ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

পছন্দের পাঞ্জাবি

পছন্দের পাঞ্জাবি
×

রোজী আরেফিন  

প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৬ | ০৭:১০

| প্রিন্ট সংস্করণ

ঈদ মানেই পরিবার, ব্যস্ততা, আড্ডা আর পরিপাটি সাজে নিজেকে উপস্থাপন করার বিশেষ সময়। এ উৎসবকে ঘিরে পুরুষদের ফ্যাশনে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় পাঞ্জাবি। সময়ের সঙ্গে ডিজাইনে পরিবর্তন এলেও পাঞ্জাবির আবেদন একটুও কমেনি। বরং এখন ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিক কাট ও আরামদায়ক ফেব্রিকের মিশেলে তৈরি হচ্ছে নতুন ধরনের ঈদ কালেকশন; যা তরুণ থেকে মধ্যবয়সী– সব বয়সের পুরুষের কাছেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। 

ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে বাজারজুড়ে দেখা গেছে, স্ট্রেইট কাট, স্লিম ফিট ও পাঠানি ফিউশন পাঞ্জাবির আধিপত্য। অনেকেই এখন ভারী কারুকাজের বদলে বেছে নিচ্ছেন সাদামাটা অথচ রুচিশীল নকশা, সূক্ষ্ম এমব্রয়ডারি, হাতের সেলাইয়ে অনুপ্রাণিত কাজ এবং পরিমিত নকশা পাঞ্জাবিগুলোকে এনে দিচ্ছে আভিজাত্যপূর্ণ লুক। কালো, অলিভ, মেরুন, অফ হোয়াইট, কফি ও ধূসর টোনের পাঞ্জাবির প্রতিও এবার ক্রেতার আগ্রহ বেশি। বর্তমানে তরুণদের মধ্যে ‘সাধারণ কিন্তু অভিজাত’ নকশার চাহিদা বাড়ছে চোখে পড়ার মতো। 
ফেব্রিকেও এসেছে বৈচিত্র্য। জ্যাকার্ড, টুইল, ভিসকস, ব্লেন্ডেড ফেব্রিক ও টেক্সচার্ড সলিড কাপড়ে তৈরি পাঞ্জাবিগুলো যেমন দেখতে স্টাইলিশ, তেমনি আরামদায়ক। দীর্ঘ সময় পরে থাকা যায়। গরম আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখে অনেক ব্র্যান্ড এবার এমন কাপড় ব্যবহার করছে, যা সহজে কুঁচকে যায় না এবং দীর্ঘ সময় স্বস্তি দেয়। ফলে ঈদের দিনের ব্যস্ততা বা কোরবানির কাজের মধ্যেও পোশাকে থাকে স্বাচ্ছন্দ্য। 

দামের ক্ষেত্রেও এবার ঈদের বাজারে রয়েছে নানা বৈচিত্র্য। সাধারণ কটন বা সেমি ফরমাল পাঞ্জাবির দাম শুরু হচ্ছে প্রায় এক হাজার ৫০০ থেকে তিন হাজার টাকার মধ্যে। অন্যদিকে প্রিমিয়াম ফেব্রিক, জ্যাকার্ড কাজ, মিনিমাল এমব্রয়ডারি ও ডিজাইনার কাটের পাঞ্জাবির দাম চার থেকে আট হাজার টাকা বা তারও বেশি। কাবলি সেট ও ওয়েস্টকোটের ক্ষেত্রেও দেখা যাচ্ছে দামের তারতম্য। বাবা-ছেলের ম্যাচিং সেটগুলোও এবার বেশ জনপ্রিয়। যেগুলোর দাম ডিজাইন ও কাপড়ভেদে ভিন্ন হচ্ছে। বর্তমানে অনেক ক্রেতাই শুধু কম দামের দিকে নয়, বরং কাপড়ের মান, ফিটিং ও দীর্ঘদিন ব্যবহারযোগ্য ডিজাইনকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। 

এবারের ঈদুল আজহা উপলক্ষে ফ্যাশন হাউস ‘লা রিভ’ এনেছে পুরুষদের জন্য সেমি ও প্রিমিয়াম পাঞ্জাবি, কাবলি সেট, ওয়েস্টকোট। তাদের সংগ্রহে জ্যাকার্ড, টুইল, ভিসকস ও সূক্ষ্ম জ্যামিতিক প্রিন্টের ব্যবহার পোশাকগুলোকে দিয়েছে আধুনিক ও উৎসব উপযোগী লুক। অন্যদিকে ‘রঙ বাংলাদেশ’ তাদের ঈদ আয়োজনে গুরুত্ব দিয়েছে স্ট্রেইট কাট, স্লিম ফিট ও পাঠানি ফিউশন পাঞ্জাবিতে। মিনিমাল এমব্রয়ডারি, আর্থি কালার ও প্রিমিয়াম ফেব্রিকের কারণে তাদের কালেকশনে দেখা যাচ্ছে আভিজাত্য ও সরলতার মিশেল। 

সময় ও আয়োজনভেদে পাঞ্জাবির স্টাইল
এখনকার ঈদ ফ্যাশনে শুধু ডিজাইন নয়–সময় ও আয়োজন অনুযায়ী পাঞ্জাবি বেছে নেওয়ার প্রবণতাও বেড়েছে। সকালের কোরবানির কাজ, আত্মীয়দের বাসায় যাওয়া বা ঘরোয়া আড্ডার জন্য অনেকেই বেছে নিচ্ছেন হালকা রঙের কটন, ভিসকস কিংবা সিম্পল টেক্সচার্ড পাঞ্জাবি। অন্যদিকে বিকেল বা রাতের দাওয়াত, রেস্টুরেন্ট গেট টুগেদার কিংবা পারিবারিক অনুষ্ঠানের জন্য গাঢ় রং, জ্যাকার্ড ফেব্রিক, মিনিমাল এমব্রয়ডারি বা পাঠানি ফিউশন পাঞ্জাবির চাহিদা বেশি দেখা যাচ্ছে। অফিসিয়াল বা সেমি ফরমাল আয়োজনের ক্ষেত্রেও এখন স্ট্রেইট কাট ও সলিড টোনের পাঞ্জাবি বেশ জনপ্রিয়। অনেকে আবার একই পাঞ্জাবির সঙ্গে কটি, ওয়েস্টকোট, হাতঘড়ি বা চামড়ার স্যান্ডেল যোগ করে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে আলাদা লুক তৈরি করছেন। 

বাবা-ছেলের ম্যাচিং পাঞ্জাবিতে বিশেষ আবহ
ঈদ ফ্যাশনে এখন বাবা-ছেলের ম্যাচিং পাঞ্জাবি হয়ে উঠেছে বিশেষ এক ট্রেন্ড। একই ডিজাইন, কাছাকাছি রং কিংবা মিল রেখে তৈরি করা পাঞ্জাবিতে বাবা ও সন্তানকে একসঙ্গে দেখা গেলে সেটি যেমন পারিবারিক বন্ধনের অনুভূতি বাড়ায়, তেমনি উৎসবের আনন্দকেও করে তোলে আরও প্রাণবন্ত। বিশেষ করে ঈদের নামাজ, পারিবারিক ছবি তোলা বা আত্মীয়দের বাসায় ঘুরতে যাওয়ার সময় ম্যাচিং আউটফিট আলাদা আকর্ষণ তৈরি করে। এবার বিভিন্ন ব্র্যান্ডও শিশু থেকে বড়দের জন্য একই থিমে তৈরি করছে পাঞ্জাবি কালেকশন, যেখানে থাকছে আরামদায়ক কাপড়, হালকা ডিজাইন ও উৎসব

উপযোগী রঙের ব্যবহার। 
শুধু পাঞ্জাবিতেই সীমাবদ্ধ নয় এবারের ট্রেন্ড। কাবলি সেট, ওয়েস্টকোট ও কটির ব্যবহারও বেড়েছে অনেক। অনেকে সাদামাটা পাঞ্জাবির সঙ্গে কটি বা ওয়েস্টকোট যোগ করে তৈরি করছেন আলাদা রুচির ছাপ। বর্তমান প্রজন্ম এখন এমন পোশাক খুঁজছে, যা ঈদের দিন যেমন মানানসই, তেমনি পরে অন্য অনুষ্ঠানেও ব্যবহার করা যায়। তাই ডিজাইনে আভিজাত্য থাকলেও বাড়তি চাকচিক্যের বদলে আরাম, ফিটিং ও রুচিশীলতাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন ক্রেতারা। 

ছবি: রঙ বাংলাদেশ ও সেইলর

আরও পড়ুন

×