োজনীয় জিনিস ডিক্লাটার করা। গোছানো ও পরিপাটি ঘর মানসিক শান্তি ফেরাতে সহায়ক–এমনই ধারণা দিচ্ছে এ জনপ্রিয় পদ্ধতিগুলো। ঘর পুনরায় পরিপাটি ও সুশৃঙ্খল করতে এ মেথডগুলো আসলেই কার্যকর হবে কিনা চলুন দেখে আসি।
সুইডিশ ডেথ ক্লিনিং: ‘সুইডিশ ডেথ ক্লিনিং’ পদ্ধতির উৎপত্তি সুইডেনে। স্থানীয় ভাষায় একে বলা হয় ‘দোসিতনিং’। ‘দো’ মানে মৃত্যু এবং ‘সিতনিং’ মানে পরিষ্কার করা। ২০১৭ সালে সুইডিশ লেখক মার্গারেটা ম্যাগনাসনের লেখা ‘দ্য জেন্টল আর্ট অব সুইডিশ ডেথ ক্লিনিং’ বইটি প্রকাশিত হওয়ার পর এ ধারণাটি বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা পায়। এই পদ্ধতির মূল কথা নিজের ঘরকে অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র মুক্ত করা, যেন ভবিষ্যতে আপনার অনুপস্থিতিতে পরিবারের কাউকে সেই আবর্জনা পরিষ্কারের ঝক্কি পোহাতে না হয়। সহজ কথায়, একজন মানুষ বেঁচে থাকাকালেই তাঁর সব জিনিসপত্র ঘেঁটে কেবল প্রয়োজনীয় ও অতি প্রিয় জিনিসগুলোই রেখে দেন। বাকি সব ফেলে দেন বা দান করে দেন। এ পদ্ধতি জীবনকে আরও সহজ করতে শেখায়। পাশাপাশি মানসিক ক্লান্তি কমানোর বার্তা দেয়।
কীভাবে শুরু করবেন?
পোশাক: আলমারি খুলে প্রথমে পড়ে থাকা পোশাক বের করুন। যে পোশাকগুলো গত এক বছরে একবারও পরেননি, যেগুলো ছোট হয়ে গেছে বা ফিট হয় না সেগুলো আলাদা করুন। ভালো পোশাকগুলো কাউকে দান করে দিন। যেগুলো একেবারেই ব্যবহার করার মতো নয়, সেগুলো ফেলে দিন।
বড় জিনিসপত্র: গ্যারেজ, চিলেকোঠা বা খাটের নিচে জমে থাকা বড় বড় অপ্রয়োজনীয় আসবাব, ভাঙা ইলেকট্রনিক্স জিনিস বা পুরোনো বাক্সগুলো পরীক্ষা করুন। যেগুলো ব্যবহার করেন না, সেগুলো ঘর থেকে বের করে দিন।
শুধু প্রয়োজনীয় জিনিস কিনুন: ঘরে নতুন করে আবর্জনা জমতে দেওয়া যাবে না। তাই কোনো নতুন জিনিস কেনার আগে নিজেকে প্রশ্ন করুন, ‘এটি কি আমার সত্যিই প্রয়োজন?’ প্রয়োজন না থাকলে কেনা থেকে বিরত থাকুন।
ডিজিটাল ফাইল গোছান: ‘সুইডিশ ডেথ ক্লিনিং’ পদ্ধতি শুধু ঘরের জিনিসই নয়, ডিজিটাল স্পেস পরিষ্কার করার কথাও বলে। ল্যাপটপ বা ফোনের অপ্রয়োজনীয় ইমেইল, ডুপ্লিকেট ছবি ও ফাইল ডিলিট করুন। প্রয়োজনীয় নথিপত্র এক জায়গায় গুছিয়ে রাখুন। প্রয়োজনীয় পাসওয়ার্ডগুলো নিরাপদ জায়গায় স্টোর করুন।
আবেগের জিনিসগুলোকে যত্নে রাখুন: ‘সুইডিশ ডেথ ক্লিনিং’ পদ্ধতি কেবল ডিক্লাটার করতেই বলে না, বরং প্রয়োজনীয় ও আবেগের জিনিসকে যত্নে রাখার কথাও বলে। পুরোনো চিঠি, ডায়েরি, অ্যালবাম বা স্মারকের সঙ্গে মানুষের আবেগ জড়িয়ে থাকে। তাই এগুলো শুরুতে ঘাঁটবেন না। এতে ঘর গোছানোর গতি কমে যাবে। সহজ জিনিসগুলো ফেলে দেওয়ার পর, একদম শেষ ধাপে আবেগের জিনিসগুলো নিয়ে বসুন। সেগুলো যত্নে রেখে দিতে পারেন।
কোনমারি মেথড: জাপানের লেখিকা মেরি কন্ডোর ‘দ্য লাইফ চেঞ্জিং ম্যাজিক অব টাইডিং আপ-দ্য জাপানিজ আর্ট অব ডিক্লাটারিং অ্যান্ড অর্গানাইজিং’ বই প্রকাশ হওয়ার পর থেকে ঘর গোছানোর কোনমারি মেথড জনপ্রিয় হয়েছে। বইটিতে ডিক্লাটারিংয়ের বিশেষ প্রক্রিয়ার উল্লেখ রয়েছে। এই কোনমারি মেথডে ছয়টি বিশেষ নিয়মের কথা বলা আছে, যেগুলো অনুসরণ করে ডিক্লাটার শুরু করা যায়। এই মেথডের শুরুতে আপনাকে ভাবতে হবে আপনার জীবনে ঘরের প্রয়োজনীয়তা আছে কিনা, আপনি ঘরটিতে কী করতে চান?
দ্বিতীয়ত, আপনার ঘরে যা কিছু আছে, সেসব জিনিসকে কয়েকটি শ্রেণিতে ভাগ করে নিতে হবে। যেমন কাপড়, বই, কাগজপত্রকে ভাগ করে ডিক্লাটার করা শুরু করতে পারেন। তৃতীয়ত, ডিক্লাটার করে ঘর গোছানোর সময় খেয়াল রাখুন ফেলে দেওয়ার জন্য রাখা জিনিসগুলো এখনও আপনাকে আনন্দ দেয় কিনা। যদি এখনও জিনিসটা আপনার প্রিয় জিনিসের তালিকায় থাকে তাহলে সেটি রাখুন। অন্যথায় ফেলে দিন।
কোনমারি মেথডের নিয়ম কেবল ডিক্লাটার করা নয়। বরং অপ্রয়োজনীয় জিনিস সরিয়ে ঘর পরিপাটি রাখাও। যেসব জিনিস নিত্যপ্রয়োজনীয়, সেগুলো হাতের কাছাকাছি রাখুন। অন্যগুলো একটু দূরেই রাখুন। ছোট জিনিস রাখার জন্য বাক্স ব্যবহার করুন। কেবিনেট, আলমারি, ওয়ার্ডরোবে নিত্যপ্রয়োজনীয় কাপড় ও জিনিস সামনের দিকে এবং কম ব্যবহৃত জিনিসগুলো পেছনের দিকে রাখুন।
১২-১২-১২ পদ্ধতি: ঘর সহজে গোছানোর একটি পদ্ধতি এটি। এ পদ্ধতিতে ৩৬টি জিনিসকে খুঁজে বের করতে হবে, যেখান থেকে আপনি ১২টি জিনিস ফেলে দেবেন। এর মধ্যে কাপড়, কাগজ, ফাইল, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ইত্যাদি থাকতে পারে। আপনার কাজে লাগে না এমন ১২টি জিনিস দান করে দেবেন। অগোছালোভাবে পড়ে থাকা ১২টি জিনিস সঠিক জায়গায় গুছিয়ে রাখবেন। এ পদ্ধতিতে কেবল অপ্রয়োজনীয় জিনিস সরানোকেই বোঝায় না, বরং সেসবের প্রতি আসক্তিও কমায়। যারা দ্রুত ঘর গোছাতে চান তারা এ পদ্ধতিটি অনুসরণ করতে পারেন।
সূত্র: দ্য স্প্রস, গুড হাউস কিপিং
- বিষয় :
- ঘর তৈরি