ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

হাফহাতা শার্টে

হাফহাতা শার্টে
×

বর্তমানে প্রিন্টের হাফহাতার শার্ট বেশ জনপ্রিয় মডেল: আরেফিন জিলানী; ছবি: কাব্য

 রোজী আরেফিন  

প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬ | ০৭:০৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বদলে যায় পোশাকের ধরনও। বিশেষ করে গরমকাল এলে পোশাকে আরাম হয়ে ওঠে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তীব্র রোদ, আর্দ্রতা আর দীর্ঘ সময়ের ব্যস্ততায় এমন পোশাকই প্রয়োজন, যা শরীরকে স্বস্তি দেবে এবং একইসঙ্গে রাখবে পরিপাটি। এ কারণেই গরমের ফ্যাশনে ছেলেদের প্রথম পছন্দের তালিকায় থাকে হাফহাতা শার্ট। 
একসময় হাফহাতা শার্টকে শুধুই সাধারণ বা ঘরোয়া পোশাক হিসেবে দেখা হলেও এখন এটি পুরুষদের দৈনন্দিন স্টাইলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফ্যাশন ট্রেন্ড বদলের সঙ্গে সঙ্গে এতেও এসেছে নানা বৈচিত্র্য। কাট, রং, প্রিন্ট ও ফেব্রিকের ভিন্নতায় এখন হাফহাতা শার্ট একইসঙ্গে ক্যাজুয়াল, স্মার্ট ও স্টাইলিশ। 
গরমে পোশাক নির্বাচনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কাপড়ের ধরন। কটন, লিনেন কিংবা সফট ব্লেন্ড ফেব্রিকের শার্ট শরীরকে রাখে স্বস্তিতে। কারণ এসব কাপড় বাতাস চলাচলে সহায়তা করে এবং দীর্ঘ সময় পরলেও অস্বস্তি কম হয়। বিশেষ করে প্রিমিয়াম কটনের হাফহাতা শার্ট গরমের দিনে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। এটি ঘাম সহজে শোষণ করে এবং শরীরে ভারী অনুভূতি তৈরি করে না। 
রঙের ক্ষেত্রেও গরমে আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। হালকা রঙের পোশাক চোখে যেমন প্রশান্তি আনে, তেমনি গরমও কম অনুভূত হয়। তাই এ সময়ে সাদা, অফ-হোয়াইট, বেইজ, হালকা নীল, অ্যাশ, মিন্ট বা প্যাস্টেল শেডের হাফ শার্ট বেশি দেখা যায়। অনেকেই এখন মিনিমাল ডিজাইনের দিকে ঝুঁকছেন। ছোট চেক, সফট স্ট্রাইপ, সূক্ষ্ম মোটিফ বা হালকা প্রিন্টের শার্টগুলো তাই জনপ্রিয়তা পাচ্ছে বেশি। 
বর্তমানে ছেলেদের ফ্যাশনে ওভারসাইজড ও রিলাক্সড ফিটের হাফহাতা শার্টও বেশ ট্রেন্ডে রয়েছে। এসব শার্টে থাকে আরামদায়ক কাটিং। ফলে দীর্ঘ সময় বাইরে থাকলেও ক্লান্তি কম লাগে। আবার স্লিম ফিট শার্টও অফিস বা সেমি-ফরমাল পরিবেশে স্মার্ট একটি লুক তৈরি করে। 
হাফহাতা শার্টের আরেকটি বড় সুবিধা হলো এর বহুমুখী ব্যবহার। একই শার্ট ভিন্নভাবে স্টাইলিং করে বিভিন্ন পরিবেশে পরা যায়। অফিসে ফরমাল প্যান্টের সঙ্গে এটি যেমন মানানসই, তেমনি বন্ধুবান্ধবের আড্ডায় এটি ডেনিম জিন্সের সঙ্গে দেয় একদম ক্যাজুয়াল লুক। আবার ভ্রমণ বা বিকেলের ঘোরাঘুরিতেও হাফহাতা শার্ট বেশ স্বস্তিদায়ক একটি পোশাক। 
বর্তমান সময়ে ফ্যাশনে কমফোর্ট স্টাইল ধারণাটি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। অর্থাৎ পোশাক শুধু দেখতে সুন্দর হলেই হবে না, সেটি হতে হবে ব্যবহার উপযোগীও। তাই এখনকার তরুণরা এমন পোশাকই বেছে নিচ্ছেন, যা সহজ, পরিপাটি এবং দীর্ঘসময় পরার উপযোগী। হাফহাতা শার্ট ঠিক সেই জায়গাটিতেই সবচেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। 
এ ছাড়া বয়সভেদেও এই শার্টের স্টাইলিংয়ে আসে ভিন্নতা। তরুণদের ক্ষেত্রে উজ্জ্বল বা ট্রেন্ডি রং, ওভারসাইজড ফিট, ছোট প্রিন্ট কিংবা স্ট্রাইপের ডিজাইন বেশি জনপ্রিয়। বিশ্ববিদ্যালয়, আড্ডা কিংবা ভ্রমণে এসব শার্ট সহজেই তৈরি করে প্রাণবন্ত একটি লুক। অন্যদিকে কর্মজীবীদের পছন্দে থাকে সফট রং, পরিমিত ডিজাইন ও ক্লিন কাটের হাফহাতা শার্ট; যা একইসঙ্গে আরামদায়ক ও পরিপাটি দেখায়। আবার মধ্যবয়সীদের ক্ষেত্রে হালকা চেক, ক্ল্যাসিক প্যাটার্ন ও রিলাক্সড ফিটের শার্ট বেশি মানানসই। ফলে হাফহাতা শার্ট এখন শুধু তরুণদের ফ্যাশন নয়, বরং সব বয়সী পুরুষের দৈনন্দিন পোশাকের একটি স্বাভাবিক ও স্টাইলিশ অংশ হয়ে উঠেছে। 
গরমকালকে সামনে রেখে হাফহাতা হাতা শার্টে স্টাইলিশ সব সংগ্রহ পাওয়া যাচ্ছে–আড়ং, ইয়েলো, ক্যাটস আই, অঞ্জন’স, রঙ বাংলাদেশ, বিশ্বরঙ, এক্সট্যাসিসহ বিভিন্ন ফ্যাশন হাউসে। এ ব্যাপারে ফ্যাশন হাউস কে ক্রাফটের স্বত্বাধিকারী খালিদ মাহমুদ খান জানান, গরমের উপযোগী প্রিমিয়াম কটন কাপড়ে তৈরি আরামদায়ক এসব শার্টে রয়েছে সফট রং, ছোট চেক, মিনিমাল প্রিন্ট ও আরামদায়ক কাটিং। অফিস, ক্যাজুয়াল আড্ডা কিংবা ঘোরাঘুরি–সব ক্ষেত্রেই মানানসই এ শার্টগুলো। 
বর্তমান বাজারে সাধারণ কটন শার্ট পাওয়া যাচ্ছে ৮০০ থেকে এক হাজার ৫০০ টাকায়। ব্র্যান্ডের শার্টগুলো পাবেন এক হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকার মধ্যে। 

আরও পড়ুন

×