ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ত্বকের উজ্জ্বলতায় হাইড্রাফেসিয়াল

ত্বকের উজ্জ্বলতায় হাইড্রাফেসিয়াল
×

ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বাড়াতে হাইড্রাফেসিয়াল আজকাল বেশ জনপ্রিয়

শারমিন রহমান 

প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬ | ০৭:২৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

ঈদের আগে ত্বকের যত্নে ফেসিয়াল করান অনেকে। আগে রূপসচেতনরা হারবাল, ফ্রুট কিংবা গোল্ড ফেসিয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও, এখন অনেকেই ঝুঁকছেন হাইড্রাফেসিয়ালের দিকে। পরিপক্ব, ব্রণপ্রবণ ত্বকে এটি বেশ ভালো কাজ করে। ত্বককে ভেতর থেকে পরিষ্কার করার পাশাপাশি ঔজ্জ্বল্য বাড়াতে এ ফেসিয়াল কার্যকর। তাই বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও পরিচিত ফেসিয়াল এই হাইড্রাফেসিয়াল। এটি ত্বকে হাইড্রেশন বাড়ায়। ছোট ছোট বলিরেখা দূর করে। প্রতিদিনের কাজের চাপের ক্লান্তি, রোদে পোড়া ভাব দূর করে। তবে ইচ্ছে হলেই হাইড্রাফেসিয়াল করানো ঠিক নয়।
এই ফেসিয়াল করার আগে জানতে হবে কেন হাইড্রাফেসিয়াল করবেন–কোন ধরনের ত্বকের জন্য হাইড্রাফেসিয়াল উপযোগী, কাদের করা উচিত নয় ইত্যাদি।  

কেন হাইড্রাফেসিয়াল করবেন 
পরিচ্ছন্নতা ও এক্সফোলিয়েশন: ত্বকের লোমকূপের গভীরে জমে থাকা ময়লা এবং অতিরিক্ত তেল দূর করে এ ফেসিয়াল। 
তাৎক্ষণিক ঔজ্জ্বল্য: ত্বকের মৃত কোষ দূর করে তাৎক্ষণিক উজ্জ্বল ও সতেজ ভাব এনে দেয়। 
হাইড্রেটেড ও পুষ্টি: ত্বকে বিশেষ সিরাম প্রয়োগ করে প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা জোগায়। ফলে ত্বক শুষ্ক হয় না।
ব্রণ ও ব্ল্যাকহেডস নিয়ন্ত্রণ: ব্রণের সমস্যা কমায় এবং ব্ল্যাকহেডস বা হোয়াইটহেডস পরিষ্কার করে।
বয়সের ছাপ কমানো: সূক্ষ্ম রেখা ও বলিরেখা কমিয়ে ত্বকের গঠন উন্নত করে।
ত্বকের অমসৃণতা দূর: রোদে পোড়া দাগ, পিগমেন্টেশন কমিয়ে ত্বকের টোন সমান করতে সাহায্য করে।
তাৎক্ষণিক ফল: সাধারণত একটি সেশনেই দৃশ্যমান পরিবর্তন বোঝা যায় এবং এটি সব ধরনের ত্বকের জন্য উপযোগী।

কোন ধরনের ত্বকের জন্য হাইড্রাফেসিয়াল উপযোগী 
তৈলাক্ত, শুষ্ক, মিশ্র বা সংবেদনশীল যে কোনো ধরনের ত্বকের অধিকারীরাই এ ফেসিয়াল করাতে পারেন। ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সের যে কোনো পুরুষ ও মহিলা এটি করতে পারেন। ২০ বছরের পর থেকে ত্বকের যত্নে এটি ভালো কাজ করে।
যাদের ত্বকে ব্রণের সমস্যা, ব্ল্যাকহেডস, হোয়াইটহেডস, পিগমেন্টেশন বা ডার্ক স্পট আছে তাদের জন্য এটি উপযোগী। সূক্ষ্ম রেখা বা বলিরেখা কমাতে, নিস্তেজ ত্বক প্রাণবন্ত করতে এ ফেসিয়াল ভালো কাজ করে। 

হাইড্রাফেসিয়াল যাদের জন্য নয়
যাদের ত্বকে সংক্রমণ বা ইনফেকশন রয়েছে, যাদের মুখে গুরুতর বা সিস্টিক ব্রণ রয়েছে, তাদের এই ট্রিটমেন্ট এড়িয়ে চলাই ভালো। একজিমা বা সোরিয়াসিসের মতো ত্বকের সমস্যা থাকলে এটি ত্বকের ক্ষতি করতে পারে। মুখের ত্বকে কোনো কাটা, পোড়া বা খোলা ক্ষত থাকলে হাইড্রাফেসিয়াল করা যাবে না। সম্প্রতি যারা লেজার ট্রিটমেন্ট বা কেমিক্যাল পিল করিয়েছেন, তারা এ ফেসিয়াল করানোর আগে অন্তত কয়েক সপ্তাহ অপেক্ষা করুন। কারণ তাদের ত্বক সংবেদনশীল থাকে। এ ছাড়া যাদের ত্বক অনেক সংবেদনশীল, যাদের ত্বকে সাধারণ কিছুতেই অ্যালার্জিক রিঅ্যাকশন হয়, তাদের হাইড্রাফেসিয়াল না করাই ভালো। ১৮ বছর বয়সের নিচের কারও হাইড্রাফেসিয়াল করা উচিত নয়। যদি ত্বক সুস্থ ও সুন্দর থাকে তাহলে ২০-২৫ বছর পর্যন্ত ক্লিনিক্যাল হাইড্রাফেসিয়াল করা থেকে বিরত থাকা উচিত। 
অন্তঃসত্ত্বা বা দুগ্ধদানকারী মায়েদের ক্ষেত্রেও অনেক সময় এই ধরনের ফেসিয়াল এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়। যে কোনো ধরনের ফেসিয়াল করার আগে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ বা পেশাদার থেরাপিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

কোথায় করাবেন হাইড্রাফেসিয়াল
ঢাকার বিভিন্ন অ্যাসথেটিক হাব, কসমেসিউটিক্যালস ক্লিনিকে এ ধরনের সেবা নেওয়া যায়। এসব অ্যাসথেটিক হাব ও ক্লিনিকগুলোয় দক্ষ চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ কিংবা সৌন্দর্যসেবা বিশেষজ্ঞ নিয়োজিত থাকেন। তাদের পরামর্শ নিয়ে এ ট্রিটমেন্ট তথা ফেসিয়াল নিলে উপকার মিলবে। এ ছাড়া বিভিন্ন বিউটি পার্লারে এখন হাইড্রাফেসিয়াল সেবা চালু করেছে। ভালো পার্লার বা বিউটি স্যালন থেকে হাইড্রাফেসিয়াল করালে ত্বকের ক্ষতি কম হবে। দৃশ্যমান উপকার মিলবে। 
খরচ কত? 
হাইড্রাফেসিয়াল করাতে তিন হাজার বা তার বেশি টাকা খরচ হবে। বায়ো হাইড্রাফেসিয়াল করাতে খরচ হবে সাত হাজারের বেশি টাকা। অনেক পার্লার বা স্যালনে এর থেকে কমে এ ফেসিয়াল করার বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। সেসব প্রলোভনে না পড়াই ভালো। 

সতর্কতা 
যে উৎসবকে কেন্দ্র করে হাইড্রাফেসিয়াল করাবেন, তার অন্তত ৭২ ঘণ্টা আগে ফেসিয়াল করাতে হবে। ফেসিয়াল করার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কোনো স্কিন কেয়ার পণ্য  ব্যবহার করা যাবে না। ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কোনো ধরনের মেকআপ ব্যবহার করা যাবে না। 

আরও পড়ুন

×